ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাসারা উচ্চ বিদ্যালয় এর গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ। প্রশান্তি আবাসিকে রাস্তার উদ্বোধন করলেন মেয়র বাকেরগঞ্জের প্রথম শহীদ মিনারটি অযত্নে অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সিলেট নগরীতে হঠাৎ করে বেড়েছে মশার উপদ্রব মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন পূরণে হাত বাড়ালেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মনপুরায় ইউপি সদস্যের আত্মীয়ের কাছ থেকে ভিজিএফের চাল জব্দ সুশৃঙ্খল সুরক্ষিত হাইওয়ে মহাসড়ক’ হাইওয়ে পুলিশের সেবা সপ্তাহ—২০২৪ হাইওয়ে পুলিশের সেবা সপ্তাহ—২০২৪ ’সুশৃঙ্খল সুরক্ষিত মহাসড়ক’ শিরোনামে টাঙ্গাইলে গৃহায়ন তহবিলের তালিকাভুক্ত এনজিও প্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে মতবিনিময় অপ্রাপ্ত বয়সেই ৩ বিয়ে, সংবাদ করায় ৪ সাংবাদিকের নামে মামলা

একলা পথিক

অদিতি (ছদ্মনাম)। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে চাকরি করছে। চাকরির বয়সও বেশ কয়েক বছর। সদালাপী, বিনয়ী হলেও দেখতে তথাকথিত সুন্দরীর পর্যায়ে পড়ে না। প্রেমে পড়ার সময় ও সুযোগ কোনোটাই তার হয়নি। এখন পারিবারিকভাবেই পাত্র দেখা হচ্ছে অনেক দিন ধরে।
সেদিনের ঘটনা, নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে। প্রথম দিন অফিসে গিয়ে রীতিমতো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হলো তাকে। বস যখন শুনলেন এখনো বিয়ে করেনি অদিতি; তখন অন্য সহকর্মীদের সামনে আঙুলে গুনে গুনে হিসাব করে দেখলেন, মেয়েটার বয়স ৩০ পেরিয়ে গেছে। অদিতির বস অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, এখনো বিয়ে হয়নি কেন? সমস্যাটা কোথায়?
এ অবশ্য নতুন নয়। ঠিক একই রকম পরিস্থিতে অদিতিকে এর আগেও বহুবার পড়তে হয়েছে। অথচ ব্যাপারটা এমন নয়, সে একা থাকার ব্রত নিয়েছে। আর বিয়েটা তো চেয়ার বা সোফা নয় যে মন চাইলেই বসে পড়া যাবে! তবুও এ কথাটা বলে অনেকেই অপার্থিব আনন্দ পায়, আহা কী আনন্দ! কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী তো সামনে পেলেই উপদেশ ঝাড়তে থাকে, ‘ছাড় দাও। বয়স হয়েছে না!’
এ ছাড় দেওয়াটা কোন পর্যায়ের, সেটাই অদিতির মাথায় আজকাল ঢোকে না। তাদের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয়, যে করেই হোক কোনো একজন ছেলের গলায় যত দ্রুত সম্ভব বরমাল্য দিয়ে আপাতত এ সমাজ উদ্ধার করতে হবে। তা না হলে যে টিকে থাকা দায়। অনেকের ভাবখানা এমন, এ সমাজ একটা যুদ্ধক্ষেত্র আর স্বামীরা হচ্ছে বর্ম আর ঢালস্বরূপ।

২.
নেহার (ছদ্মনাম) সঙ্গে আমার পরিচয় বেশ কয়েক মাসের। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তেমন আলাপ হয়ে ওঠেনি কখনো। আজ হঠাৎ তাকে একটা ফরমের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী ব্যাপার?’ সে বেশ চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, ‘কী করি বল তো? বিবাহিত বা অবিবাহিত কোনো পর্যায়েই তো আমি পড়ি না, তাহলে টিক দেব কোনটাতে?’ ফরমটা ইংরেজিতে হলেও বাঁচা যেত, একা দিতে পারতাম। আমি বললাম, ‘মানে?’ সে বলল, ‘মানে হলো আমি ডিভোর্সি। আসলে কি জানো, আমি যখনই কাউকে নির্লিপ্তভাবে বলি ডিভোর্সি তখন বেশির ভাগ মানুষ এমনভাবে তাকায় যেন আমি ভিনগ্রহের প্রাণী। আর নানা কৌশলে বোঝানোর চেষ্টা করে এমন ভয়ানক পরিস্থিতির জন্য আমার ঔদ্ধত্য, উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনই দায়ী। অনেকে আবার বিয়ের প্রস্তাব এনে আমাকে উদ্ধারের মহান কার্যক্রম শুরু করে। সেসব পাত্রের বেশির ভাগই ডিভোর্সি এবং দু-এক সন্তানের জনক আর বয়সে আমার চেয়ে ৮-১০ বছরের বড়। অথচ একটা ডিভোর্সি ছেলে যখন বিয়ে করতে যায় তখন ঠিকই অবিবাহিত মেয়ে খোঁজে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়। তখন পাত্রীপক্ষ আর পাত্রপক্ষ এক হয়ে আগের বউয়ের কুৎসা রটনায় মশগুল থাকে। এমনকি নববিবাহিতা মেয়েটিও ভাবে দোষ আগের বউয়ের; কারণ সে মানিয়ে নিতে পারেনি।’
একটু থেমে নেহা আবার বলতে শুরু করল, ফেসবুকে আমার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ‘সিঙ্গেল’ দেখে একজন কটাক্ষ করে বলল, ‘তুমি আবার একা হলে কবে থেকে?’ আমি বললাম, ‘একা মানে একা; আর আমি যেহেতু একা তাহলে কেন লিখব না?’ সে বলল, ‘এটা কি পশ্চিমা বিশ্ব নাকি? সিঙ্গেল!’ আমি বললাম, ‘নিজের সমস্ত দায়ভার নিজে নিতে পারব অথচ বলতে পারব না আমি একা?’ সে মুচকি হেসে বলল, ‘তুমি না ডিভোর্সি!’

৩.
কলেজের একজন শিক্ষক, বয়স ৩৪-৩৫ বছর। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক সন্তানের জননী। আদর্শ শিক্ষক বলতে যা বোঝায় তিনি ঠিক তাই ছিলেন। তবে দুর্বলতা একটাই, এ বয়সেই অকাল বৈধব্যের বোঝা ছিল তাঁর কাঁধে। তাই তো তিনি কারও সঙ্গেই হেসে কথা বললেই আশপাশের সবাই এমন উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাত যে এ বুঝি কিছু হয়ে গেল। অপরিচিত কেউ যদি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন, হোক তিনি পারিবারিক বা অফিশিয়াল যে কারণেই, সবাই বাজ পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষকের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে অনেকেই সন্দিহান হতে, অথচ তাঁর ছেলে ছিল আমাদের সহপাঠী। অনেকে তো তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের দাওয়াত খাওয়ার আশায় হাত-মুখ ধুয়ে অপেক্ষা করছিল। তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে আশপাশের সবাইকে তাঁর জন্য খুব চিন্তিত(!) মনে হতো। এসব সামাজিকতার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে একসময় বদলি হয়ে তিনি অন্যত্র চলে গেলেন। সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ছেলেকে নিয়ে বাকি জীবনটা একাই চলেছেন।
আমাদের সমাজে একা নারী, হোক তিনি অবিবাহিত, ডিভোর্সি অথবা বিধবা—কেন জানি তাঁদের চলার পথটা মসৃণ হয় না। তাঁরা যতই চান একটা স্বাভাবিক, স্বতঃস্ফূর্ত জীবন যাপন করতে; আমরা ততই তাঁদের এ চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াই। কোনো এক বিচিত্র কারণে তাঁদের আমরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না। নিতে পারি না তাঁদের এই একা ও স্বনির্ভর পথ চলাকে।
অনেকের ক্ষেত্রেই এই একা পথ চলাটা সাময়িক, অনেকের আবার স্থায়ী। আর সবচেয়ে বড় কথা মানুষ একা থাকার প্রাণী না। একা থাকার একধরনের চাপা কষ্ট আছে, ভয় আছে, দুশ্চিন্তা আছে, অস্থিরতা আছে, অনিশ্চয়তা আছে। কারও কারও ক্ষেত্রে একা থাকাটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়েও দেখা দেয়। তবুও এত কষ্ট, অনিশ্চয়তা নিজের ভেতর পুষে রেখে তাঁরা জীবন ধারণ করছেন। অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেই নিজের পথ চলার অবলম্বন হয়েছেন। অন্তত সে জন্য হলেও আমাদের উচিত তাঁদের প্রতি সম্মান দেখানো।

লেখক: চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

Tag :

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাসারা উচ্চ বিদ্যালয় এর গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ।

একলা পথিক

আপডেট টাইম ১২:৪৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই ২০১৮

অদিতি (ছদ্মনাম)। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে চাকরি করছে। চাকরির বয়সও বেশ কয়েক বছর। সদালাপী, বিনয়ী হলেও দেখতে তথাকথিত সুন্দরীর পর্যায়ে পড়ে না। প্রেমে পড়ার সময় ও সুযোগ কোনোটাই তার হয়নি। এখন পারিবারিকভাবেই পাত্র দেখা হচ্ছে অনেক দিন ধরে।
সেদিনের ঘটনা, নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে। প্রথম দিন অফিসে গিয়ে রীতিমতো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হলো তাকে। বস যখন শুনলেন এখনো বিয়ে করেনি অদিতি; তখন অন্য সহকর্মীদের সামনে আঙুলে গুনে গুনে হিসাব করে দেখলেন, মেয়েটার বয়স ৩০ পেরিয়ে গেছে। অদিতির বস অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, এখনো বিয়ে হয়নি কেন? সমস্যাটা কোথায়?
এ অবশ্য নতুন নয়। ঠিক একই রকম পরিস্থিতে অদিতিকে এর আগেও বহুবার পড়তে হয়েছে। অথচ ব্যাপারটা এমন নয়, সে একা থাকার ব্রত নিয়েছে। আর বিয়েটা তো চেয়ার বা সোফা নয় যে মন চাইলেই বসে পড়া যাবে! তবুও এ কথাটা বলে অনেকেই অপার্থিব আনন্দ পায়, আহা কী আনন্দ! কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী তো সামনে পেলেই উপদেশ ঝাড়তে থাকে, ‘ছাড় দাও। বয়স হয়েছে না!’
এ ছাড় দেওয়াটা কোন পর্যায়ের, সেটাই অদিতির মাথায় আজকাল ঢোকে না। তাদের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয়, যে করেই হোক কোনো একজন ছেলের গলায় যত দ্রুত সম্ভব বরমাল্য দিয়ে আপাতত এ সমাজ উদ্ধার করতে হবে। তা না হলে যে টিকে থাকা দায়। অনেকের ভাবখানা এমন, এ সমাজ একটা যুদ্ধক্ষেত্র আর স্বামীরা হচ্ছে বর্ম আর ঢালস্বরূপ।

২.
নেহার (ছদ্মনাম) সঙ্গে আমার পরিচয় বেশ কয়েক মাসের। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তেমন আলাপ হয়ে ওঠেনি কখনো। আজ হঠাৎ তাকে একটা ফরমের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী ব্যাপার?’ সে বেশ চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, ‘কী করি বল তো? বিবাহিত বা অবিবাহিত কোনো পর্যায়েই তো আমি পড়ি না, তাহলে টিক দেব কোনটাতে?’ ফরমটা ইংরেজিতে হলেও বাঁচা যেত, একা দিতে পারতাম। আমি বললাম, ‘মানে?’ সে বলল, ‘মানে হলো আমি ডিভোর্সি। আসলে কি জানো, আমি যখনই কাউকে নির্লিপ্তভাবে বলি ডিভোর্সি তখন বেশির ভাগ মানুষ এমনভাবে তাকায় যেন আমি ভিনগ্রহের প্রাণী। আর নানা কৌশলে বোঝানোর চেষ্টা করে এমন ভয়ানক পরিস্থিতির জন্য আমার ঔদ্ধত্য, উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনই দায়ী। অনেকে আবার বিয়ের প্রস্তাব এনে আমাকে উদ্ধারের মহান কার্যক্রম শুরু করে। সেসব পাত্রের বেশির ভাগই ডিভোর্সি এবং দু-এক সন্তানের জনক আর বয়সে আমার চেয়ে ৮-১০ বছরের বড়। অথচ একটা ডিভোর্সি ছেলে যখন বিয়ে করতে যায় তখন ঠিকই অবিবাহিত মেয়ে খোঁজে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়। তখন পাত্রীপক্ষ আর পাত্রপক্ষ এক হয়ে আগের বউয়ের কুৎসা রটনায় মশগুল থাকে। এমনকি নববিবাহিতা মেয়েটিও ভাবে দোষ আগের বউয়ের; কারণ সে মানিয়ে নিতে পারেনি।’
একটু থেমে নেহা আবার বলতে শুরু করল, ফেসবুকে আমার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ‘সিঙ্গেল’ দেখে একজন কটাক্ষ করে বলল, ‘তুমি আবার একা হলে কবে থেকে?’ আমি বললাম, ‘একা মানে একা; আর আমি যেহেতু একা তাহলে কেন লিখব না?’ সে বলল, ‘এটা কি পশ্চিমা বিশ্ব নাকি? সিঙ্গেল!’ আমি বললাম, ‘নিজের সমস্ত দায়ভার নিজে নিতে পারব অথচ বলতে পারব না আমি একা?’ সে মুচকি হেসে বলল, ‘তুমি না ডিভোর্সি!’

৩.
কলেজের একজন শিক্ষক, বয়স ৩৪-৩৫ বছর। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক সন্তানের জননী। আদর্শ শিক্ষক বলতে যা বোঝায় তিনি ঠিক তাই ছিলেন। তবে দুর্বলতা একটাই, এ বয়সেই অকাল বৈধব্যের বোঝা ছিল তাঁর কাঁধে। তাই তো তিনি কারও সঙ্গেই হেসে কথা বললেই আশপাশের সবাই এমন উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাত যে এ বুঝি কিছু হয়ে গেল। অপরিচিত কেউ যদি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন, হোক তিনি পারিবারিক বা অফিশিয়াল যে কারণেই, সবাই বাজ পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষকের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে অনেকেই সন্দিহান হতে, অথচ তাঁর ছেলে ছিল আমাদের সহপাঠী। অনেকে তো তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের দাওয়াত খাওয়ার আশায় হাত-মুখ ধুয়ে অপেক্ষা করছিল। তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে আশপাশের সবাইকে তাঁর জন্য খুব চিন্তিত(!) মনে হতো। এসব সামাজিকতার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে একসময় বদলি হয়ে তিনি অন্যত্র চলে গেলেন। সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ছেলেকে নিয়ে বাকি জীবনটা একাই চলেছেন।
আমাদের সমাজে একা নারী, হোক তিনি অবিবাহিত, ডিভোর্সি অথবা বিধবা—কেন জানি তাঁদের চলার পথটা মসৃণ হয় না। তাঁরা যতই চান একটা স্বাভাবিক, স্বতঃস্ফূর্ত জীবন যাপন করতে; আমরা ততই তাঁদের এ চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াই। কোনো এক বিচিত্র কারণে তাঁদের আমরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না। নিতে পারি না তাঁদের এই একা ও স্বনির্ভর পথ চলাকে।
অনেকের ক্ষেত্রেই এই একা পথ চলাটা সাময়িক, অনেকের আবার স্থায়ী। আর সবচেয়ে বড় কথা মানুষ একা থাকার প্রাণী না। একা থাকার একধরনের চাপা কষ্ট আছে, ভয় আছে, দুশ্চিন্তা আছে, অস্থিরতা আছে, অনিশ্চয়তা আছে। কারও কারও ক্ষেত্রে একা থাকাটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়েও দেখা দেয়। তবুও এত কষ্ট, অনিশ্চয়তা নিজের ভেতর পুষে রেখে তাঁরা জীবন ধারণ করছেন। অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেই নিজের পথ চলার অবলম্বন হয়েছেন। অন্তত সে জন্য হলেও আমাদের উচিত তাঁদের প্রতি সম্মান দেখানো।

লেখক: চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।