ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ , ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ই-পেপার

বিরল খনিজ নিয়ে চুক্তিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন

আপলোড সময় : ২৭-০২-২০২৫ ০১:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-০২-২০২৫ ০১:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
বিরল খনিজ নিয়ে চুক্তিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন
বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের একটি চুক্তি করতে এর বিভিন্ন শর্তে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন। এ প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ওয়াশিংটন সফর করবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ সময় হোয়াইট হাউসে এ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউক্রেনের মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের প্রত্যাশা, যুদ্ধ শেষ হলে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ ইউক্রেনে মার্কিন সেনা অবস্থান করবে। 

বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান এ যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেষ্টার মধ্যে ওয়াশিংটনের সমর্থন পেতেই এ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে কিয়েভ। তবে এ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার কোনো শর্ত নেই। একটি সূত্র বলছে, ভবিষ্যতে ইউক্রেনে কোনো মার্কিন অস্ত্র যাবে কিনা– ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতেই তা নির্ধারিত হবে। 

চুক্তির বিষয়ে কিয়েভের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, তারা বেশ কিছু ভালো সংশোধনী নিয়ে একমত হয়েছেন। এটিকে একটি ইতিবাচক ফল হিসেবেই দেখছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যে অধিকার দাবি করেছিল, সেটি থেকে সরে এসেছে। তবে একই সঙ্গে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও দিচ্ছে না তারা, যা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল।
 
ট্রাম্পের আশা, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে এসে এ সপ্তাহেই চুক্তিতে সই করবেন। আগামীকাল এ চুক্তিটি হওয়ার কথা রয়েছে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অধিকার পাবে। তিনি বলেন, তারা খুব সাহসী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও সামরিক উপকরণ ছাড়া যুদ্ধ অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত। যুক্তরাষ্ট্র কি অস্ত্র সরবরাহ করে যাবে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হয়তো রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হওয়া পর্যন্ত। আমাদের একটি চুক্তিতে পৌঁছানো দরকার, না হয় এটা (যুদ্ধ) চলতে থাকবে। এর পরই ট্রাম্প বলেন, শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনে ‘কোনো এক ধরনের শান্তিরক্ষা’ কার্যক্রমের দরকার হবে। কিন্তু সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে বর্ণনা করেন এবং যুদ্ধ শুরুর জন্য তাঁকেই দোষারোপ করেন। 

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ৩০০ থেকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। আমরা সেই অর্থ ফেরত চাই। আমরা বড় সমস্যায় থাকা দেশকে সাহায্য করেছি। কিন্তু মার্কিন করদাতারা এখন তাদের অর্থ ফেরত পেতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলহা স্টেফানিশায়না ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘চুক্তি পুরো ছবির একটি অংশ মাত্র।’ 

অনেকেই মনে করছেন, ইউক্রেনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নতুন মোড়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী চার বছরে ট্রাম্প ও তাঁর বৈদেশিক নীতিবিষয়ক দল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রয়োগ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের গণমাধ্যম ইউক্রেরাইনস্কা প্রাভডা বলছে, খনিজ চুক্তিতে সই করবেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর মাধ্যমে দুই দেশ একটি পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলও গঠন করবে। 

ইউক্রেনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের লিথিয়াম, টাইটানিয়াম, কয়লা, গ্যাস ও তেলের মজুত আছে, যা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ৫ শতাংশ বলে মনে করা হয়। সেখানে ১৯ মিলিয়ন টন গ্রাফাইটের প্রামাণিত মজুত আছে। এ পদার্থটি ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ইউরোপে যত লিথিয়াম মজুত আছে, তার এক-তৃতীয়াংশই ইউক্রেনে। এটি এখন যে ব্যাটারি তৈরি হয়, তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : mainadmin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ