শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০২:১০ অপরাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণকারী সেই ‘কাদের’ জেল থেকে বেরিয়ে সাক্ষীকে মেরে ফেলার চেষ্টা

আমজাদ হোসেন , লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি ।
লক্ষ্মীপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ মামলার আসামি জেল থেকে বেরিয়ে সাক্ষীকে হত্যার চেষ্টা করে । এতে ব্যর্থ হয়ে ধর্ষণের সাক্ষীকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে । এ সময় হাতে থাকা সাক্ষীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় । ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২ দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পালেরহাট বাজারের জাহানাবাদ গ্রামে ।
সরে জমিনে গিয়ে জানা যায় যে, লক্ষ্মীপুর  সদর উপজেলার ২নং দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড জাহানাবাদ গ্রামের কামার বাড়ির মৃত সুলতান আহম্মেদের বখাটে ছেলে আব্দুল কাদের (৩৫) চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর গ্রামের লিটন ড্রাইভার বাড়ির মৃত রমজান আলীর মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে (৩৫) কে ফুসলিয়ে তার ঘরে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে । স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে কামার বাড়ির দরজায় দোকানের সামনে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে ধর্ষণকারীকে । পরে ধর্ষক আব্দুল কাদেরের ভাই মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি পালেরহাট পাবলিক হাই স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও মুনচুর আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর নুর প্রকাশ কামাল ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে দুটো চড় দিয়ে কাদেরকে ছেড়ে দেন ।
এই নিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারীর বড় ভাই আবুল কাশেম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় আবদুল কাদেরকে বিবাদী করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন । যাহার মামলা নং-৬ । পরে র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১১) অভিযান চালিয়ে ধর্ষক আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করে ।
প্রায় এক মাস কারাবাস শেষে জামিনে বেরিয়ে সাক্ষী একই এলাকার খোরশেদ আলমের স্ত্রী আকলিমা আক্তার (৪০) কে মুক্তারামপুর মালেক মেম্বারের বাড়ির সামনে নির্জন রাস্তায় একা পেয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে ।  আকলিমা আক্তারের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বেদম মারধর করে তার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় ।  এ সময় ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স এর বীমা কিস্তি কালেকশনের ১লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল, ১ জোড়া রুপার নুপুর, ১ জোড়া সোনার কানের দুল, ১টা সোনার আংটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় কাদের ।
মারধোরের প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন খোকন বলেন, মালেক মেম্বারের বাড়ির সামনে রাস্তা এতো নির্জন যে, এখানে দিনে দুপুরেও মানুষকে খুন করলে কেউ দেখবে না । এ পথে যাওয়ার সময় দেখলাম এই মহিলাকে বেদম মারধর করছে কাদের । মারের চোটে মহিলার কান দিয়ে রক্ত পড়ছে, চোখ ফুলে গেছে ।  মহিলাটি হাউমাউ করে কাঁদছে ।
অপর আরেক প্রত্যক্ষদর্শী হাজী মাসুদ বলেন, আকলিমা আক্তার একজন বীমাকর্মী । সে বীমার কিস্তি আদায় করে বাড়ি ফিরছিল । এ সময় পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণকারী আব্দুল কাদের তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে দেয় । আকলিমার চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে আসলে কাদের ঘটনারস্থল থেকে চলে যায় ।
পরে এই নিয়ে আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় ধর্ষক আবদুল কাদেরকে আসামি করে মারধোরের মামলা দায়ের করেন । যাহার মামলা নং-৫২ ।
আবদুল কাদের তার ঘরে সুন্দরী বউ রেখে এর পূর্বেও বহু নারীকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভনে ধর্ষণ করে । সে কখনো নিজেকে ডাক্তার কখনো সাংবাদিক বা জজ কোর্টের উকিল পরিচয় দিয়ে নিরীহ ও অসহায় নারীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল । লক্ষ্মীপুর পাসপোর্ট অফিসের পাশেও একই উপায়ে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করেছিল । বিসিক শিল্প নগরীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমার মেয়েকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গেছে কাদের ।  স্বার্থ শেষে তাকে আর পাওয়া যায়নি ।  এমনিভাবে লম্পট আব্দুল কাদের তার ভাই আব্দুর নূর এর আস্ফালনে নারী ভোগের পাহাড় বানিয়েছে ।
আবদুল কাদেরের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করলে তার আপন মেঝো ভাই আবদুর নুর ওরফে (প্রকাশ কামাল) কোনো সঠিক জবাব না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ঘরে ঢুকে যান ।  এক প্রশ্নের জবাবে তিনি রুক্ষ মেজাজে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন,  আপনাদের যা মন চাই, তা লেখেন । আপনারা কি আর লিখবেন তা আমার ভালো করে জানা আছে । তবে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কাদেরকে পাওয়া যায়নি ।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ. কে.এম আজিজুর রহমান মিয়া,র কাছে জানতে গেলে তিনি বলেন, আবদুল কাদের একটা লম্পট, চরিত্রহীন প্রকৃতির লোক । সে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের দায়ে জেল খেটেছে ।  বেরিয়ে আবার সেই সাক্ষীকে আবার মারধোর করে । এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, তদন্ত শেষে বলা যাবে বিস্তারিত ।
নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar