শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

সৈয়দপুরে ফুচকা ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার জমি সংক্রান্ত বিরোধে হত্যার অভিযোগ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা : গাছে ঝুলিয়ে রাখা এক ফুচকা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১১ এপ্রিল সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা নতুন হাট দক্ষিণপাড়া থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং সৈয়দপুর থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, ওয়াপদা নতুন হাট দক্ষিণপাড়ার মৃত. নসির উদ্দিনের ছেলে এমদাদুল (৪৫) এর সাথে প্রতিবেশী মৃত. বাছাই মাহামুদ এর ছেলে ওসমান গনীর জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। এরই মধ্যে গত ৮ এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে এমদাদুলের বাড়িতে দলবদ্ধভাবে হামলা চালায় ওসমানের পরিবারের লোকজন। এসময় তারা জমির সীমানা খুটি উপড়ে ফেলে। এমদাদুলের পরিবার প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষরা ঘরে প্রবেশ করে জিনিসপত্র ভাঙ্গচুর করে এবং শো- কেচে রক্ষিত ৫৮ হাজার টাকা ও স্বর্নের চেন লুট করে নিয়ে যায়। এনিয়ে এমদাদুল ওইদিন রাতেই সৈয়দপুর থানায় ওসমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য ওসমানের পক্ষ থেকে এমদাদুলকে নানা প্রকার হুমকি দেয়া হচ্ছিল। এমতাবস্থায় ১০ এপ্রিল বুধবার সন্ধায় প্রতিবেশী মালেক, রমজান ও বাবু বাড়ি থেকে এমদাদুলকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর রাত ৯ টায় মালেক, রমজান ও বাবু আবারও বাড়িতে গিয়ে এমদাদুলকে ডাকতে থাকে। এসময় এমদাদুলের স্ত্রী তসলিমা তাদেরকে বাড়ির ভিতরে যেতে বললে তারা বাড়ির ভিতরে যায় এবং এমদাদুলকে খোঁজ করে। এতে এমদাদুলের পরিবারের লোকজনের মধ্যে আশংকা দেখা দিলে মালেক তাদের আস্বস্ত করে বলে ভয়ের কোন কারণ নেই, কাল সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এরপর রাত ১০ টায় এমদাদুলের বড় মেয়ে মৌসুমী মোবাইলে বাবার সাথে কথা বললে সে জানায় একটু পরেই বাসায় আসতেছি। কিন্তু তার পর থেকে এমদাদুলের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় এবং সে রাতে বাড়িতে ফিরেনি। এ পরিস্থিতিতে বাড়ির লোকজন দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে ভোর থেকে এমদাদুলকে খুঁজার এক পর্যায়ে বাড়ির পেছন থেকে লোকজনের চিৎকার শুনতে পায়। তারা এগিয়ে গেলে দেখতে পায় বাড়ির পিছনে ওসমানের জমির কাছে একটি গাছে এমদাদুলের লাশ ঝুলছে। এ ঘটনার পর থেকে ওসমানের পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে প্রেরণ করেছে। এদিকে এমদাদুলের পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানো সহ হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য একটি প্রভাবশালী মহল অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে এমদাদুলের স্ত্রী তসলিমা জানান, বুধবার সন্ধায় মালেক, রমজান ও বাবু আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর তারাই আবার রাত ৯ টায় বাড়িতে এসে আমার স্বামীর খোঁজ করে। এরপর থেকে আমার স্বামীর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাই এবং সকালে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেলো। এতে আমি মনে করি ওসমানের নির্দেশে তার ছেলে রবিউল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মোতালেব, লাকী এবং প্রতিবেশী মালেক, রমজান ও বাবু সম্মিলিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করে লাশ বাড়ির পিছনে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান পাশার সাথে কথা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ময়না তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোন কিছু বলা যাচ্ছেনা। এদিকে হত্যাকান্ড নিয়ে এলাকায় থমথমে ্ধসঢ়;অবস্থা বিরাজ করছে এবং লোকজনের মধ্যে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার গুঞ্জন চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar