শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

সরকারি নীতিমালা অমান্য করে মতলব উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে তরল পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার।

রিপোর্টার মোঃতপছিল হাছানঃসরকারি নীতিমালা অমান্য করে চাঁদপুর মতলব দক্ষিণ  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানে বিক্রি হচ্ছে তরল পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার। ওষুধ, পান-সিগারেট, মুদিখানা, এমনকি কাপড়ের দোকানে ফ্লেক্সি লোডের দোকানও এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে অবাধে।
ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে জনজীবন।মতলব দক্ষিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত আড়াই শতাধিক বিভিন্ন প্রকার দোকানে দেদারে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। অথচ এ উপজেলায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য লাইসেন্স দেয়া আছে মাত্র ৮ থেকে ১০ জন ’র কিছু বেশি ব্যবসায়ীকে।
সরজমিনে দেখা গেছে, বাজার-বন্দর ছাড়াও অলিতে-গলিতে এখন পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। মতলব থানায়  কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে মতলব দক্ষিণ উপজেলার যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনা বেড়েছে। তবে বেশিরভাগই লাইসেন্স ছাড়া বিক্রি করছে। লাইসেন্স ছাড়াই এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও এখন পর্যন্ত মতলব দক্ষিণে কোনো অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রি রোধে এখন দেশব্যাপী ডিএনসিআরপি অভিযান শুরু করলেও অদৃশ্য কারণে মতলব উপজেলার মধ্যে কোনো অভিযান পরিচালনা না করায় অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বাড়ছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আনোয়ার গাজী বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কোনো কাজ করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রি করতে বিস্ফোরক লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক। ছোট দোকানে ১০,টি বেশি থাকিলে বাধ্যতামূলক বিস্ফোরক লাইসেন্স নিতে হবে,এমনকি ছোট লাইসেন্সধারী কোনো দোকানি ৪০টির বেশি সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রি করতে পারে না।
জানা যায়, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করতে হলে একজন ব্যবসায়ীকে সরকারি বিধি মোতাবেক কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধাপাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা সংক্রান্ত ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ওই সব শর্ত পূরণ করলেই এলপি গ্যাস বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা যাবে না।
লাইসেন্সধারী এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা বরদিয়া আড়ং বাজারের (১)মিলন কাপড়ের দোকান,(২)হেলাল গাজী মা, ইলেকট্রিক্যাল মুন্সিরহাট বাজার (৩)মোঃতাজুল ইসলাম তাজ স্টোর (৪)আবুল তাহের,তামিম হার্ড ওয়্যার(৫)জিয়াউর রহমান মেসার্স জিয়া ইন্টারপ্রাজ(৬)মুক্তার হোসেন প্রধান,মতলব সদর, নারায়নপুর বাজার, আসিয়মপুর বাজার,নায়ের গাঁও বাজারের অধিকাংশই লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে। অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ব্যবসার প্রসার ঘটছে। দোকানদাররা বেশিরভাগই বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স নেননি। তা ছাড়া তদারকির অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও দোকানিরা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আবার এমনও দেখা গেছে, বাসা বাড়িতে মজুদ রেখে তা বিক্রি করা হচ্ছে।বাড়িতে এবং রাস্তার মধ্যে সহো রেখে  বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করছেন এক ব্যক্তি। দোকানের বাহিরে রাস্তায় রোদের মধ্যে ফেলে তিনি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন নায়ের গাঁও বাজারে জিসান নিজের পজিষ্টানের লাভের জন্য বিভিন্ন ছোট ছোট দোকানের মালিক পক্ষের দেরকে দিয়ে বিক্রি করাচ্ছে । অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় জমজমাটভাবেই এ ব্যবসা করেন তিনি। এ ব্যাপারে ওই ব্যবসায়ীর কাছে কীভাবে সিলিন্ডারের ব্যবসা করছেন জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, বৈধভাবেই এ ব্যবসা করছেন তিনি। বৈধভাবে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না এবং ডিলার জিসান তাকে অবহিত করেননি। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এসব দোকানে। মতলব দক্ষিণ  থানা উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা বলেন, লাইসেন্স ছাড়া যারা ব্যবসা করছে তাদের আমরা লাইসেন্স করতে বলেছি। এ ছাড়া ডিলারদেরও খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স দেখে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া এলপি গ্যাস সিলিন্ডার যারা বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar