বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে তুলেছে ময়লা আবর্জনার স্তূপের পুকুর, বড় ধরণের ভাইরাসের আশংঙ্কা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : আমজাদ হোসেন ।  ২০১০ সালের ৫৬ নং আইন এ বলা হয়েছে যদি কেউ পরিবেশ দূষণ করে থাকে তাহলে তার সর্বনিম্ন ৫০ টাকা জরিমানা এবং, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে । পরিবেশ সংরক্ষণ অর্থ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের গুনগত ও পরিমাণগত মান উন্নয়ন এবং গুনগত ও পরিমাণগত মানের অবনতি রোধ মূলক পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান তত্ত্বাবধান ও সংরক্ষণের আইন এ পরিবেশ আইন । বায়ুদূষণের একটি ব্যাপার হচ্ছে , এর কারনে মানুষের তৎক্ষণাৎ বা দ্রুত মৃত্যু হয না । এটা একধরনের নীরব ঘাতকের মতো । এর কারণে মানুষ দীর্ঘ মেয়াদে নানা ধরনের রোগে ভোগে । বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে , শ্বাসকষ্টের প্রধান কারনই হচ্ছে এই বায়ুদূষণ । শেষ কথা হলো, আমাদের দেশে পরিবেশ আইন আছে । সরকারের উচিত হবে, শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেই আইন মেনে চলতে বাধ্য করা । আর দূষণ কমানোর জন্য নানামুখী ব্যাবস্থা তো নিতেই হবে । সরকারি আইন কে তোয়াক্কা না করে লক্ষ্মীপুর রায়পুর হাইওয়ে রোড়ের পাশে বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে তুলেছেন পরিবেশ দূষণের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর নোংরা আবর্জনার স্তূপ পুকুর । সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গাতে এ ময়লা আবর্জনার স্তূপ গড়ে তুলেছেন বিসিক শিল্প নগরীর বেকারী ও চকলেট ফ্যাক্টরির মালিকরা । অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, রায়পুর মহাসড়কের উত্তর পাশে বিসিক শিল্পনগরীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গার একটি পুকুরে পলিথিন, প্লাস্টিক, পঁচা ডিম, খামির, নানান ধরনের ফ্লেভার যুক্ত কেমিক্যাল, কেমিক্যাল যুক্ত অ-পরিস্কার পানি, বায়ুর সাথে সাথে কারো কারো শ্বাসকষ্টের ও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ।  স্থানীয় এলাকাবাসীরা গণমাধ্যমকর্মী়দেরকে জানিয়েছেন যে , নেক্সষ্ট ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও সুলতানিয়া বেকারীর  পঁচা গলা দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনা পালানোর কারনেই এ দুর্গন্ধ ছড়ায় । এখান থেকেই মশামাছির বিস্তার হয় । ডেঙ্গুর আতঙ্ক সৃষ্টি হয় । পরিবেশ দূষণ হয়, সেফটি ট্যাংকির পানির সাথে ময়লা আবর্জনা আসে । নেক্সষ্ট চকলেট ফ্যাক্টরির চকলেট ফ্লেভার কেমিক্যাল এসে বড় ধরণের ক্ষতি করে । নেক্সষ্ট ফুড এর চুন,পলিথিন, প্লাস্টিক, বিপুল আকারে ক্ষতি ধারণ করে ।আমরা এলাকা বাসী ফ্যাক্টরির মালিকদের অত্যাচারে এলাকাতে চলতেও এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে । এ নোংরা আবর্জনা পুকুর থেকে হতে পারে করোনা  ভাইরাস এর মতো মহামারী রোগ । এ নোংরা আবর্জনা পুকুরের কারণে পথচারীরা আমাদের এলাকা বাসীদের ছিছি করে । আমরা প্রসাশনের কাছে স্থানীয় এলাকাবাসী দাবি জানায় যেন নেক্সষ্ট ফুড, এবং সুলতানিয়া বেকারী বন্ধ করে দেওয়া হয় , আর নোংরা আবর্জনা পুকুর যেনো পরিষ্কার করে দেওয়া হয় । পুকুরে ময়লা আবর্জনা পালানোর বিষয়ে নেক্সষ্ট ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ম্যানেজার মিন্টু  বলেন, পুকুরে ময়লা আমরা পালায় না, যদিও পালায় থাকি তাহলে সেটা বিসিক এর কালভার্টের ড্রেন দিয়ে ময়লা চলে যায় সরকারি খালে । পুকুরটি যদি বিসিক এর জায়গায় না হয়ে অন্য কোন জায়গায় হতো তাহলেও ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো । পরিষ্কার করার জন্য আমি উদ্যোগ নি নাই  এ কথা সত্য নয় । এ বিষয়ে সুলতানিয়া বেকারীর মালিক আবুল কাশেম সাংবাদিককে বলেন, আপনার যা মন চায় তা লেখেন, যদি আমার কিছু হয়,এ কথা বলেই চুপ হয়ে গেল । আমার বেকারীর কোন ময়লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের পুকুরে আমার কর্মচারীরা পালায় না । কাজের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টরির ভিতরে ময়লা আবর্জনা থাকবেই, ফ্যাক্টরির ভিতরে ময়লা থাকতেই পারে তাই বলে কি এটা অপরাধ ? বিসিক শিল্পনগরীতে ময়লা আবর্জনা দূরগন্ধ থাকার বিষয়ে বিসিক এর উপ-সহকারী দেলোয়ার হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুরে ময়লা নেক্সষ্ট ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ফ্যাক্টরি থেকে আসে । তবে ড্রেন যদি ২/” ফিটের হয় তাহলে ময়লা নিস্কাশনের জন্য সুবিধা হবে । আগে মেন্যুয়াল ড্রেন ছিল ২৪ ইঞ্চি এখন আছে ৬ ইঞ্চি । ৮ সিসি ঢালাই দিয়ে তকতার পোল পর্যন্ত ড্রেন করা হলে ময়লার সমস্যা সমাধান হবে । এ বিষয়ে আমি মাননীয় মেয়র মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি । এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ করলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে । পরিবেশ দূষণের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সুলতানিয়া বেকারির মালিক  আবুল কাশেম কে ফোন করলে তিনি মাতৃভূমির খবর পত্রিকার লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আমজাদ হোসেন কে হুমকি দিয়ে ভয়-ভীতি দেখায় । এবং, টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে । ঠিক একয় ভাবে নেক্সষ্ট এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ম্যানেজার মিন্টুও টাকা দিয়ে ম্যানেজ  করার চেষ্টা করে । এবং, বক্তব্যর জন্য নেক্সষ্ট ফুড ফ্যাক্টরির ভিতরে প্রবেশ করতে গেলে সাংবাদিককে ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে, এবং সাংবাদিক আমজাদ হোসেন কে প্রায় ২০ মিনিটের মতো গেইটের বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ।
নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar