শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

ফাইল ফটো

মাতৃভূমির খবর ডেস্ক:   ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে মানবসম্পদ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ। তাই আমাদের সেই মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে অবশ্যই আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনব্যাপী ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বৈশ্বিক নেতাদের বিনিয়োগ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এই সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি পাঁচ দিনের সরকারি সফরে জেনেভায় রয়েছেন।

ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডায় আমাদের প্রতিশ্রুতির বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিশ্বায়নের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিল্প বিপ্লব ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে গতি আনতে বছরের পর বছর সময় লেগেছে। বিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে যে যোগাযোগ বেড়েছে, তা পণ্য ও সেবা স্থানান্তরে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তবে এর সুফল সবার কাছে সমভাবে পৌঁছেনি। বিশ্বায়ন থেকে যেন আরও বেশি মানুষ সুফল পেতে পারে, এ জন্য বিনিয়োগ নীতি সময়োপযোগী করার পরামর্শ দেন তিনি।

আংকটার্ডের ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট-২০১৮-এর উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০১৭ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ২৩ শতাংশ কমেছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ২০১৬ সালে এফডিআাই ১০ শতাংশ কমার পর আর পুনরুদ্ধার হয়নি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে গত বছরে এফডিআই ১৭ শতাংশ কমেছিল। গত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এলডিসি থেকে সুষ্ঠুভাবে উত্তরণের জন্য একটি যৌক্তিক সময় পর্যন্ত আবিষ্কারভিত্তিক ব্যবস্থা রেখে আমাদের সহায়তা করার প্রয়োজন। আমাদের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা এবং টিআরআইপি চুক্তির ৬৬.২ ও ৬৭ ধারার আলোকে বেসরকারি এফডিআই থেকে প্রযুক্তি সহায়তা বাড়ানো আবশ্যক।’

উন্মুক্ত আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল ও অনুধাবনযোগ্য কাঠামো গঠনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘এসব ও অনুরূপ অন্যান্য পদক্ষেপ এলডিসিতে আরও বেশি এফডিআই প্রবাহ নিশ্চিত করবে, যা ২০৩১ সাল নাগাদ এসডিজি বাস্তবায়নে ব্যাপক সহায়তা দেবে।’

প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা ও দীর্ঘদিন এখানে থাকা ১১ লাখ রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আবদুল হামিদ বলেন, এ বিষয়টি এদেশের অর্থনীতি ও সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ সম্প্রীতি ও অগ্রগতি বজায় রাখতে এখনও নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে, বিশেষ করে তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং সঠিক বিনিয়োগের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা ২০২১ সাল নাগাদ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছি।

অনুষ্ঠানে মোঙ্গলিয়া ও মন্টিনিগ্রো, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আংকটার্ডের মহাসচিব মুখিসা কিতুই, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ব্যবসায়ী নেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ব বিনিয়োগ ফোরাম (ডব্লিউআইএফ) একটি উচ্চ পর্যায়ের দ্বিবার্ষিক বহুমুখী অংশীজন সমাবেশ, যেখানে বিশ্বের বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা ও কার্যক্রম সংক্রান্ত মতবিনিময়ের সুযোগ থাকে। এখানে আন্তর্জাতিকীকরণ ও শিল্পায়নের এই নতুন যুগে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জর বিষয়ও প্রধান্য পায়। এর লক্ষ্য হচ্ছে— ‘ইনভেস্টমেন্ট ফর ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে বিতর্ক ও আলোচনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই ও সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখা। বাসস।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar