ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রেকর্ড দরপতন মুদ্রার , ১ মার্কিন ডলার কিনতে হচ্ছে ২৫৫ পাকিস্তানি রুপিতে মাতৃত্বকালীন কার্ড প্রদানে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ,ইউপি সচিবসহ আটক দুই মতলব উত্তরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জাতীয় ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট কমিটির সভাপতির পদ থেকে থেকে পদত্যাগ করেছেন সাইফুল আলম রনি কুলাউড়ায় ফাহিম স্মৃতি দ্বৈত নক আউট ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট-২০২৩, শুভ উদ্বোধনী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পরিত্যাক্ত স্কুল ভবন থেকে ৬৮ রাউন্ড এলএমজি গুলি উদ্ধার। ফরিদগঞ্জে যাত্রা শুরু করেছে এক্স স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন অবিভাবক শূণ্যতায় অস্তিত্ব বিলিনের পথে ডাকাতিয়া রামপালে সুইডেনের দূতাবাসে পবিত্র কুরআন পোড়ানোর ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সারা দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় ফারিয়ার ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

২১ আগস্ট নিয়ে কূটচাল চালছে সরকার: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, ২১ আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করার জন্য তাঁরা উঠেপড়ে লেগেছেন। ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাবেন কি না, মানুষের মনে সে সংশয়ও এখন দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, একটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে।

রিজভী বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব গতকাল বলেছেন, ২১ আগস্ট মামলার রায় হলে সংকটে পড়বে বিএনপি এবং আগামী সেপ্টেম্বরে সে রায় হবে। কাদের সাহেবরই বক্তব্যেই পরিষ্কার যে তাঁরা নীলনকশা অনুযায়ী ২১ আগস্টের বোমা হামলা মামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন এবং সে জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কূটচাল চালছেন তাঁরা।’

আজ শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিজভী। আজ তাঁর বক্তব্যের প্রায় পুরো অংশজুড়েই ছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় সেই সময় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। ওই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি।

এ বছর ২১ আগস্টে নিহত ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে খালেদা জিয়া এবং তাঁর ছেলে তারেক রহমান ওই হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ২১ আগস্টের নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আজ সেই প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই দেখছি, আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। তাদের আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না।’

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের দলীয় লোক কাহার আকন্দকে তদন্তে কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তার আগেই কাহার আকন্দ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাঁকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে। দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে জনাব তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’

রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজির নেই।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলা তদন্ত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকার মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এফবিআইকে তদন্তকাজে কোনো ধরনের সহায়তা করা হয়নি। এমনকি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িটিও দেখতে দেওয়া হয়নি। কেন তারা সুষ্ঠু তদন্ত করতে দিল না—এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গভীর ষড়যন্ত্রমূলক।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেকর্ড দরপতন মুদ্রার , ১ মার্কিন ডলার কিনতে হচ্ছে ২৫৫ পাকিস্তানি রুপিতে

২১ আগস্ট নিয়ে কূটচাল চালছে সরকার: রিজভী

আপডেট টাইম ১২:২২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৮

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, ২১ আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করার জন্য তাঁরা উঠেপড়ে লেগেছেন। ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাবেন কি না, মানুষের মনে সে সংশয়ও এখন দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, একটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে।

রিজভী বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব গতকাল বলেছেন, ২১ আগস্ট মামলার রায় হলে সংকটে পড়বে বিএনপি এবং আগামী সেপ্টেম্বরে সে রায় হবে। কাদের সাহেবরই বক্তব্যেই পরিষ্কার যে তাঁরা নীলনকশা অনুযায়ী ২১ আগস্টের বোমা হামলা মামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন এবং সে জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কূটচাল চালছেন তাঁরা।’

আজ শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিজভী। আজ তাঁর বক্তব্যের প্রায় পুরো অংশজুড়েই ছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় সেই সময় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। ওই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি।

এ বছর ২১ আগস্টে নিহত ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে খালেদা জিয়া এবং তাঁর ছেলে তারেক রহমান ওই হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ২১ আগস্টের নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আজ সেই প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই দেখছি, আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। তাদের আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না।’

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের দলীয় লোক কাহার আকন্দকে তদন্তে কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তার আগেই কাহার আকন্দ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাঁকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে। দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে জনাব তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’

রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজির নেই।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলা তদন্ত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকার মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এফবিআইকে তদন্তকাজে কোনো ধরনের সহায়তা করা হয়নি। এমনকি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িটিও দেখতে দেওয়া হয়নি। কেন তারা সুষ্ঠু তদন্ত করতে দিল না—এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গভীর ষড়যন্ত্রমূলক।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি