বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪১ অপরাহ্ন

সৈয়দপুরে বৈশাখী মেলায় নগ্ন নৃত্যের উম্মুক্ত প্রদর্শনী প্রশাসন নির্বিকার

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামাী জেলা প্রতিনিধি : যাদু প্রদর্শনীর নামে চলছে দেহ প্রদর্শনী। দিনের বেলা প্রদর্শনী মঞ্চে কোন ভীড় বা যাদুর আয়োজন না থাকলেও সন্ধার পর আলো ঝলমলে পুরো প্যান্ডেল জুড়ে উপচে পড়া ভীড়ে তিল ধারণের ঠাই থাকেনা। সে সাথে শুরু হয় উলঙ্গ নৃত্যের দূর্বার মহড়া। রাত বাড়ার সাথে সাথে তা পরিনত হয় পতিতালয়ের রঙ্গমঞ্চে। যাদু প্রদর্শনীর নামে মাইকে প্রচারণা চালিয়ে দর্শকদের ডাকা হলেও ভিতরে প্রবেশ মাত্রই চোখে পড়ে নারী দেহের নগ্ন প্রদর্শন। এ যেন এক অন্য রকম যাদুর আসর। যেখানে যাদু শিল্পীর হাতের নিপূণ কারসাজীর পরিবর্তে দেখানো হয় পুরো শরীরের মোহনীয় শিল্পায়ন। সত্যিই সেলুকাস বিচিত্র এ দেশ। উপরোক্ত বর্ণনার বাস্তব রূপ চিত্রায়ন হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে শেখ রাসেল মিনি ষ্টিডিয়ামে আয়োজিত বৈশাখী মেলায়। গত ১৩ই এপ্রিল উদ্বোধন করা এ মেলায় বিনোদন তথা মেলা পরিচালনা কমিটির আয়ের মূল উপজীব্যই হচ্ছে নগ্ন নৃত্য। কারণ মেলার প্রধান আকর্ষণ হস্তশিল্প বা পণ্য- সামগ্রীর স্টলের কোন অস্তিত্বই নেই এখানে। পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে মাত্র ৪টি দোকান, যার একটি আচার, দুটি প্লাষ্টিকের খেলনার আর একটি ভিউকার্ড-পোষ্টার-এ্যালবাম এর। একপাশে দ্যা গ্রেট রওশন সার্কাসের বিশাল প্যান্ডেল আর অন্যপাশে অনামিকা যাদু প্রদর্শনীর প্যান্ডেল। মেলার উদ্বোধনের পরদিনই লটারীর নামে চলা জুয়ার প্যান্ডেল পুলিশ ভেঙ্গে দিলেও সার্কাস ও যাদুর প্যান্ডেলে চলছে অশ্লীল নৃত্য। এছাড়া গভীর রাত পর্যন্ত বসছে মাদকের আসর। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা এ মেলা উদ্বোধনের পরের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের দিনেই রিক্সাযোগে ১৭০টি ড্রাম নিয়ে শতাধিক ইজিবাইক করে প্রায় ১০ লাখ টাকার র‌্যাফেল ড্র’র টিকিট বিক্রি করা হয় সৈয়দপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে। কোন অনুমতি না থাকায় ওই দিন রাতে সৈয়দপুর পুলিশ প্রশাসন র‌্যাফেল ড্র’র প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয় এবং পাশে হাউজির প্যান্ডেল সাজানো হলেও পরে তা খুলে ফেলা হয়। মেলায় প্রথম দিকে শুধুমাত্র দি রওশন সার্কাস প্রতিদিন তিনটি শো প্রদর্শন করে। পরে বিভিন্ন নায়ক নায়িকাদের এনে দর্শক আকর্ষণের চেষ্টা করে এবং তাদের (নায়ক নায়িকাদের) আপ্যায়নে বিদেশী মাদকের আসর বসে গভীর রাত পর্যন্ত। ইদানিং যাদুর একটি প্যান্ডেল তৈরি করে তাতে চলছে অশ্লীল নৃত্য। উঠতি বয়সের যুবকরা হুমরি খেয়ে পড়ছে যাদুর প্যান্ডেলের সামনে। কিছু ব্যক্তিকে ম্যানেজের মাধ্যমে এসব অবাধে চালানো হচ্ছে। যার দায়িত্ব পালন করছেন চুন নামের এক হাজী। এলাকাবাসী জানায়, ষ্টিডিয়াম আর হাসপাতাল এর ব্যবধান মাত্র কয়েক শ’ গজ। সার্কাস ও যাদুর প্যান্ডেলের গান বাজনার শব্দে অসুস্থ রোগীদের চরম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাই এলাকাবাসী বৈশাখী মেলার নামে সার্কাস ও যাদুর প্যান্ডেলে অশ্লীল নৃত্য ও মাদকের আসর বন্ধে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রীড়া সংস্থার একাধিক সদস্য জানান, নগ্ন নৃত্য ও মাদকের আসর এর বিষয়ে আমরা অবগত নই। তবে এটা কিভাবে চলছে তা আমাদের জানা নাই। এ ব্যাপারে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এ ধরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দপুর পৌর আওয়ামীলীগের ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে নগ্ন নৃত্য প্রদর্শনীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ২৮ এপ্রিল মেলা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু তিনি আসার পরও গভীর রাত পর্যন্ত অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar