বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিচালককে দৃশ্যমান, নির্লজ্জ, অর্থলিপ্সু চাটুকারী হতে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে “দেশ সেবায় ব্রতী হউন”এন. এম. ছানাউল্লাহ -সাবেক কোম্পানী সার্জেন্ট মেজর (বিএনসিসি)

রাষ্ট্রের সৃষ্টি প্রজাতন্ত্রের স্বীকৃতি তাই রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের চিন্তা প্রসুত ফল গণতান্ত্রিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রজাতন্ত্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন। এ হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে পরিচালক নির্বাচন করতে হলে প্রাথমিক দৃষ্টিতে আদর্শবান, সৎ, সচ্চ বিত্তবান প্রতিষ্ঠান চালনায় দুরদর্শিকতাসহ আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। একজন সচ্চরিত্রবান পরিচালক দেশকাল জাতির নিকট অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। তার মধ্যে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ হতে নিজেকে মুক্ত রেখে সতর্ক অবস্থায় দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। আজ সমাজে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সৎ লোকের লেবাসে অসৎ ও তেলবাজের মহড়া বিরাজমান। চলমান অবস্থা হতে উত্তরণের লক্ষে পরিচালককে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পূর্বানুমান ও সম্যক ধারণা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। নতুবা তেলবাজ-লেবাসধারীর খপ্পরে পড়ে নিজের অস্তিত্বসহ রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে। সার্বিক পরিস্থিতি সামলাতে অপারগ মনে হলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না করে চাকরি হতে ইস্তফা নেওয়াই শ্রেয়। প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আমার ব্যক্তিগত ৮দফা মত প্রকাশ করলাম। বাস্তব প্রয়োগে যদি কোন উপকারে আসি তবে নিজেকে ধণ্য মনে করব। ১। পরিচালক নিজেকে জাতির একজন আদর্শিক সৈনিক হিসাবে রাজনৈতিক আবেগ বর্জন সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের বৃহৎ স্বার্থে (নিজ দায়িত্বে) সতর্কতার সহিত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ২। প্রতিষ্ঠনের উন্নয়ন কল্পে সার্বিক পরিস্থিতি অবগত হয়ে (আবেগ বর্জন সাপেক্ষে) ধীর গতিতে অর্থবহ সিদ্ধান্ত পৌছাতে হবে। ৩। পরিচালককে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের ব্যাপারে পূর্বানুমান রাখতে হবে বিশেষ করে দূর্নীতিবাজ, তেলবাজ, তোষামোদকারী ও মানবতা বিরোধীদের প্রতি নিজস্ব সতর্কতা অবলম্বনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৪। প্রতিষ্ঠানের সর্বক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর ব্যাপারে মাঝে মধ্যে (সম্ভব হলে) অধীনস্থদের সহিত আন্তরিকতার সহিত সার্বিক বিষয়ে খোলামেলা পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। ৫। প্রতিষ্ঠানে কর্মরতাদের সমন্বয়ে মাঝে মধ্যে পারিবারিক আনন্দ সম্মেলন করতে হবে এতে পরিচালক ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরীর মাধ্যমে কর্মরত সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টির মধ্যেমে সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ৬। প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা তৈলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও মানবতাবিরোধী তাদেরকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ বিপরীতে যারা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নীরবে স্ব-স্ব কাজ নিষ্ঠার সহিত সম্পদনে নিবেদিত তাদেরকে খোঁজ করে বের করে উপযুক্ত মর্যাদার আসনে স্থান দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। ইহাতে কর্মঠদের মনোবল স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন ঘটবে। ৭। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালককে মেধা ও যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে। নতুবা লক্ষ্যে পৌঁছা দূরুহ ব্যাপার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকবে। ৮। প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের হাত উন্মুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। উপরোল্লিখিত সুপারিশ সমূহ আন্তরিকতার সহিত বাস্তবায়ন করতে পারলে আত্মশুদ্ধি, সত্যদ্রষ্ঠা ও মুত্তাকীসহ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার আদর্শিক বাস্তব রূপ শুধুই সময়ের ব্যাপার। আল্লাহ সকলকে সু-মতি দান করুন… আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar