বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতি,অনিয়মের ভেতর দিয়ে ঢাকা মহানগরী কংক্রিটের জঞ্জাল শহরে পরিণত না হোক: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার,মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,ঢাকা: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, এমপি বলেছেন, ‘কোন রকম দুর্নীতি ও অনিয়মের ভেতর দিয়ে ঢাকা মহানগরী কংক্রিটের জঞ্জাল শহরে পরিণত না হোক। মানুষের জীবন বিপন্ন না হোক। নিমতলী, চূড়িহাট্টা, বনানীর অগ্নিদূর্ঘটনার মতো ঘটনা আর না ঘটুক। অনুমোদিত নকশা, ফাঁকা জায়গা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, গ্যারেজ ছাড়া ভবন নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। পূর্বাচল, উত্তরার মতো জায়গায় নকশার বাইরে ন্যুনতম কিছু হতে দেয়া হবে না। সবার সহায়তায় আমরা পরিবেশবান্ধব আবাসন সারা বাংলাদেশে করতে চাই’। শুক্রবার (২১ জুন ২০১৯) সকালে ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘মিট দ্যা রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বনানীর এফ আর টাওয়ারের তদন্ত আলোর মুখ দেখবে, আমি আনন্দিত, তদন্ত রিপোর্ট সাংবাদিকদের সামনে আমি নিয়ে এসেছি এবং ৬২জন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হয়েছে। আমার মনে হয় বাংলাদেশের আটচল্লিশ বছরের ইতিহাসে এমন কোনো রেকর্ড নাই যে নিজ সংস্থার ৬২জনকে দায়ী করে মন্ত্রী প্রেস ব্রিফ্রিং করে সবার হাতে রিপোর্ট তুলে দেন। দুর্নীতির ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্সের প্রশ্নে ৬২জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজউককে আমরা লিখিত নির্দেশ দিয়েছি’। মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার বহুতল ভবনে রাজউক এর ২৪টি পরিদর্শন দল ১৮১৮টি বাড়িতে অনিয়ম পেয়েছে। এ বাড়ির মালিকেরা অনেকেই ক্ষমতায়, রাজনীতিতে ও অর্থে প্রভাবশালী, তাদের ব্যাপারে রিপোর্ট করা হবে, এটা অনেকেই ভাবেন নি। আমি রিপোর্ট সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজউককে নির্দেশ দিয়েছি। রাষ্ট্রের সংবিধান সুযোগ দেয়নি, একেক জনের জন্য একেকটি আইন হবে। আইনের সমব্যবস্থা সকলের জন্য হবে। একটি বাড়িকেও আমরা আইনের বাইরে রাখতে চাইনা। পুরনো ঢাকার জন্য আমরা রিডেভেলপমেন্ট প্রস্তাব দিয়েছি। নতুন ঢাকায় একেবারে অনিয়মের বিল্ডিংগুলো ভেঙে ফেলতে হবে, যেটাকে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে টিকিয়ে রাখা যায়, সে বিল্ডিংকে সেভাবে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। একেবারে অনিয়মের বিল্ডিং ভাঙা না হলে সিলগালা করে দেয়া হবে। রাজউক এর সংশ্লিষ্ট অফিসার যথাযথ কাজ না করলে তাদের ধরার দায়িত্ব যেমন আমার, তেমনি সকল নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে’। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে যে অনিয়ম দেখেন তার নিউজ হওয়া উচিত। নিজউ হলে আমি অনেক সহায়ক কাজ করতে পারি। পত্রিকার নিউজের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত করবো। ইতোমধ্যে মিডিয়ার নিউজের উপর ভর করে ১২টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি’। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই একটি পরিচ্ছন্ন, জবাবদিহিপূর্ণ প্রশাসন আসুক। আমার মন্ত্রণালয়কে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। নকশা অনুমোদনে ১৬টি দপ্তরের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে আমার নির্বাহী ক্ষমতাবলে ১২টি দপ্তরের অনুমোদনের ধাপ বাদ দিয়েছি। আমরা আইন করে দিয়েছি ৫৩দিনের ভেতরে নকশা অনুমোদন হতে হবে, ভূমির ছাড়পত্র, নামপত্তন ৭দিনের মধ্যে হতে হবে। অটোমেশন চালু করে দিয়েছি যাতে বাসায় বসে নকশার আবেদন করা যায়। সকল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে একই নিয়ম চালু করেছ’। শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারলেও আমি কমিয়ে আনতে পেরেছি। অনেক চূড়ান্ত টেন্ডারকে আমি বাতিল করে নতুন টেন্ডার করিয়েছি। আমার জায়গা আমি যতটা পারি পরিষ্কার রাখতে চাই’। আমি সংসদে দাড়িয়ে বলেছি উপরে আল্লাহ, নিচে শেখ হাসিনা, মাঝখানে আমার কোনো তদবীর নাই’। মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবেনা, এটা সরকারের অঙ্গীকার। বাসস্থান মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সে জন্য বস্তিবাসী থেকে শুরু করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত, চাকরিজীবী, বিচারকসহ সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা এবং শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা কাজ করে চলেছি। আমরা চাই বাংলাদেশে একটা আধুনিক, সমৃদ্ধ আবাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাক। পূর্বাচল, ঝিলমিল, উত্তরা ৩য় ফেজে আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। স্বাস্থ্যসম্মত, পরিবেশসম্মত, ঝুঁকিমুক্ত মহানগনর, নগর, গ্রাম ও আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের মন্ত্রণালেয়ের অন্যতম দায়িত্ব। এ জন্য একটি গতিশীল পরিচ্ছন্ন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আমরা দায়িত্ব সম্পাদনের চেষ্টা করছি’। বিজিএমইএ ভবন ভাঙা এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অনিয়ম সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য টেন্ডার আহ্বান করে আমরা সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের সাথে চুক্তি করা হবে এবং চুক্তির শর্তে কোনভাবেই জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ভবন ভাঙতে দেয়া হবে না। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অনিয়মের ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নেবো’। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিটি ভবনে মানসম্মত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকবে’। সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জায়গায় ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই আসেনা’। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হওয়া সত্ত্বেও রাজউকের অনেক ফ্ল্যাট ও প্লট প্রকল্প গ্রহণ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘রাজউক বড় বড় অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বাচল, ঝিলমিল, উত্তরা ৩য় ফেজ, তুরাগ প্রকল্প। এছাড়া, ঢাকার চারপাশে স্যাটেলাইট সিটি তৈরীর সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেটির ফিজিবিলিটি স্টাডিও হয়ে গেছে। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান সঞ্চালন দায়িত্ব পালন করেন। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar