শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০২:২৭ অপরাহ্ন

মরহুম তোফায়েল আহম্মদ মিঞা কেন মুক্তিযুদ্ধা সনদ থেকে বঞ্চিত

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি : আমজাদ হোসেন ।   লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৩নং দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত ডাঃ আবদুল সালাম মিঞার জৈষ্ঠ পুত্র সদ্য মৃত মরহুম তোফায়েল আহম্মদ মিঞা । গত- (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০) রোজ শনিবার পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন । মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ গ্রহন করেও স্বার্থান্বেষী মহলের কালো হাতের ইশারায় পাননি কোন সনদ !  বিষয়টি আক্ষেপ করে তার সুযোগ্য বড় ছেলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রিয়া বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মো. আবুল বাসার   গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন , আমি আমার বাবার থেকে শুনেছি, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু যখন জেল থেকে মুক্তি পেয়ে নোয়াখালীতে রাজনৈতিক সভা করতে রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর  সড়ক হয়ে যাওয়ার পথে দালাল বাজার গাড়ি বহর থামিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মহাপ্রভুর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা সরাসরি কথা বলেন, বঙ্গবন্ধু তোফায়েল আহম্মদ মিঞার ঘাড়ের উপর হাত দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়েও কথা বলেন । সে সময়ে বঙ্গবন্ধু যাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তারা হলেন, প্রয়াত দুলাল বাবু (জমিদার) এডভোকেট আক্তারুজ্জামান, এডভোকেট মুজাফফর, এডভোকেট আহমদুল্লা, মোহম্মদ উল্যা মাস্টার, শাহাদাত হোসেন (সাধু ডিলার) সহ কয়েক হাজার মানুষকে । সে সময় সিরাজুল হক নামের ( মাইলের মাথার) এক ব্যক্তির জন্য একটি থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য তোফায়েল আহম্মদ মিঞা বঙ্গবন্ধুর নিকট অনুরোধ করেন । তখন বঙ্গবন্ধু তোফায়েল আহম্মদকে শান্তনা দিয়ে বলেন, আমি ক্ষমতায় আসলে তোর এই অনুরোধ রাখবো । বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় আসার পর পূর্ব পতিশ্রুত বিষয়টি রক্ষা করেন, এবং, সিরাজুল হকের নামে লক্ষ্মীপুর দালাল বাজারে দালাল জমিদার বাড়ি সংলগ্ন একখন্ড জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন । তিনি আরো বলেন, আমার বাবা মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তি যুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেছিলেন । তিনি সুবেদার লুৎফর রহমান জোন কমান্ডার,  ২ নং সেক্টরের প্লাটুন কমান্ডার হাবিলদার মেজর আব্দুল মতিন পাটোয়ারীর ডি-৩ এর ১ এর অধিনে বাঞ্ছানগর প্রাইমারী স্কুলে ট্রেনিং গ্রহন করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পানপাড়া, কাজির দিঘির পাড়, কাফিলাতলি, রামগঞ্জ, রায়পুর, চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর সহ বিভিন্ন স্থানে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন । যুদ্ধ কালীন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নাম ছিলো মুজিব বাহিনী । ৭৫ এর পর আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা বহুবার জেল খাটেন । মরহুম এডভোকেট আক্তারুজ্জামান, এডভোকেট আহম্মদ উল্যা , মরহুম এডভোকেট মুজ্জাফর, এডভোকেট মৃত নুরুল হক, কামান খোলার জমিদার মৃত গোপেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরী ওরফে দুলাল বাবু সহ আরো অনেকে  আওয়ামীলীগের জন্য বহুবার ত্যাগ শিকার করেছেন । ২৬ মার্চ মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে  আমার বাবার নেতৃত্বে দালাল বাজার, লক্ষ্মীপুর  উত্তর তেমুহনী, রামগঞ্জ, রায়পুর, তৎকালীন সময়ে নোয়াখালী সড়কটি কেটেও পুকুর করা হয়ে ছিলো । একই সময়ে আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা ও দুলাল বাবুর নেতৃত্বে ৪/৪/১৯৭১ সালে হাজিমারা সুইচ গেইটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষণার পর যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই প্রস্তুত হও, এই ঘোষণার সাথে সাথে সকলে লড়ার জন্য বিশাল মিছিল নিয়ে লেপ্ট রাইট করতে করতে সুইচ গেইট অভিমুখে রওনা হয় । উক্ত মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন, দুলাল বাবু ( গোপেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরী) যিনি দোনলা বন্দুক উঁচিয়ে জয় বাংলা স্লোগানে কাঁপিয়ে সন্মুখে অগ্রসর হতে থাকতেন । সেই দিন আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা, এডভোকেট আক্তারুজ্জামান (মজিব বাহিনীর প্রধান ও কমান্ডার) সহ হাজার হাজার জনতা একই সুরে সুর মিলিয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে ছিলো । আমার বাবা প্রথম সারির মুজিব বাহিনীর সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধা হিসাবেও সে সময় পরিচিতি লাভ করেন । আমার বাবা অস্ত্র জমা দিলেন কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাকের নিকট দালাল বাজার হাই স্কুলে । মুক্তিযুদ্ধের যোদ্ধাদের যাচাই বাছাই কমিটিতে সকল তথ্য, সাক্ষী সহযোদ্ধা মো. তাজল ইসলাম গেজেট নং ১৩ ( হাবিলদার ধনু মিঞা লাল মুক্তি বার্তা নং -০২১০০১০৭০), (আব্দুস ছাত্তার লাল বই নং ৮২৫২ মুক্তি বার্তা ০২১০০২০২০৫), ( ফিরোজা বেগম মেম্বার স্বামী মরহুম নাছির মিঞা, গেজেট নং ১৭৮) । প্রয়োজনীয় সকল কাগজ পত্র জমা দেওয়ার পরেও যাচাই বাছাই না করিয়া আমার বাবার নাম ” গ” তালিকায় ১৮১ লিস্টভুক্ত কেন করেছেন আমার প্রশ্ন এখানে ? আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কেন সনদ প্রাপ্ত হননি প্রশ্ন রাখলাম আপনারদের কাছে ? আমি মরহুম তোফায়েল আহম্মেদ এর বড় ছেলে এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে উপরোক্ত বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিনয়ের সাথে আকুল প্রার্থনা করতেছি, যেনো আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা,কে মরণোত্তর মুক্তিযুদ্ধের সনদ প্রাপ্ত করা হয় । তাহলেই আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে । সরকারের উচিৎ হবে সত্যিকার অর্থে যারা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা তাদেরকে খুঁজে বের করে মুক্তিযুদ্ধা সনদ দেওয়া । আর তানা হলে সঠিক তদারকির অভাবে রাজাকাররা পেয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধা সনদ । এ ভাবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ অনিয়ম চলতে পারে না ।
নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar