ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে শরনখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজার প্লাবিত। ভাঙ্গা – যশোর – বেনাপোল মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরন হলে দুরত্ব কমবেশি ৮৬ কি: মি: গজারিয়ায় ভবেরচর ইউনিয়নে জাতীয় শোক দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত। মাদারীপুরের কালকিনিতে এক শিশুকে ধর্ষনের চেষ্টা,থানায় মামলা দায়ের টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত রাঙ্গাবালীর জল কপাটের বেহাল দশা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা গজারিয়ার বালুয়াকান্দীতে অনুদানের চেক হস্তান্তর মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের যৌথ বর্ধিত সভা ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে গেল শরনখোলা উপজেলায় মতলব উত্তরে নতুন ভোটার ফরমে ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ

৩১ বছরেও ঠিক হলো না ঝিনাইগাতির ব্রিজ ও স্লুইস গেইট

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের একটি ব্রিজ ও স্লুইস গেইট ১৯৮৮ সালের বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়ে থাকলেও পড়ে থাকলেও কারো নজরে পড়ছে না। বিগত ৩১ বছরে সরকার বদল হয়েছে কয়েকবার, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে বেশ কয়েকটি। প্রতিটি নির্বাচনের ভোটের সময় সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ওই গ্রামে ভোট নিতে এসে বার বারই কথা দিয়েছে ভোটে জিতলেই সংস্কার হবে ব্রিজ ও সøুইস গেইটটি। ভোট যায়, ভোট আসে কিন্তু কেউ কথা রাখেনি । জানা গেছে, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝি নদীর উপর ১৯৮৬-৮৭ অর্থ বছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছিল সাত কপাট বিশিষ্ট একটি স্লুইস গেইট কাম ফুট ব্রিজ। কিন্তু পরবর্তিতে নির্মাণের দেড় বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানির তোড়ে আকস্মিকভাবে ওই সøুইস গেইটের তিনটি কপাট ভেঙে যায়। সেইসঙ্গে পানির তোড়ে দুই পাশের মাটিও ভেসে গিয়ে ব্রিজটিও মাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তিতে স্লুইস গেইটটি ব্যাবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে ৩১ বছর ধরে গেইটটির লোহার কপাটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পড়ে আছে অযতœ আর অবহেলায়। গেইটটি দ্রুত সংস্কার করে ওই এলাকার ১৫টি গ্রামের শতশত একর অনাবাদি জমিগুলোকে সেচের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেইসঙ্গে এইসব গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ব্রিজের সংস্কারের দাবীও জানান তারা। এদিকে স্থানীয়রা নিজ উদ্দোগে ব্রিজের দুই পার্শ্বে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মূল ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ পথ তৈরী করে ঝুকি নিয়ে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়। কিন্তু বিগত এই ৩১ বছরে ওই ঝুকিপূর্ণ বাঁশ-কাঠের উপর দিয়ে মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালিয়ে ব্রিজ পারাপার হতে গিয়ে ইতিমধ্যে একজন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়া এই গ্রামের বিবাহযোগ্য কোন ছেলে বা মেয়েকে অন্য এলাকার মানুষ বিয়েও করতে চায়না বলে জানালেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঝুকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে অতিরিক্ত শ্রমিকের মধ্যেমে পারাপার করতে তাদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও অনেক বেশী খরচ হওয়ায় তাদের ফসল বিক্রি করেও উৎপাদন মূল্য উঠে না। এদিকে স্লুইস গেইটটির দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে আগামী অর্থ বছরে পূণরায় নির্মাণের কথা বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে শরনখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজার প্লাবিত।

৩১ বছরেও ঠিক হলো না ঝিনাইগাতির ব্রিজ ও স্লুইস গেইট

আপডেট টাইম ০৮:৫২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের একটি ব্রিজ ও স্লুইস গেইট ১৯৮৮ সালের বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়ে থাকলেও পড়ে থাকলেও কারো নজরে পড়ছে না। বিগত ৩১ বছরে সরকার বদল হয়েছে কয়েকবার, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে বেশ কয়েকটি। প্রতিটি নির্বাচনের ভোটের সময় সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ওই গ্রামে ভোট নিতে এসে বার বারই কথা দিয়েছে ভোটে জিতলেই সংস্কার হবে ব্রিজ ও সøুইস গেইটটি। ভোট যায়, ভোট আসে কিন্তু কেউ কথা রাখেনি । জানা গেছে, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝি নদীর উপর ১৯৮৬-৮৭ অর্থ বছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছিল সাত কপাট বিশিষ্ট একটি স্লুইস গেইট কাম ফুট ব্রিজ। কিন্তু পরবর্তিতে নির্মাণের দেড় বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানির তোড়ে আকস্মিকভাবে ওই সøুইস গেইটের তিনটি কপাট ভেঙে যায়। সেইসঙ্গে পানির তোড়ে দুই পাশের মাটিও ভেসে গিয়ে ব্রিজটিও মাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তিতে স্লুইস গেইটটি ব্যাবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে ৩১ বছর ধরে গেইটটির লোহার কপাটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পড়ে আছে অযতœ আর অবহেলায়। গেইটটি দ্রুত সংস্কার করে ওই এলাকার ১৫টি গ্রামের শতশত একর অনাবাদি জমিগুলোকে সেচের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেইসঙ্গে এইসব গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ব্রিজের সংস্কারের দাবীও জানান তারা। এদিকে স্থানীয়রা নিজ উদ্দোগে ব্রিজের দুই পার্শ্বে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মূল ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ পথ তৈরী করে ঝুকি নিয়ে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়। কিন্তু বিগত এই ৩১ বছরে ওই ঝুকিপূর্ণ বাঁশ-কাঠের উপর দিয়ে মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালিয়ে ব্রিজ পারাপার হতে গিয়ে ইতিমধ্যে একজন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়া এই গ্রামের বিবাহযোগ্য কোন ছেলে বা মেয়েকে অন্য এলাকার মানুষ বিয়েও করতে চায়না বলে জানালেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঝুকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে অতিরিক্ত শ্রমিকের মধ্যেমে পারাপার করতে তাদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও অনেক বেশী খরচ হওয়ায় তাদের ফসল বিক্রি করেও উৎপাদন মূল্য উঠে না। এদিকে স্লুইস গেইটটির দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে আগামী অর্থ বছরে পূণরায় নির্মাণের কথা বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী।