ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কোরআন শরিফ অবমাননা করায় মানববন্ধন রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনার চুয়েটের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দিঘলিয়া উপজেলার প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। চট্টগ্রামে সাতকানিয়ায় গভীর রাতে কৃষি জমির মাটি কাটার দায়ে দুইজনকে কারাদণ্ড … নড়াইলে মসজিদ ইমামের স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, ভাড়াটিয়া পলাতক চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেছেন: প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা প্রচণ্ড দাবদাহে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের স্বস্তির উদ্যোগ। বেলখাইন স্পোটিং ক্লাবের অলনাইট অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ সম্পন্ন নিয়ামতপুরে এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রীর ওপর অভিমানে প্রাণ গেল কৃষকের “বেনজীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে দুদকে ব্যারিস্টার সুমন”

পড়ার ঘরে দুদণ্ড শান্তি

দিন যায়…ধুলো জমে। রোজ সকালে জানালাটা খুলে দেওয়ার সময় মনে হয় এই বইটা হাতে নিয়ে একটা-দুটো পাতা পড়ি। কিন্তু সময়টা যে তখন বের হওয়ার, অফিস যাওয়ার। যখন ফিরে আসব তখন এই স্নিগ্ধ প্রাণবন্ত আলোটুকু আর থাকে না।

খুব ছোটবেলায় কার্টুন ছবিতে একটা লাইব্রেরি দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। এক বিশাল জানালা দিয়ে সকালের রোদ এল আর হাজার হাজার বই আলোকিত হয়ে উঠল। দৃশ্যটা এখনো মনের চোখে দেখতে পাই আর ভাবতে থাকি হয়তো একদিন, হয়তো একদিন…।

এখন যখন পেছনে তাকাই বুঝতে পারি অনেক সময় চলে গেছে। এর মধ্যে অনেক বইয়ের সঙ্গেই পরিচয় হলো, নতুন বইয়ের খোঁজ পেলাম। এ দীর্ঘ যাত্রায় যেগুলোর সঙ্গে পরিচয় হলো, এক এক করে অল্প আয়োজনে গুছিয়ে রাখারই চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন মনে হয়, সেই বিশাল পাগলাটে লাইব্রেরির স্বপ্নের চেয়ে সংগ্রহে থাকা বইগুলো যেন সব সময় ভালো সে ব্যবস্থা করাই বেশি দরকার।

আমাদের মতোই আলো প্রয়োজন বইপত্র রাখার জন্য। আলোই জীবন, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে প্রাণ নেই। তাই পড়ার ঘরে আমার অনেক আয়োজন না থাকলেও আছে একটা জানালা। সেখান দিয়ে আলো আসে। এখনকার ব্যস্ত জীবনে হয়তো বিকেলে আমার জানালার পাশে আয়েশ করে বসে বই পড়তে পারি না ঠিকই; তবে রোজ সকালে পড়ার ঘরে জানালা খুলে দিতে ভুলি না। স্কুল-কলেজের দিনগুলোয় প্রতিদিন বই-কমিকস সবকিছু এলোমেলো পড়ে থাকত চারদিকে। এখন ছোট্ট করে একটা সেলফ বানিয়ে বই গুছিয়ে রেখেছি ঠিকই, কিন্তু কমবেশি ধুলো জমেছে সেসবের ওপর। ভাবি, প্রতিদিন যদি হাতের ছোঁয়া পেত বইগুলো, তবে পড়ত না এতটুকু ধুলো।

বটে; কিন্তু দেখি যে সপ্তাহ ঘুরে বইগুলোর ওপর ধুলো জমে। অপেক্ষায় থাকি ছুটির দিনে সব কটা বই ধরে ধরে পাতলা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করব আর পরিবর্তন করে দেব কর্পূরের দানা, যাতে পোকায় না ধরে। তারপর বিকেলে একটা বই নিয়ে সময়টা পার করে দেব।

আসলে পড়ার ঘর মনমতো সাজানো হওয়া চাই, দেয়ালে থাকুক প্রিয় ছবির একটা পোস্টার, টেবিলের ওপর একটা-দুটো জিনিস আর জানালার পাশে একটা গাছ। ব্যস, ছিমছাম হোক পড়ার ঘর, সঙ্গে নিশ্বাস নিক তাকে সাজানো বইগুলো।

এত কিছু করি, শুধু পড়ে থাকে বিকেলের রোদ আর বইগুলো, জানালার পাশের আমার ছোট্ট সেলফ। ওই যে বললাম দিন যায়, ধুলো জমে।

লেখক: স্থপতি

মনে রাখুন

১. পড়ার ঘর শব্দ, গোলযোগ থেকে আলাদা রাখা ভালো।

২. পড়ার ঘরে টিভি রাখা অনুচিত, বারবার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে।

৩. আলো–বাতাস আছে এমন জায়গায় বইগুলো রাখতে হবে। না হলে বই নষ্ট হয়ে যায়।

৪. আপনার বাসা যতটুকুই হোক, নিরিবিলি জায়গায় বানাতে পারেন পড়ার ঘর।

৫. বেশি বই হলে পুরো দেয়াল হতে পারে বইয়ের সেলফ।

৬. দিনে থাকুক আলো, রাতে জ্বলুক টেবিল ল্যাম্প।

Tag :

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কোরআন শরিফ অবমাননা করায় মানববন্ধন

পড়ার ঘরে দুদণ্ড শান্তি

আপডেট টাইম ১২:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দিন যায়…ধুলো জমে। রোজ সকালে জানালাটা খুলে দেওয়ার সময় মনে হয় এই বইটা হাতে নিয়ে একটা-দুটো পাতা পড়ি। কিন্তু সময়টা যে তখন বের হওয়ার, অফিস যাওয়ার। যখন ফিরে আসব তখন এই স্নিগ্ধ প্রাণবন্ত আলোটুকু আর থাকে না।

খুব ছোটবেলায় কার্টুন ছবিতে একটা লাইব্রেরি দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। এক বিশাল জানালা দিয়ে সকালের রোদ এল আর হাজার হাজার বই আলোকিত হয়ে উঠল। দৃশ্যটা এখনো মনের চোখে দেখতে পাই আর ভাবতে থাকি হয়তো একদিন, হয়তো একদিন…।

এখন যখন পেছনে তাকাই বুঝতে পারি অনেক সময় চলে গেছে। এর মধ্যে অনেক বইয়ের সঙ্গেই পরিচয় হলো, নতুন বইয়ের খোঁজ পেলাম। এ দীর্ঘ যাত্রায় যেগুলোর সঙ্গে পরিচয় হলো, এক এক করে অল্প আয়োজনে গুছিয়ে রাখারই চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন মনে হয়, সেই বিশাল পাগলাটে লাইব্রেরির স্বপ্নের চেয়ে সংগ্রহে থাকা বইগুলো যেন সব সময় ভালো সে ব্যবস্থা করাই বেশি দরকার।

আমাদের মতোই আলো প্রয়োজন বইপত্র রাখার জন্য। আলোই জীবন, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে প্রাণ নেই। তাই পড়ার ঘরে আমার অনেক আয়োজন না থাকলেও আছে একটা জানালা। সেখান দিয়ে আলো আসে। এখনকার ব্যস্ত জীবনে হয়তো বিকেলে আমার জানালার পাশে আয়েশ করে বসে বই পড়তে পারি না ঠিকই; তবে রোজ সকালে পড়ার ঘরে জানালা খুলে দিতে ভুলি না। স্কুল-কলেজের দিনগুলোয় প্রতিদিন বই-কমিকস সবকিছু এলোমেলো পড়ে থাকত চারদিকে। এখন ছোট্ট করে একটা সেলফ বানিয়ে বই গুছিয়ে রেখেছি ঠিকই, কিন্তু কমবেশি ধুলো জমেছে সেসবের ওপর। ভাবি, প্রতিদিন যদি হাতের ছোঁয়া পেত বইগুলো, তবে পড়ত না এতটুকু ধুলো।

বটে; কিন্তু দেখি যে সপ্তাহ ঘুরে বইগুলোর ওপর ধুলো জমে। অপেক্ষায় থাকি ছুটির দিনে সব কটা বই ধরে ধরে পাতলা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করব আর পরিবর্তন করে দেব কর্পূরের দানা, যাতে পোকায় না ধরে। তারপর বিকেলে একটা বই নিয়ে সময়টা পার করে দেব।

আসলে পড়ার ঘর মনমতো সাজানো হওয়া চাই, দেয়ালে থাকুক প্রিয় ছবির একটা পোস্টার, টেবিলের ওপর একটা-দুটো জিনিস আর জানালার পাশে একটা গাছ। ব্যস, ছিমছাম হোক পড়ার ঘর, সঙ্গে নিশ্বাস নিক তাকে সাজানো বইগুলো।

এত কিছু করি, শুধু পড়ে থাকে বিকেলের রোদ আর বইগুলো, জানালার পাশের আমার ছোট্ট সেলফ। ওই যে বললাম দিন যায়, ধুলো জমে।

লেখক: স্থপতি

মনে রাখুন

১. পড়ার ঘর শব্দ, গোলযোগ থেকে আলাদা রাখা ভালো।

২. পড়ার ঘরে টিভি রাখা অনুচিত, বারবার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে।

৩. আলো–বাতাস আছে এমন জায়গায় বইগুলো রাখতে হবে। না হলে বই নষ্ট হয়ে যায়।

৪. আপনার বাসা যতটুকুই হোক, নিরিবিলি জায়গায় বানাতে পারেন পড়ার ঘর।

৫. বেশি বই হলে পুরো দেয়াল হতে পারে বইয়ের সেলফ।

৬. দিনে থাকুক আলো, রাতে জ্বলুক টেবিল ল্যাম্প।