শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩০ অপরাহ্ন

প্রশ্ন ফাঁস মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ জন শিক্ষার্থী সহ ১২৫ জনকে আসামী করে অভিযোগ পত্র প্রস্তুত করেছে সিআইডি: সিআইডি প্রধান

সিনিয়র রিপোর্টার,মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,ঢাকা: ঢাকা বহুল আলোচিত প্রশ্ন ফাঁস মামলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ জন শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনকে আসামী করে অভিযোগ প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় রাজধানীর সিআইডির হেড কোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিআইডি প্রধান। সিআইডি প্রধান এডিশনাল আইজিপি মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন,দেড় বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত প্রশ্ন ফাঁস মামলার অভিযোগ পত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।নাম ঠিকানা সঠিক পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হবে। সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম বলেন,প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরলস পরিশ্রম কর্মদক্ষতা এবং সুকৌশল পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি চক্র কে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। আটক করেছে মূল হোতাসহ ৪৭ জন।এদের মধ্যে ৪৬ জন এই আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। সিআইডি প্রধান বলেন, মূলত দুইভাবে জালিয়াতি হয়।একটি চক্র প্রেস থেকে প্রশ্ন পত্র ফাঁস করে। অন্যটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করে।প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁসকারী পুরো চক্র চিহ্নিত হলো ডিজিটাল ডিভাইস চক্রটিকে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল জালিয়াতি চক্র টি কে চিহ্নিত করা গেছে। ধরা পড়েছে চক্রের মাস্টারমাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিভ কুমার বিশ্বাস মূলহোতা ইব্রাহিম মোস্তফা কামাল হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং তাজুল ইসলাম। সিআইডির প্রধান বলেন,গত দেড় বছরে সিআইডি টানা অভিযান ও একের পর এক আসামি গ্রেপ্তার এর ফলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি ও এইচএসএসসি সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়া যায়নি। অনাগত দিনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সিআইডির বিশেষ নজরদারি থাকবে।

শফিকুল ইসলাম বলেন এই চক্রের মূল হোতাদের অডেল অবৈধ অর্থ সম্পদের খবর পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাৎক্ষনিক তদন্তের প্রায় ২০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এইসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে ইতিমধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মানি লন্ডারিং মামলা করেছে সিআইডি। সিআইডি প্রধান গণমাধ্যম কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই মামলাটি তদন্তের পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীরাও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন সকলের ঐক্যবধ্য চেষ্টায় সমাজ থেকে প্রশ্ন ফাঁসের বেঁধে দূর করা সম্ভব। মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে হামলার ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডি প্রধান বলেন, পুলিশকে ভয় পেতি দেখানোর জন্য রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে হামলা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি শাহ আলম, ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম, রায়হান খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিডিয়া শাখার শারমিন জাহান।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar