বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

রোজার যে পুরস্কার মুহাম্মাদ (দঃ)’র উম্মত ছাড়া কাউকে দেয়া হয়নি

মাওলানা মোঃ রাহাত উল্লাহ:

রামাযানের মাসের রোযা এমন মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত, যার প্রতিদান মহান আল্লাহ নিজেই।যে ইবাদত ও মাসের সম্পর্ক স্বয়ং আল্লাহর সাথে।রোজাদারের নিদ্রা ইবাদতের সমতুল্য, তার চুপ থাকা তসবিহ পাঠের সমতুল্য।সে সামান্য ইবাদতে অন্য সময় অপেক্ষা অধিকতর সওয়াবের অধিকারী হয়। হাদিসে পাকে এসেছে,ঈমান ও এহতেসাবের সঙ্গে যে ব্যক্তি রোজা রাখে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।কেননা রোযা ইবাদতে যেখানে বান্দার ইন্দ্রিয় কাজ করে না। তাই আল্লাহ ব্যতিত কেউ রোযা সম্পর্কে অবগত হতে পারে না। ফলে রোযা বান্দা ও প্রভুর মাঝে একটি গোপন ইবাদতে পরিণত হল।যেহেতু রোযা এমন একটি ইবাদত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। কেউ কেউ বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা রোযা কে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন যাতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক স্থাপন করা হয় না।

হাদিসে কুদসিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন। রোজাদারের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, মানুষ যত প্রকার নেক কাজ করে আমি তার সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ বৃদ্ধি করে দিই। কিন্তু রোজা এই নিয়মের বাইরে। রোজার সওয়াব একই নিয়মে সীমাবদ্ধ বা সীমিত নয়। রোজার সওয়াবের পুরস্কার স্বয়ং আমি প্রদান করব অথবা আল্লাহ স্বয়ং নিজে রোযার পুরস্কার হবেন।কারণ, কেউ মানুষকে ফাঁকি দিয়ে পানাহার বা ভক্ষণ করতে পারে। লুকিয়ে করা এসব কাজ মানুষের চোখকে ফাঁকি দিয়ে করা সম্ভব হলেও আল্লাহকে ফাঁকি দিয়ে করা সম্ভব নয়।এজন্য আল্লাহ রোজার সওয়াব ও পুরস্কার কে নিজের কাছে রেখেছেন। আর আল্লাহ যখন আমার আপনার হয়ে যাবেন তখন সব কিছুই আমার আপনার হয়ে যাবে। আল্লাহর উক্তি الصوم لي وانا اجزي به রমজানের রোজার সওয়াব সম্পর্কে আল্লাহ তায়লা নিজেই এরশাদ করেন- ‘নিশ্চয় রোজা আমার জন্য, আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দিব। –(সহিহ বোখারি ও মুসলিম)।

অথচ সকল আমাল তাঁর জন্য এবং তিনিই তাঁর পুরস্কার দেন। তাহলে এর হেতু কি? এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসীনগনের বিভিন্ন মতামত রয়েছে—

১.অন্যান্য ইবাদতের মত রোযার মধ্যে লৌকিকতা (রিয়া) হয় না। কেননা আদম সন্তানের সকল ইবাদতে রিয়ার ব্যাধি সৃষ্টি হয়। আর রোযা হল অন্তরের বিদ্যমান বিষয়। আর রোযা ছাড়া মোটামুটি সকল আমল নড়াচড়ার মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়।

২.রোযার সওয়াবের পরিমাণ ও প্রতিদান বেশী পাওয়ার দিক দিয়ে এত ব্যাপক যে,অন্যান্য আমল থেকে ভিন্ন।আর অন্যান্য ইবাদত কিছু লোক অবগত হতে পারে।

৩.আল্লাহর দিকে বস্তুত সম্মান ও মর্যাদা হিসেবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

৪.খানা পিনা ইত্যাদি কাম্য বস্ত হতে বিরত থাকা আল্লাহর গুনাবলীর অন্তরভুক্ত।যেহেতু রোজাদার আল্লাহর অনুকুল গুনের সাহায্যে তাঁর নৈকট্য লাভ করে। বিধায় রোযাকে তারঁ দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

৫.রোযা বান্দার জন্য কিয়ামতের মাঠে সুপারিশ করবে।

৬.রোযা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল।

৭.রোযার প্রতিদান হল মহান আল্লাহর সাথে ( দিদার)সাক্ষাত লাভে ধন্য হওয়া।

৮.মহান আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলা দোভাষী ছাড়া।

৯.রোযাদারগণকে হাউজে কাউসারের পানি পান করানে হবে।

১০.রোযাদারগন রাইয়্যান নামক গেইট দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

১১. মহান আল্লাহ নিজেই রোজার সওয়াবের পুরস্কার হবেন।

১২.মহান আল্লাহ স্বয়ং নিজ হাতে রোযাদারের পুরস্কার বন্টন করবেন।

আল্লাহ তায়ালা তাঁর কাজের (রোজার) প্রতিদান তিনি নিজে দেবেন। যদি বান্দা রোজার সুনান,আদব ও শর্তসমূহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করে রোযা রাখে,তাহলে আল্লাহ রোজাদারকে পিপাসার বিনিময়ে দেবেন হাউজে কাউসারের সুমিষ্ট ঠাণ্ডা পানি।

সুতরাং আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করে কুরআন নাজিলের মাস রমজানে রোজা পালন করা। রোজা পালনের মাধ্যমে বান্দার জীবনে মহান আল্লাহ তাআলা বিশেষ বিশেষ গুণের বাস্তবায়ন করা জরুরি।

অন্যদিকে হাদিসে কুদসিতে এসেছে, বান্দা আমার জন্যই তার কামনা-বাসনা ও পানাহার ত্যাগ করে। রোজাদারের দু’টি আনন্দ। একটি ইফতার করার সময় আর অপরটি কেয়ামাতে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। যার হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন, তাঁর কসম! রোজাদারের মুখের গন্ধ কেয়ামাতের দিন আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়েও বেশি খোশবুদার হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

কিন্তু উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য এমন ৫টি পুরস্কার রয়েছে, যা অন্য কোনো নবি-রাসুলের উম্মতকে দেয়া হয়নি। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বায়হাকিতে তা বর্ণিত হয়েছে।

হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আগের কোনো উম্মতকে দেয়া হয়নি। আর তাহলো-

১.রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়ে উত্তম।

২.রোজাদারের প্রতি আল্লাহ এত বেশি খুশি হন, তার কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে মন্দ লাগবে না।

রমজান মাসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা

১.ফরজ রোজা পালন
২. কুরআন নাজিল
৩. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার মাস
৪. জাহান্নামের দরজা বন্ধ
৫. শয়তানকে শৃঙ্খাবদ্ধ করা
৬. লাইলাতুল কদর পাওয়া
৭. দোয়া কবুল হওয়া
৮. জাহান্নাম থেকে মুক্তি
৯. ক্ষমা পাওয়া
১০. সৎ কাজের প্রতিদান বহুগুণে বেড়ে যাওয়া
১১. হজের সাওয়াব পাওয়া
১২. রোজাদারের বিশেষ সম্মান

রোজা পালন ফরজ রমজান মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এ মাসজুড়ে রোজা পালন করা ফরজ। কুরআনুল কারিমের রোজা পালনের নির্দেশ এসেছে এভাবে-فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ‘কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)

কুরআন নাজিলের মাসরহমতের বার্তাবাহী মাস রমজানের অরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো- এটি কুরআন নাজিলের মাস। রমজানের এক সম্মানিত রাতে (লাইলাতুল কদরে) আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদির জীবন পরিচালনার গাইড হিসেবে মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। একাধিক আয়াতে তা এভাবে বর্ণিত হয়েছে– شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ রমজান মাস-ই হল সেই মাস; যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন। যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)

– وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ – إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَশপথ সুস্পষ্ট (কুরআনের) কিতাবের। আমি একে নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।’ (সুরা দুখান – إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ‘আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি শবে-কদরে।’ (সুরা কদর : আয়াত ১)

জান্নাতের দরজা খুলে দেয়ার মাসঃ

রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়। রমজানের সম্মানে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এ মাসর বরকত লাভে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

হাদিসে এসেছে-হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করে রাখা হয়।’ (বুখারি, মুসলিম)এ বৈশিষ্ট্যের অন্যতম ফলাফল হলো- রমজান মাসে মানুষ ধর্ম-কর্ম ও নেক আমলের দিকে বেশি তৎপর হয় এবং নতুন-পুরাতন সব মানুষকেই মসজিদমুখী হতে দেখা যায়।

লাইলাতুল কদরের মাসঃ

এ মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘লাইলাতুল কদর’। রাতটি হাজার মাসের (৮৩ বছর ৪ মাস) ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এ রাতে কুরআনুল কারিম নাজিল করা হয়েছে। রমজানের শেষ দশকের বেজোড় যে কোনো একটি রাতই ‘লাইলাতুল কদর’। আল্লাহ তাআলা বলেন– وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ – إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَশপথ সুস্পষ্ট (কুরআনের) কিতাবের। আমি একে নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।’ (সুরা দুখান : আয়াত ২-৩) – إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ- وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ – لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ – تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ – سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ‘আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন কি লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সুরা কদর : আয়াত ১-৫)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাছে রমজান মাস আগমন করেছে। … এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।’ (নাসাঈ)

দোয়া কবুল হওয়ার মাসঃ

রমজান মাসের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেন বলে জানিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-‘রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে দোয়া করে। আর তা কবুল হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহামদ)

জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাসঃ

এ মাসকে তিন দশকে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে শেষ দশক হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। হাদিসে এসেছে-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-‘আল্লাহ তাআলা (রমজান মাসের) প্রতি রাত ও দিনে অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা করেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় প্রত্যেক মুসলমানের দোয়া ‘মোনাজাত’ কবুল হয়ে থাকে।’ (মুসনাদে আহামদ)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন রমজানের প্রথম রাত আগমন করে, তখন শয়তান এবং অবাধ্য জিনদের আবদ্ধ করা হয়। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর একটি দরজাও খোলা হয় না। (এ মাসের) প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ডাকতে থাকে যে, হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী! তুমি আরও অগ্রসরহও। হে অসৎ কাজের পথিক! তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ কর। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন?’ (তিরমিজি)

ক্ষমা পাওয়ার মাসঃ

ক্ষমার মাস রমজান। রমজান পাওয়ার পরও যারা নিজেকে পাপ থেকে মুক্ত করতে পারল না; তাদের ধিক্কার জানিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৩ ব্যক্তির ব্যাপারে) বলেছেন– ‘ওই ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক, যার সামনে আমার আলোচনা হলো; কিন্তু সে আমার প্রতি দরূপ পড়লো না।- ওই ব্যক্তির নাম ধূলায় ধুসরিত হোক, যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল; অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না।- ওই ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক, যে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেল; কিন্তু তাদের মধ্যমে জান্নাত উপার্জন করতে পারল না।’ (তিরমিজি)

সৎ কাজের প্রতিদান বেড়ে যাওয়ার মাসঃ

রমজান মাসে ভালো কাজের প্রতিদান বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো একটি নফল ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করল। আর রমজানে যে ব্যক্তি একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায় করল।’ (ইবনে খুজায়মা)

হজের সাওয়াব পাওয়ার মাসঃ

রমজান মাসে ওমরাহজ পালনে রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা। এ মাসে একটি ওমরাহ করলে পাওয়া যাবে হজের সাওয়াব। আর তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আদায় করার মর্যাদা রাখে। হাদিসে এসেছে– হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজ থেকে ফিরে আসলেন তখন উম্মে সিনান নামক এক আনসারি নারীকে জিজ্ঞাসা করলেন- কে তোমাকে হজ করা থেকে নিষেধ করল?উত্তরে ওই নারী সাহাবি বলল- উমুকে পিতা (তার স্বামী)। তার দুই জন পানি প্রদানকারী রয়েছে, তাদের একজন হজ পালন করবে, অপরজন আমাদের জমিতে সেচ দেবে। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেন-‘রমজান মাসের ওমরাহ আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (বুখারি)

– হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন আনসারি নারীকে বললেন, ‘যখন রমজান মাস আসে তখন তুমি ওমরাহ কর। কেননা রমজান মাসের ওমরাহ হজের মর্যাদা রাখে।’ (নাসাঈ)

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক নারী এসে জিজ্ঞাসা করল- কোন ইবাদত আপন সঙ্গী হয়ে হজ করার সমতুল্য সাওয়াব পাওয়া যায়? উত্তরে তিনি বললেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ করা।’ (আবু দাউদ)

রোজাদারের বিশেষ সম্মানের মাসঃ

রমজান মাসের রোজা পালনকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সম্মান। জান্নাতের একটি দরজা শুধু রমজানের রোজা পালনকারীদের জন্যই নির্ধারিত। এ দরজা দিয়ে অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। হাদিসে এসেছে-হজরত খালেদ ইবনে মাখলাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে ‘রাইয়ান’। কেয়ামতের দিন শুধু রোজাদারগণ এ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা ব্যতিত অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে করার সুযোগ পাবে না। ঘোষণা করা হবে-রোজাদারগণ কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ব্যতিত এ দরজা দিয়ে অন্য কেউ প্রবেশ করবে না। তারা জান্নাতে প্রবেশের পর সে দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। আর কেউ তাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে না।’ (বুখারি)

এ ছাড়াও রমজান মাসের অনেক ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে। যা মেনে চলা প্রত্যেম মুমিন মুসলমানের একান্ত করণীয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের ফজিলত ও বিশেষ বেশিষ্ট্যগুলো যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন। রমজানের রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত লাভে তাওফিক দান করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar