বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জ জেলা সদরের পৌরসভা ছাড়া পাঁচটি পৌরসভার নেই নিজস্ব ভবন।

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ জেলায় ৯টি উপজেলায় ছয়টি পৌরসভা, তার মধ্যে জেলা সদরের পৌরসভা ছাড়া পাঁচটিতেই নিজস্ব ভবন নেই। ফলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী, পৌরসভা গুলো উপজেলা প্রশাসন বা অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত কক্ষ বা ভবন সংস্কার করে কোনো মতে কার্যক্রম চালাচ্ছে যেসব পৌরসভার নিজস্ব ভবন নেই সেগুলো হলো- নবীগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ চুনারুঘাট ও মাধবপুর। আজমিরীগঞ্জ ছাড়া সবই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে শুধু হবিগঞ্জ পৌরসভার।

মাধবপুর পৌরসভা : ১৯৯৭ সালে এই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত। ২০১২ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। এরপর ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা কিনে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মামলা জটিলতায় পড়ে নিজস্ব ভবন আর করা হয়নি। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম। পৌর কর্তৃপক্ষ শুরু থেকে উপজেলা পরিষদের একটি ভবনকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে। পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মেয়রের আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। তবে সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত হাবিবুর রহমান মানিক। মেয়র মানিক বলেন, এই পৌরসভার মেয়র পদটি দীর্ঘদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত নিজস্ব ভবন হয়নি, এটা দুঃখজনক। এবারের নির্বাচনে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি যতদিন এই চেয়ারে থাকব জনগণের সেবা দিয়ে যাব আমার মেয়াদেই যেন পৌর ভবন করতে পারি, সে পরিকল্পনা আমার রয়েছে।

চুনারুঘাট পৌরসভা : চুনারুঘাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। ১৫ বছর ধরে উপজেলা পরিষদের পরিত্যক্ত আদালত ভবন সংস্কার করে পৌরসভার কার্যক্রম চলছে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মেয়র পদটি বিএনপির দখলে প্রথমে প্রশাসক ছিলেন তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত মোহাম্মদ আলী। পরের নির্বাচনে তিনিই মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র থাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে উপনির্বাচনে মেয়র হন তারই চাচাতো ভাই নাজিম উদ্দিন সামসু। সর্বশেষ ২০১৫ সালের নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র হন। নাজিম উদ্দিন সামসু বলেন, আমি চুনারুঘাট পৌরসভাকে একটি আধুনিক এবং প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলেছি। ফলে শহরের যানজট অনেকটা কমেছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমি আবার মেয়র নির্বাচিত হলে চলমান কাজগুলো সমাপ্ত করব। বিশেষ করে পৌরসভার নিজস্ব ভবন করার শতভাগ ইচ্ছে আমার রয়েছে।

নবীগঞ্জ পৌরসভা : এ পৌরসভা স্থাপিত হয় ১৯৯৭ সালে। উপজেলা পরিষদের একটি ভবনে সাতটি কক্ষ নিয়ে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকে মেয়র পদে ছিলেন তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। তিনি এই পদে ১৮ বছর পার করে গেলেও এই পৌরসভার নিজস্ব কার্যালয় হয়নি। তার পরে মেয়র পদে আসেন বিএনপির ছাবির আহমদ চৌধুরী। তিনি এক মেয়াদ শেষ করে গত ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিও এক মেয়াদ শেষ করলেও কার্যালয় করার মতো জায়গা পাননি। মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, উপজেলা পরিষদের ভবনে কার্যক্রম চালাতে তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে কার্যালয় করার জন্য তারা দুটি স্থান চিহ্নিত করে রেখেছেন।

আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা : ২০০৪ সালে ৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এলাকা নিয়ে গঠিত হয় আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা। ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত এ পৌরসভায় সে সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর একই বছরের ডিসেম্বরে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক। তিনি টানা ১৬ বছর ধরে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিজস্ব ভবন না থাকায় উপজেলা পরিষদের একটি পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার করে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

।শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা : এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রথমে এর কার্যক্রম শুরু হয় সরকারি ডাকবাংলোয়। সেখান থেকে চার বছর পর স্থানান্তর করা হয় সারগুদামের কার্যালয়ে। ২২ বছরে এ পৌরসভার কার্যক্রমের পরিধি বাড়লেও নিজস্ব কার্যালয় হয়নি। গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনে মেয়র হন বিএনপির ফরিদ আহমেদ অলি। এর আগের মেয়াদে মেয়র ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছায়েক মিয়া। তবে নিজস্ব ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন নবনির্বাচিত মেয়র ফরিদ আহমেদ অলি।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar