ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে অনেকেই সফলতা লাভ করেছেন ……ডিসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট চর হেয়ার ও সোনারচর। ২ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন টঙ্গী পূর্ব এবং পশ্চিম থানা । সম্মেলনের নামে আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই,,,,,,, ফারুক খান।। বিএনপি- জামায়াতের নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রস্তুত আছি- আসিফ আহম্মেদ আনিস মালদ্বীপে আলোকিত চাঁদপুর সংগঠনের সংবর্ধনায় কাজী হাবিবুর রহমান লাঠি খেলা উৎসব ২০২২ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন পুলিশের মবিলাইজেশন কন্টিনজেন্টের বার্ষিক মহড়ার উদ্বোধন কমলগঞ্জে দোকানে চুরি, ১১ চোরাই মোবাইলসহ গ্রেফতার ১ বাকেরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার-৩

শিক্ষক সংকটে চন্দ্রদ্বীপে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা।

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ইউনিয়ন চন্দ্রদ্বীপ। খুব সহজে এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে না। বর্তমানে শিক্ষক সংকটের কারণে সদর থেকে বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়নের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে উপজেলার শিক্ষার হার একেবারে নগণ্য। তবে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ উদাসীন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মোট ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৫০ জন আর শিক্ষকের পদ রয়েছে ৩৩টি। কিন্তু বাস্তবে ছয়টি বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন শিক্ষক। এর মধ্যে চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন তিনজন, দক্ষিণ চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজন, চররায়সাহেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন, চরকচুয়া-মিয়াজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজন, চরব্যারেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন ও আসম ফিরোজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে কখনো একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করাতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, ‘দারিদ্র্যতার কারণে এখানকার শিশুরা সহজে স্কুলমুখী হয় না। তার ওপর শিক্ষক স্বল্পতার কারণে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এখানে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন শিক্ষক বদলি এবং সংযুক্তি বন্ধ করে রাখায় এ সমস্যার সমাধানও হচ্ছে না।’
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আফরোজা বেগম বলেন, ‘এমনিতেই আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তার উপর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা না হলে আরও পিছিয়ে যাব। তিনি বলেন, দুর্গম জনপদ হওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করেন না। আমি চন্দ্রদ্বীপের প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শূ্ন্যপদ পূরণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাচ মোল্লা বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাত্র ২-৩ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ বলেন, ‘বদলি ও সংযুক্তি বন্ধ থাকায় সেখানে শিক্ষক পোস্টিং দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বদলির আদেশ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ###

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে অনেকেই সফলতা লাভ করেছেন ……ডিসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম

শিক্ষক সংকটে চন্দ্রদ্বীপে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা।

আপডেট টাইম ১১:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ইউনিয়ন চন্দ্রদ্বীপ। খুব সহজে এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে না। বর্তমানে শিক্ষক সংকটের কারণে সদর থেকে বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়নের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে উপজেলার শিক্ষার হার একেবারে নগণ্য। তবে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ উদাসীন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মোট ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৫০ জন আর শিক্ষকের পদ রয়েছে ৩৩টি। কিন্তু বাস্তবে ছয়টি বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন শিক্ষক। এর মধ্যে চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন তিনজন, দক্ষিণ চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজন, চররায়সাহেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন, চরকচুয়া-মিয়াজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজন, চরব্যারেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন ও আসম ফিরোজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে কখনো একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করাতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, ‘দারিদ্র্যতার কারণে এখানকার শিশুরা সহজে স্কুলমুখী হয় না। তার ওপর শিক্ষক স্বল্পতার কারণে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এখানে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন শিক্ষক বদলি এবং সংযুক্তি বন্ধ করে রাখায় এ সমস্যার সমাধানও হচ্ছে না।’
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আফরোজা বেগম বলেন, ‘এমনিতেই আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তার উপর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা না হলে আরও পিছিয়ে যাব। তিনি বলেন, দুর্গম জনপদ হওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করেন না। আমি চন্দ্রদ্বীপের প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শূ্ন্যপদ পূরণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাচ মোল্লা বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাত্র ২-৩ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ বলেন, ‘বদলি ও সংযুক্তি বন্ধ থাকায় সেখানে শিক্ষক পোস্টিং দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বদলির আদেশ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ###