ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝড়ে লন্ডভন্ড নড়াইলের একটি মাদ্রাসা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদযাপন কুসিক নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পেলেন যারা সিলেটের বন‍্যার্তদের পাশে বঞ্চিত নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানা আকস্মিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার গজারিয়ায় মাদক, সন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ,প্রতিরোধে বিট পুলিশের সভা অনুষ্ঠিত। নওগাঁর নিয়ামতপুরে শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লায় ট্রেনের চাকা লাইনচ্যুত হয়ে তিন রুটে চলাচল বন্ধ। সরে দাঁড়ালো বিদ্রোহী,সাতকানিয়ার এওচিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু ছালেহ

সম্পত্তি নিয়ে দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বে ৩৬ ঘন্টা ধরে ঘরে পচল স্বামীর লাশ

মরেও যেনো শান্তি পেলেন না সাতক্ষীরার বিশিষ্ট আইনজীবী মো. ইয়ার আলি (৮০)। ষষ্ঠবারের মতো মস্তিস্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল আটটার দিকে মারা যান তিনি। পরে তাকে নিয়ে আসা হয় সাতক্ষীরার  বাড়ি কলরোয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে।

তবে বাড়িতে আনার পর ৩৬ ঘন্টা পার হলেও  তার দাফনের কাজ সম্পন্ন হতে পারেনি । পারিবারিক জটিলতায় আটকে আছে তার  দাফনের কাজ। এরই মধ্যে তার মরদেহে পচন ধরেছে। মঙ্গলবার বিকালে এই রিপোর্ট লেখার সময়ও তার মরদেহ ছিল প্রয়াত আইনজীবীর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে। দাফনে বাধা দিয়েছেন প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও তার ছেলেমেয়েরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অ্যাডভোকেট ইয়ার  আলির দুই স্ত্রীর প্রথমা জোহরা খাতুনের চার মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন। অপরদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী শাহিদা খানমের রয়েছে একমাত্র ছেলে প্রিন্স।  ইয়ার আলি তার জীবদ্দশায় তার ৩০ বিঘারও বেশি সম্পত্তি, কোটি টাকার উপরের ব্যাংক ব্যালান্স এমনকি বসতবাড়ির পুরোটাই তার দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী ও ছেলে প্রিন্সের নামে লিখে দিয়েছেন।

এখন জমি বাড়ি ও গচ্ছিত টাকাা এক কড়িও পাননি তার  প্রথমপক্ষের স্ত্রী ও তার সন্তানরা। অ্যাডভোকেট ইয়ার আলির মৃত্যুর পর তারা পৈতৃক সম্পত্তি ও টাকাকড়ির দাবি করেছেন। এসব না পাওয়া পর্যন্ত তারা ইয়ার আলিকে দাফন করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এরই মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য তার বাড়িতে গেছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেনসহ আইনজীবীদের একটি দল। একই সাথে সেখানে বারবার গেছেন কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) মারুফ আহম্মদ এবং স্থানীয় কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনসহ অনেকেই। তারা বিষয়টি সমঝোতামূলকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ফলে মঙ্গলবার বিকাল নাগাদও তাকে দাফন করা হয়নি।

এরই মধ্যে মরদেহে পচন ধরতে শুরু করেছে বলে জানান এলাকাবাসী। চেয়ারম্যান জানান তার পেট ফুলে গেছে। নাক ও কান বেয়ে রক্ত আসছে। দুর্গন্ধ ছুটছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলির প্রথমপক্ষের স্ত্রী জোহরা খাতুনের ছেলে অ্যাড. হাসনাত কবির জানান , আমার বাবা আমার  মা ও তার চার মেয়ে এবং আমাকে সহ প্রথমপক্ষের সবাইকে জমি টাকা ও বাড়ির স্বত্ত্ব থেকে বঞ্চিত করে গেছেন।  তিনি আমাদের কাউকে এক কানাকড়িও দেননি।  তিনি তার সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয়পক্ষের মা ও তার ছেলে প্রিন্সকে দিয়ে গেছেন। এতেই আমরা ক্ষুব্ধ। সহায় সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ আমাদের নামে না দেওয়া পর্যন্ত তার লাশ দাফন করতে দেওয়া হবে না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বারবার চেষ্টা করেও দাফনে নিজের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন বলেন প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড়।

তিনি বলেন, প্রথমপক্ষ বলছে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তাদেরকে কিছু সম্পদ দিতে হবে। অপরদিকে দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী ও তার সন্তানদের দাবি প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলিকে গত ৩২ বছর ধরে সেবা দিচ্ছেন তারা। এজন্য তিনি সন্তুষ্ট  হয়ে সব কিছু তাদের নামে দিয়ে গেছেন। এর থেকে এক শতক জমিও আমরা দেব না।

চেয়ারম্যান জানান,  গ্রামের ৯৯ শতাংশ মানুষ চায় প্রথমপক্ষকে কিছু সম্পদ দিতে। কিন্তু তাদের চাওয়াও নিস্ফল হয়ে গেছে। তবে দ্বিতীয়পক্ষের দাবি প্রয়াত ইয়ার আলি তার পৈতৃক জমির পুরোটাই প্রথমপক্ষকে দিয়ে গেছেন। তবে নিজের উপার্জিত অর্থ ও সম্পদের কোনা অংশ তাদের দেননি।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়পক্ষ সাড়ে সাত বিঘা জমি নিজেদের নামে রেখে বাকিটা ভাগবাটোয়ারা করে দিতে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লেখালেখি চলছে। এটি হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহম্মদ জানান প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলির দাফন সম্পন্ন করার নির্দেশ চেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি সাতক্ষীরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছে।

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ নির্দেশ পেলে প্রয়োজনে পুলিশ তাকে ইসলামী শরিয়ত মতে দাফন করার ব্যবস্থা করবে। ওসি আরও বলেন তিনি এমন একটি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন বলেন, আমি সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হয়ে দাফনের নির্দেশ পেয়েছি। এই নির্দেশের কপি কলারোয়া থানায় পৌঁছালেই পুলিশ তার দাফনের ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান । সন্ধ্যা নাগাদ বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে বলেও  জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝড়ে লন্ডভন্ড নড়াইলের একটি মাদ্রাসা

সম্পত্তি নিয়ে দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বে ৩৬ ঘন্টা ধরে ঘরে পচল স্বামীর লাশ

আপডেট টাইম ০৮:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অগাস্ট ২০১৮

মরেও যেনো শান্তি পেলেন না সাতক্ষীরার বিশিষ্ট আইনজীবী মো. ইয়ার আলি (৮০)। ষষ্ঠবারের মতো মস্তিস্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল আটটার দিকে মারা যান তিনি। পরে তাকে নিয়ে আসা হয় সাতক্ষীরার  বাড়ি কলরোয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে।

তবে বাড়িতে আনার পর ৩৬ ঘন্টা পার হলেও  তার দাফনের কাজ সম্পন্ন হতে পারেনি । পারিবারিক জটিলতায় আটকে আছে তার  দাফনের কাজ। এরই মধ্যে তার মরদেহে পচন ধরেছে। মঙ্গলবার বিকালে এই রিপোর্ট লেখার সময়ও তার মরদেহ ছিল প্রয়াত আইনজীবীর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে। দাফনে বাধা দিয়েছেন প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও তার ছেলেমেয়েরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অ্যাডভোকেট ইয়ার  আলির দুই স্ত্রীর প্রথমা জোহরা খাতুনের চার মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন। অপরদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী শাহিদা খানমের রয়েছে একমাত্র ছেলে প্রিন্স।  ইয়ার আলি তার জীবদ্দশায় তার ৩০ বিঘারও বেশি সম্পত্তি, কোটি টাকার উপরের ব্যাংক ব্যালান্স এমনকি বসতবাড়ির পুরোটাই তার দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী ও ছেলে প্রিন্সের নামে লিখে দিয়েছেন।

এখন জমি বাড়ি ও গচ্ছিত টাকাা এক কড়িও পাননি তার  প্রথমপক্ষের স্ত্রী ও তার সন্তানরা। অ্যাডভোকেট ইয়ার আলির মৃত্যুর পর তারা পৈতৃক সম্পত্তি ও টাকাকড়ির দাবি করেছেন। এসব না পাওয়া পর্যন্ত তারা ইয়ার আলিকে দাফন করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এরই মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য তার বাড়িতে গেছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেনসহ আইনজীবীদের একটি দল। একই সাথে সেখানে বারবার গেছেন কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) মারুফ আহম্মদ এবং স্থানীয় কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনসহ অনেকেই। তারা বিষয়টি সমঝোতামূলকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ফলে মঙ্গলবার বিকাল নাগাদও তাকে দাফন করা হয়নি।

এরই মধ্যে মরদেহে পচন ধরতে শুরু করেছে বলে জানান এলাকাবাসী। চেয়ারম্যান জানান তার পেট ফুলে গেছে। নাক ও কান বেয়ে রক্ত আসছে। দুর্গন্ধ ছুটছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলির প্রথমপক্ষের স্ত্রী জোহরা খাতুনের ছেলে অ্যাড. হাসনাত কবির জানান , আমার বাবা আমার  মা ও তার চার মেয়ে এবং আমাকে সহ প্রথমপক্ষের সবাইকে জমি টাকা ও বাড়ির স্বত্ত্ব থেকে বঞ্চিত করে গেছেন।  তিনি আমাদের কাউকে এক কানাকড়িও দেননি।  তিনি তার সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয়পক্ষের মা ও তার ছেলে প্রিন্সকে দিয়ে গেছেন। এতেই আমরা ক্ষুব্ধ। সহায় সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ আমাদের নামে না দেওয়া পর্যন্ত তার লাশ দাফন করতে দেওয়া হবে না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বারবার চেষ্টা করেও দাফনে নিজের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন বলেন প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড়।

তিনি বলেন, প্রথমপক্ষ বলছে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তাদেরকে কিছু সম্পদ দিতে হবে। অপরদিকে দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী ও তার সন্তানদের দাবি প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলিকে গত ৩২ বছর ধরে সেবা দিচ্ছেন তারা। এজন্য তিনি সন্তুষ্ট  হয়ে সব কিছু তাদের নামে দিয়ে গেছেন। এর থেকে এক শতক জমিও আমরা দেব না।

চেয়ারম্যান জানান,  গ্রামের ৯৯ শতাংশ মানুষ চায় প্রথমপক্ষকে কিছু সম্পদ দিতে। কিন্তু তাদের চাওয়াও নিস্ফল হয়ে গেছে। তবে দ্বিতীয়পক্ষের দাবি প্রয়াত ইয়ার আলি তার পৈতৃক জমির পুরোটাই প্রথমপক্ষকে দিয়ে গেছেন। তবে নিজের উপার্জিত অর্থ ও সম্পদের কোনা অংশ তাদের দেননি।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়পক্ষ সাড়ে সাত বিঘা জমি নিজেদের নামে রেখে বাকিটা ভাগবাটোয়ারা করে দিতে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লেখালেখি চলছে। এটি হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহম্মদ জানান প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলির দাফন সম্পন্ন করার নির্দেশ চেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি সাতক্ষীরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছে।

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ নির্দেশ পেলে প্রয়োজনে পুলিশ তাকে ইসলামী শরিয়ত মতে দাফন করার ব্যবস্থা করবে। ওসি আরও বলেন তিনি এমন একটি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন বলেন, আমি সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হয়ে দাফনের নির্দেশ পেয়েছি। এই নির্দেশের কপি কলারোয়া থানায় পৌঁছালেই পুলিশ তার দাফনের ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান । সন্ধ্যা নাগাদ বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে বলেও  জানান তিনি।