সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন

ভারতে কর্মজীবী নারীর এই হাল!

ভারত খুব দূরের দেশ নয়। বাংলাদেশের প্রতিবেশী। বিশ্বের অন্যতম বড় গণতান্ত্রিক দেশ। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক—অনেক দিক থেকেই অনেক দেশের তুলনায় উন্নত। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তালিকা বলছে, ভারত এখন পৃথিবীর ষষ্ঠ অর্থনৈতিক শক্তি। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইউরোপের অনেক দেশকে পেছনে ফেলেছে ভারত। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে ভারতের নারীরা এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। ভারতের এই অর্থনৈতিক শক্তিতে নারীদের অবদান বড়ই সামান্য।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাজ্যকে ছাপিয়ে বিশ্বের পঞ্চম অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠবে ভারত। আইএমএফের তালিকা বলছে, ভারতের জিডিপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫৯৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরে দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথমার্ধে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ইকোনমিস্ট বলছে, ভারতের এই অর্থনৈতিক দৌড়ে ছয় ভাগের মাত্র এক ভাগ অবদান রয়েছে নারীদের। জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। এ ক্ষেত্রে কেবল রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবকে পেছনে ফেলতে পেরেছে ভারত।

ভারতে নারীর কর্মসংস্থানের হার এমনিতেই কম। দেশটির সরকারি শুমারি বলছে, ২০০৫ সালে ভারতে কর্মজীবী নারীর হার ছিল ৩৫ শতাংশ। এখন তা ২৬ শতাংশ।

এ তো গেল ভারতের কর্মজীবী নারীর পরিসংখ্যান; ঠিক এ সময়ে বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীর অবস্থা কেমন ছিল? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬-১৭-এর জরিপ বলছে, ২০১০ সালে দেশের মোট শ্রমশক্তি ছিল ৫ কোটি ৬৭ লাখ (৫৬.৭ মিলিয়ন)। কর্মজীবী পুরুষ ছিল ৩ কোটি ৯৫ লাখ (৩৯.৫ মিলিয়ন) আর নারী ১ কোটি ৭২ লাখ (১৭.২ মিলিয়ন)। ২০১৩ সালে মোট শ্রমশক্তি বেড়ে দাঁড়ায় ৬ কোটি ৭ লাখ (৬০.৭ মিলিয়নে)। কর্মজীবী পুরুষ ৪ কোটি ২৫ লাখে (৪২.৫) আর নারী ১ কোটি ৮২ লাখে (১৮.২ মিলিয়নে) পৌঁছায়। ২০১৫-১৬ সালে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়। শ্রমশক্তি ৬ কোটি ২১ লাখ (৬২.১ মিলিয়ন) হয়। কর্মজীবী পুরুষ ৪ কোটি ৩১ লাখ (৪৩.১) আর কর্মজীবী নারী ১ কোটি ৯১ লাখে (১৯.১ মিলিয়ন) দাঁড়ায়।বিবিএস

দেখা যাক ২০১৬-১৭ সালের পরিস্থিতি। বিবিএস বলছে, মোট শ্রমশক্তি ৬ কোটি ৩৫ লাখ (৬৩.৫ মিলিয়ন)। কর্মজীবী পুরুষ ৪ কোটি ৩৫ লাখ (৪৩.৫ মিলিয়ন) আর কর্মজীবী নারী ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) হয়। নগরে ২০১০ সালে নারী শ্রমশক্তি ছিল ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন)। ২০১৬-১৭ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে (৫.০ মিলিয়নে)। আর গ্রামে ২০১০ সালে নারী শ্রমশক্তি ছিল ১ কোটি ৩২ লাখ (১৩.২ মিলিয়ন)। ২০১৬-১৭ সালে তা দাঁড়ায় দেড় কোটিতে (১৫ মিলিয়নে)। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ভারত নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ালে ২৭ শতাংশ বেশি ধনী হতো। কর্মসংস্থান না হওয়ার কারণ কী? তাহলে কি ভারতীয় নারীরা অলস সময় কাটান? মোটেই না। বিভিন্ন জরিপ আর অভিজ্ঞতা বলছে, নারীদের বেশির ভাগ শ্রমটা সংসার আর সন্তান সামলাতে ব্যয় হয়। শিক্ষিত অনেক নারীই এভাবে সময় কাটান। বলা যেতে পারে, কাটাতে বাধ্য হন।

ভারতে শিক্ষার হার বেড়েছে। স্কুলগামী নারীর সংখ্যা বেশি, অনেকের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি রয়েছে কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নারীর হার বাড়েনি।

এই অবস্থার জন্য ভারতের সামাজিক রীতিনীতিও অনেকটা দায়ী। ২০১২ সালের এক জরিপ বলছে, ৮৪ শতাংশ ভারতীয় মনে করেন, নারীদের চেয়ে পুরুষদের কাজ করার অধিকার বেশি। অনেক ভারতীয় মনে করেন, সংসারে সচ্ছলতা থাকলে নারীদের চাকরি করা অপ্রয়োজনীয়। ওয়ার্ল্ড ভ্যালুজ সার্ভে বলছে, ৭৬ শতাংশ ভারতীয় মনে করেন, মা কর্মজীবী হলে সন্তানকে কষ্ট পেতে হয়। সংস্থাটির মতে, আরব বিশ্বের বাইরে এমন মনোভাবধারী পুরুষের সংখ্যা ভারতে সবচেয়ে বেশি।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের পর থেকে ভারতে শিল্পক্ষেত্রে ৩ কোটি ৬০ লাখ অতিরিক্ত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর এসব চাকরির ৯০ শতাংশই পুরুষদের দখলে। ভারতের সরকারি শুমারি সেনসাস অবশ্য বলছে, সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন অসুবিধার কারণে এক-তৃতীয়াংশ নারী এসব চাকরি করতে চান না।

বিশ্বব্যাংকের জরিপ বলছে, গৃহস্থালির ৯০ শতাংশ কাজ ভারতীয় নারীদের করতে হয়। সংস্থাটির মতে, অন্য যেকোনো বড় দেশের তুলনায় ভারতেই ঘরের কাজে নারীদের সংশ্লিষ্টতা এত বেশি। বিশ্বব্যাংকের জরিপ আরও বলছে, বাসন মাজা বা সন্তানদের ঘুম পাড়ানোতে পুরুষেরা সপ্তাহে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করে। বৈশ্বিক অর্থনীতি মূল্যায়নবিষয়ক সংস্থা ম্যাককিনজি গ্লোবাল বলছে, এসব কাজে পুরুষদের অংশগ্রহণ বাড়লে নারীর কর্মসংস্থান ১০ শতাংশ বাড়ত।

নারীর প্রতি ভারতীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। আমাদের দেশেও কর্মজীবী নারীদের সমস্যা অনেকে। কর্মজীবী নারীদের গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, মাতৃত্বজনিত ছুটি, সন্তান লালনপালনের অসুবিধা, ডে কেয়ারের অভাব—এমন অনেক সমস্যার মুখেই পড়তে হয়। কিন্তু আশার কথা হলো কর্মজীবী নারীরা এসব প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ কর্মজীবী নারীর হার বাড়ছে। পোশাকশিল্পের ব্যাপক প্রসার কর্মজীবী নারীর হার বাড়ানোয় ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশে কর্মজীবী নারী বাড়ছে—এটি অবশ্যই একধরনের সাফল্য। তবে প্রশ্নটা হলো নারীর ক্ষমতায়ন আসলে কতটুকু ঘটেছে? বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘ব্যাংকে, কলকারখানায়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীরা কাজ করছেন। শিক্ষার হার বাড়ছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক একধরনের মুক্তি হচ্ছে। সেই হিসাবে নারীদের একধরনের ক্ষমতায়ন ঘটছে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। ঘরে-বাইরে নারীকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের পথে গণপরিবহনে নারী হয়রানির শিকার হচ্ছে। আবার কর্মস্থলেও অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছে। আরও একটা বড় সমস্যা সন্তানের দায়িত্ব। ভারতের মতো আমাদের সমাজেও সন্তানের মূল দায়িত্ব মাকেই দেওয়া হয়। সন্তানের দেখাশোনার জন্য অনেক যোগ্য নারীও বাধ্য হন চাকরি ছেড়ে দিতে। এসব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র ও সরকারের অবশ্যই দায় আছে। তবে সমাজের দায়বদ্ধতাও অনেক। তাই নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।’

ফেরা যাক ভারতের প্রসঙ্গে। ভারতের মতো এত বড় দেশে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নির্দিষ্ট কোনো শিল্পের এত ব্যাপক প্রসার ঘটেনি। স্বল্পোন্নত দেশ ভিয়েতনামেও তিন-চতুর্থাংশ নারী কর্মজীবী। ভিয়েতনাম ও ইথিওপিয়ায় বড় বড় অনেক কারখানায় কর্মীদের বড় একটা অংশ নারী। এসব কারখানায় কাপড় ও জুতা তৈরি করেন নারীরা। এতে নারী শ্রমশক্তি ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।

কেন এমন দশা?
ভারতে গত দুই দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৭ শতাংশ। মায়েদের সময়ের তুলনায় এখনকার মেয়েরা অনেক বেশি শিক্ষিত। কমেছে সন্তানের জন্মহারও। কিন্তু মেয়েরা যতটা না ভালো চাকরির জন্য, তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো বর পেতে শিক্ষিত হচ্ছেন। দেখা যায়, স্কুলে পড়া মেয়েদের বিয়ের সময় কম যৌতুক লাগে।‘হাফ এ বিলিয়ন রাইজিং: দ্য ইমার্জেন্স অব দ্য ইন্ডিয়ান উইমেন’ বইয়ের লেখক ও গবেষক অনিরুদ্ধ দত্ত বলছেন, মেয়েরা শিক্ষিত হলে যৌতুক কম দিতে হয়। এ কারণে ভারতে অনেক পরিবার মেয়েকে শিক্ষিত করে।

একে তো ভারতে কর্মজীবী নারী কম; আবার রাজ্যভেদে এর তারতম্য রয়েছে। ভারতের রক্ষণশীল উত্তরে কর্মজীবী নারী আরও কম। যেমন পাঞ্জাবে ১৫ শতাংশরও কম নারী কর্মজীবী। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিনী পান্ডে ও অন্যদের পরিচালিত জরিপ বলছে, স্বেচ্ছাসেবী ‘প্রথম’ নামে কর্মসূচির আওতায় পাঞ্জাবে নার্সিং, সৌন্দর্যবর্ধন-বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। দেখা গেছে, প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও পারিবারিক বাধার কারণে ২০ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারেননি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে, কর্মজীবী পুরুষের হারের সঙ্গে মেলালে বিশ্বে আরও ৭০ কোটি (৭০০ মিলিয়ন) নারী কর্মজীবী হতো। আর এর এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ সাড়ে ২৩ কোটি (২৩৫ মিলিয়ন) থাকত ভারতের।

কাজের ধরনে নারীরা পিছিয়ে
আইএলও বলছে, ভারতে উৎপাদনকারী কারখানায় এক-চতুর্থাংশেরও কম শ্রমিক নারী। চীনে এই খাতে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক নারী। ব্রাজিলে সেবা সেক্টরে ৫১ শতাংশ নারী। আর ভারতে ১৯ শতাংশ নারী সেবা খাতে কাজ করেন।

বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীর হার বাড়ার পেছনে পোশাকশিল্পের বিকাশের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এই কলামিস্ট বলেন, মানবসম্পদ হিসেবে নারীদের আগেকার চেয়ে এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নারীদের কর্মসংস্থান বেড়েছে। নারীশিক্ষায় খরচও কমেছে। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) উদ্যোগও কার্যকর হয়েছে।

ভারত প্রসঙ্গে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ভারতের মতো বড় দেশে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তুলনামূলকভাবে শিল্পের বিকাশ কম হয়েছে। এ ছাড়া ভারতে সমাজের একটা অংশ অনেক প্রগতিশীল। তাদের গতি অনেক এগিয়ে। মাঝের অংশ কিছুটা কম গতিশীল। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনধারার সঙ্গে তাদের মিল রয়েছে। আবার একটা অংশ রয়েছে কুসংস্কারাচ্ছন্ন। বড় জনসংখ্যার দেশ ভারতে নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এগুলোও ফ্যাক্টর হতে পারে। নারীর নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম নুরুন্নবী বলেন, ছোট দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশে এক এলাকার সঙ্গে আরেক এলাকার মানুষের যোগাযোগ অনেক বেশি। কর্মজীবীদের একটা বড় অংশই ঢাকামুখী। সে কারণে গ্রামের একজন নারী ঢাকায় এসে কাজে যোগ দিলে তাঁর দেখাদেখি অনেকেই আসেন। পোশাক কারখানায় নারীদের বড় অংশের কর্মসংস্থান এভাবেই ঘটে। এ ছাড়া নারীর কর্মসংস্থানে সংসারে বাড়তি আয় হয়। আর এই বাড়তি আয় পেতেই নারীর একধরনের ক্ষমতায়ন ঘটে। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। দেশে অনেক কর্মক্ষেত্রে হয়তো নারীকে বেশি সময়ানুবর্তী মনে করা হয়। কম বেতনে নারী শ্রমিক দিয়ে বেশি কাজ করানো যায়। মালিকশ্রেণি সেই সুযোগটাও নিতে চায়।

এ কে এম নুরুন্নবী বলেন, বড় দেশ হওয়ায় ভারতে অনেক নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বাস। এসব জনগোষ্ঠী কাঠকাটা, সুতাকাটা, চাষবাসের মধ্যে নিজেদের কাজকে সীমাবদ্ধ রাখে। এর বাইরে অন্য কর্মসংস্থানের কথা তারা ভাবে না। ভারতে নারীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। এর একটা বড় কারণ মেয়েশিশুর ভ্রূণহত্যা। এসবই দেশটিতে নারীর কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলছে।

ভারতের সরকারি জরিপ বলছে, নারী ও পুরুষের যে গড় হার থাকে, সে তুলনায় ভারতে ৬ কোটি ৩০ লাখ (৬৩ মিলিয়ন) কম নারী রয়েছে। ২০১৩-১৫ সালে প্রতি এক হাজার ছেলেশিশুর বিপরীতে ভারতে ৯০০ মেয়েশিশু জন্মেছে। এখন এই হার আরও কমেছে বলে ধারণা করা হয়।

ভারতে নরেন্দ্র মোদির আমলে নারীর ক্ষমতায়ন গুরুত্ব কমে গেছে। ক্ষমতা অনেকটাই পুরুষের কুক্ষিগত। নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির আদর্শ ধারণকারী রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘ প্রচার করে, ‘পুরুষের কাজ হলো অর্থ উপার্জন। আর নারী বিকশিত হয় মাতৃত্বে। নারীর এ কথা ভুললে চলবে না।’

নারীর প্রতি যৌন হয়রানি ও সহিংসতা ভারতে ঘটছে। নিরাপত্তার কারণে ভারতে অনেক রাজ্যে কর্মক্ষেত্রে নারীকে রাতে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় না।

তবে ভারতে কিছু উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল ফোন নারীর জন্য সহজলভ্য করা হয়েছে। সড়ক ও বিদ্যুৎ-ব্যবস্থার উন্নয়ন নারীদের যাতায়াতকে সহজ করেছে। নারীশিক্ষার প্রসার হচ্ছে। আশাবাদীরা মনে করেন, নগরায়ণের কারণে কৃষিতে নিযুক্ত নারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। শিক্ষিত নারী শিল্পায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে নারীর কর্মসংস্থান বাড়বে।

এসব উদ্যোগও খুব বেশি আশা জাগায় না। আইএলও বলছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০৩০ সালেও ভারতে ২০০৫ সালের মতো বেশি কর্মজীবী নারী থাকবে না। বাংলাদেশসহ ভারতের চেয়ে ছোট ও অনুন্নত অনেক দেশেই কর্মজীবী নারীদের ভবিষ্যৎ এতটা হতাশাব্যঞ্জক নয়। তাই ভারতের সতর্ক হওয়ার এখনই সময়।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar