শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৫:১১ অপরাহ্ন

পাকিস্তানে নির্বাচন পরিচালন ব্যয় রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে

নির্বাচন নিরাপত্তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ৯০০ কোটি রুপি (৫৮৭ কোটি টাকা প্রায়) দিয়েছে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের সচিব বাবর ইয়াকুব ফতেহ মোহাম্মদ গতকাল বুধবার এ কথা বলেছেন।

ইয়াকুব বলেন, পাকিস্তানের ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের ব্যয় এযাবৎকালের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচন পরিচালনার ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে। পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, সেনাদের প্রশিক্ষণসহ নানা খাতে এ খরচ হয়েছে।

গতকাল দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের ভোট শেষে সাংবাদিকদের সামনে ইয়াকুব বলেন, নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ৯০০ কোটি রুপি দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তানের ডন নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত দুবারের নির্বাচনের চেয়ে এবারে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে খরচ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

এর মধ্যে ২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনে ১৮৪ কোটি রুপি খবর হয়েছিল। ২০১৩ সালের নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৩ কোটি রুপিতে। এর মধ্যে ২০০৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পেয়েছিল ১২ কোটি রুপি আর ২০১৩ সালে পেয়েছিল ৭৫ কোটি ৮০ লাখ রুপি।

আমদানি করা জলছাপযুক্ত ব্যালট পেপার প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা নির্বাচনের খরচ বেড়ে যাওয়ার আরেক কারণ।

ইয়াকুব বলেন, ভোট শেষ হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে নোটিশ দেওয়া হবে। এ জন্য ১০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত দাখিল করতে হবে।

তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের নেতা ইমরান খানের বিরুদ্ধে ব্যালটের গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ওই কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন অনুযায়ী, গোপনে ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেন ইমরান।

ইয়াকুব দাবি করেন, রেজাল্ট ট্রান্সমিশন সিস্টেম (আরটিএস) ব্যবহারের কারণে ফলাফলে আরও স্বচ্ছতা আসবে। এতে ফল পাতানো যাবে না।

ফলাফলের নোটিশ ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পছন্দের দলে যোগ দিতে পারবে।

ফল চূড়ান্ত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তা ঘোষণা দেবে।

ডনের আরেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের বেসরকারিভাবে ফল প্রকাশ হতে শুরু করেছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের (এনএ) ১১৪টি আসনে এগিয়ে ছিল ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন) এগিয়ে রয়েছে ৬৮টি আসনে। বিলওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এগিয়ে আছে ৩৯টি আসনে। এখন পর্যন্ত মোট প্রাপ্ত ভোটের ৩৪ শতাংশ গণনা শেষ হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৩টি এগিয়ে রয়েছেন। মুত্তাহিদা মজলিশ আমল (এমএমএ) এগিয়ে রয়েছে ৯টি আসনে এবং গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (জিডিএ) এগিয়ে আছে ৭টি আসনে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের মোট ৩৪২ আসনের মধ্যে ২৭২ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়। বাকি ৭০টি আসন নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত। কোনো দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ২৭২ আসনের মধ্যে ১৩৭ আসনে জিততে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar