ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ মে ২০২৪, ১৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ বগুড়া শিবগঞ্জে নাতির রাম দা’র কোপে নানী খুন ফুটপাত উদ্ধার করতে হবে: মেয়র রেজাউল আন্তর্জাতিক মে দিবস পালন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাসাদ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয় রাঙ্গুনিয়ায় চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানে প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন প্রার্থী ভোট হবে ভাইস চেয়ারম্যানের (চার প্রার্থীর মধ্যে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই জনের মধ্যে।) “কেরানীগঞ্জে এক হাজার পথচারীদের মাঝে শরবত বিতরণ করলেন সাংবাদিকরা” লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ পুরস্কার নিয়ে বির্তক দিঘলিয়ায় মে দিবস পালিত। মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের র‌্যালি ও সমাবেশ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড বাসস্ট্যান্ড তীব্রতাপ প্রভায়ে খাবার পানি ও স্যালাইন বিতরণ

গ্যাস সংকটে দনিয়াবাসি, মাটির চুলাই একমাত্র ভরসা

লিটন আহমেদ

চরম গ্যাস সংকটে রাজধানীর কদমতলী থানার দনিয়াবাসি। বাসাবাড়ির চুলায় দিনের বেশীরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন এখানের কয়েকটি এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। ফলে রান্না করতে ব্যাপক বিপাকে পরেন এসব এলাকার গৃহিণীরা। এলাকাবাসি জানান, ভোরে গ্যাস চলে যায়। আসে রাত ১১ টায়। মাঝে মাঝে দুপুরে আসলেও চাপ থাকে একেবারেই কম। এমনকি দুপুরে এসে কিছুক্ষন থাকার পর আবার চলে যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬১নম্বর ওয়ার্ডের দনিয়া, সরাই, আনন্দ বাজার, পাটেরবাগ, ডিপটির গলি ও কুতুবখালিসহ কিছু এলাকায় বাসাবাড়ির চুলায় দিনের বেশীরভাগ সময় গ্যাস সরবরাহ থাকেনা। এসব এলাকায় রয়েছে প্রায় একলক্ষ টিনসেড বাড়ী থেকে শুরু করে পাকা উচু ভবন। এসব এলাকায় বসবাসরত কয়েকলক্ষ পরিবার কয়েকমাস যাবত গ্যাস সংকটে ভুগছেন। ফলে অনেক সামর্থ্যবানরা রান্নার জন্য কিনেছেন ইলেক্ট্রিক চুলা, কেহ ব্যবহার করছেন গ্যাস সিলিন্ডার। আর অধিকাংশ পরিবার বাধ্য হচ্ছেন লাকড়ির চুলার ওপর। তারা মাটির চুলা বানিয়ে লাকড়ি দিয়ে অনেক কষ্টে রান্না করে জীবীকা নির্বাহ করছেন। কিন্ত শহরে লাকড়ি কিনতেও তাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।
এলাকাবাসির অভিযোগ, মাসের পর মাস গ্যাসের চুলার বিল দিতে হচ্ছে। বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দেওয়া হয়। অথচ লাইনে গ্যাসই থাকেনা। অন্যদিকে সিলিন্ডার ব্যবহারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অনেকে জানান, যথাসময়ে রান্না করতে না পারায় শিশু বাচ্চাদের নিয়ে সমস্যায় পরতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে ভোরে কোনরকম রান্না করে সেটা সারাদিন ঠান্ডা খাবারই খেতে বাধ্য হচ্ছেন। আর নিম্নমধ্যবিত্তরা বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করছে। চলে যাচ্ছে ভাড়াটিয়ারাও। এব্যপারে এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় কাউন্সিলরকে বারবার জানালেও কোন কাজ হচ্ছে না।
এব্যপারে আনন্দ বাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, কয়েকমাস যাবত ভোরে গ্যাস চলে যায় রাতে আসে। ভাড়াটিয়া চলে গেছে। যারা আছে, তারা কেহ সিলিন্ডার ব্যবহার করে। কেহ ছাদে গিয়ে লাকড়ি দিয়ে রান্না করে। দনিয়ার গৃহিণী আসমা বেগম জানান, ভোরে গ্যাস চলে যায়, রাতে আসে। তাই ভোরে গ্যাস থাকতে রান্না করি। সেই খাবারই সারাদিন ঠান্ডা খেতে হয়। কিন্ত প্রতিমাসে গ্যাসের বিল ঠিকই দিতে হয়। সরাই এলাকার ১০৩ বছর বয়সের ইয়ারননেছাকে রবিবার বিকেল প্রায় চারটায় লাকরি দিয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে দেখা যায়। তিনিও ভোরে গ্যাস চলে যায় ও রাত ১১ টার দিকে আসে বলে জানান। কোনদিন দুপুরে আসলেও সেটা বেশীক্ষণ থাকেনা। তাই লাকরিই আামাদের ভরসা। বাচ্চাকাচ্চা সময়মত খেতে পারেনা। দনিয়ার আরেক প্রবীন বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রায় এক বছর যাবত গোটা দনিয়ার সব বাড়ীতেই গ্যাসের এই সমস্যা। এব্যপারে আমারা এলাকার জনগন স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছি। কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এব্যপারে স্থানীয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬১নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুম্মন মিয়া দৈনিক মাতৃভূমির খবর পত্রিকাকে জানান, আমার বাড়িতেই গ্যাস থাকে না। এব্যপারে এলাকাবাসি আমাকে বলেছে। আমিও তিতাস গ্যাসের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ করেছি। কিন্ত এখনও কোন কাজ হয়নি। এবিষয়ে তিতাস গ্যাস হাটখোলা জোনাল কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম দৈনিক মাতৃভূমির খবর পত্রিকাকে জানান, এসব ব্যপার নিয়ে আমাদের অপারেশন ও প্ল্যানিং বিভাগ কাজ করছে। এছাড়া আমাদের গ্যাস চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ থাকায় আবাসিকে গ্যস সংকট দেখা দিচ্ছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হবে।

Tag :

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ

গ্যাস সংকটে দনিয়াবাসি, মাটির চুলাই একমাত্র ভরসা

আপডেট টাইম ১০:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

লিটন আহমেদ

চরম গ্যাস সংকটে রাজধানীর কদমতলী থানার দনিয়াবাসি। বাসাবাড়ির চুলায় দিনের বেশীরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন এখানের কয়েকটি এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। ফলে রান্না করতে ব্যাপক বিপাকে পরেন এসব এলাকার গৃহিণীরা। এলাকাবাসি জানান, ভোরে গ্যাস চলে যায়। আসে রাত ১১ টায়। মাঝে মাঝে দুপুরে আসলেও চাপ থাকে একেবারেই কম। এমনকি দুপুরে এসে কিছুক্ষন থাকার পর আবার চলে যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬১নম্বর ওয়ার্ডের দনিয়া, সরাই, আনন্দ বাজার, পাটেরবাগ, ডিপটির গলি ও কুতুবখালিসহ কিছু এলাকায় বাসাবাড়ির চুলায় দিনের বেশীরভাগ সময় গ্যাস সরবরাহ থাকেনা। এসব এলাকায় রয়েছে প্রায় একলক্ষ টিনসেড বাড়ী থেকে শুরু করে পাকা উচু ভবন। এসব এলাকায় বসবাসরত কয়েকলক্ষ পরিবার কয়েকমাস যাবত গ্যাস সংকটে ভুগছেন। ফলে অনেক সামর্থ্যবানরা রান্নার জন্য কিনেছেন ইলেক্ট্রিক চুলা, কেহ ব্যবহার করছেন গ্যাস সিলিন্ডার। আর অধিকাংশ পরিবার বাধ্য হচ্ছেন লাকড়ির চুলার ওপর। তারা মাটির চুলা বানিয়ে লাকড়ি দিয়ে অনেক কষ্টে রান্না করে জীবীকা নির্বাহ করছেন। কিন্ত শহরে লাকড়ি কিনতেও তাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।
এলাকাবাসির অভিযোগ, মাসের পর মাস গ্যাসের চুলার বিল দিতে হচ্ছে। বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দেওয়া হয়। অথচ লাইনে গ্যাসই থাকেনা। অন্যদিকে সিলিন্ডার ব্যবহারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অনেকে জানান, যথাসময়ে রান্না করতে না পারায় শিশু বাচ্চাদের নিয়ে সমস্যায় পরতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে ভোরে কোনরকম রান্না করে সেটা সারাদিন ঠান্ডা খাবারই খেতে বাধ্য হচ্ছেন। আর নিম্নমধ্যবিত্তরা বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করছে। চলে যাচ্ছে ভাড়াটিয়ারাও। এব্যপারে এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় কাউন্সিলরকে বারবার জানালেও কোন কাজ হচ্ছে না।
এব্যপারে আনন্দ বাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, কয়েকমাস যাবত ভোরে গ্যাস চলে যায় রাতে আসে। ভাড়াটিয়া চলে গেছে। যারা আছে, তারা কেহ সিলিন্ডার ব্যবহার করে। কেহ ছাদে গিয়ে লাকড়ি দিয়ে রান্না করে। দনিয়ার গৃহিণী আসমা বেগম জানান, ভোরে গ্যাস চলে যায়, রাতে আসে। তাই ভোরে গ্যাস থাকতে রান্না করি। সেই খাবারই সারাদিন ঠান্ডা খেতে হয়। কিন্ত প্রতিমাসে গ্যাসের বিল ঠিকই দিতে হয়। সরাই এলাকার ১০৩ বছর বয়সের ইয়ারননেছাকে রবিবার বিকেল প্রায় চারটায় লাকরি দিয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে দেখা যায়। তিনিও ভোরে গ্যাস চলে যায় ও রাত ১১ টার দিকে আসে বলে জানান। কোনদিন দুপুরে আসলেও সেটা বেশীক্ষণ থাকেনা। তাই লাকরিই আামাদের ভরসা। বাচ্চাকাচ্চা সময়মত খেতে পারেনা। দনিয়ার আরেক প্রবীন বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রায় এক বছর যাবত গোটা দনিয়ার সব বাড়ীতেই গ্যাসের এই সমস্যা। এব্যপারে আমারা এলাকার জনগন স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছি। কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এব্যপারে স্থানীয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬১নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুম্মন মিয়া দৈনিক মাতৃভূমির খবর পত্রিকাকে জানান, আমার বাড়িতেই গ্যাস থাকে না। এব্যপারে এলাকাবাসি আমাকে বলেছে। আমিও তিতাস গ্যাসের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ করেছি। কিন্ত এখনও কোন কাজ হয়নি। এবিষয়ে তিতাস গ্যাস হাটখোলা জোনাল কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম দৈনিক মাতৃভূমির খবর পত্রিকাকে জানান, এসব ব্যপার নিয়ে আমাদের অপারেশন ও প্ল্যানিং বিভাগ কাজ করছে। এছাড়া আমাদের গ্যাস চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ থাকায় আবাসিকে গ্যস সংকট দেখা দিচ্ছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হবে।