রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

বাস্তবায়নের পথে নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর দুই সচিবের পরিদর্শন

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামালী) সংবাদদাতা :  নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি স্থল বন্দর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চিলাহাটি সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুই যুগ্ন-সচিব। তারা হলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব (এনডিসি) আনিছ আহমেদ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব আব্দুল মোতালেব। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৪- টার দিকে ভোগডাবুরী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া ৭৮২ মেইন পিলার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তারা। স্থলবন্দর এলাকাটির অবকাঠামো এবং স্থানটি পরিদর্শন করে স্থলবন্দরের রাস্তা ও অবকাঠামো তৈরীর ম্যাপ ও কাগজপত্র দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। এসময় তারা এই স্থলবন্দরের কার্যক্রম এবং দুই দেশের রেল যোগাযোগ অচিরেই শুরু হবে বলে জানান। এ সময় তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন, নবাগত ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া, ভোগডাবুরী ইউপি চেয়ারম্যান একরামূল হক, কেতকীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক দিপু, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা, প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা ও আওয়ামী-লীগের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চিলাহাটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রেল সংযোগ ছিল। পাক-ভারত যুদ্ধের সময় এটি বন্ধ হলেও চালু ছিল শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে যায় সেটিও। ২০১১ সালের ১৯ জুন পরিদর্শনে এসে চিলাহাটি শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার ঘোষণা দেন সে সময়ের নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। চিলাহাটি স্থল বন্দর মন্ত্রী সভার বৈঠকে অনুমোদনের পর ২০১৩ সালের ১লা আগস্ট স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় ও স্থলবন্দর অধিক শাখা একটি গেজেট প্রকাশ করে। স্থলবন্দর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩৩ বিঘা খাস জমি অধিগ্রহন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে ১৭টি স্থলবন্দর রয়েছে। আর শুল্ক স্টেশন রয়েছে ১৭৯টি। ১৭টি স্থলবন্দরের মধ্যে মূলত সাতটি স্থলবন্দর সচল। বাকি স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি-রফতানি কম। দর্শনা স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে চালু রয়েছে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম। সে হিসাবে চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু হলে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে বানিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি হবে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার আমদানি-রপ্তানীকারক ও শিল্প উদ্যোক্তা উত্তরা ইপিজেড ও দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা বানিজ্যে আগ্রহী হবেন। স্থলবন্দরটি নীলফামারী জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে। নীলফামারীতে উত্তরা ইপিজেড, দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা শিল্পায়নের দ্রুত বিকাশসহ হাজার হাজার বেকার কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar