মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

তিন বছরে ২০ কোটি টাকা জব্দ করেছে দুদক: ইকবাল মাহমুদ

ফাইল ছবি

মাতৃভূমির খবর ডেস্কঃ  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত তিন বছরে বিভিন্ন দুর্নীতিতে ১৬৫টি ব্যাংক হিসাবের ২০১.৭৭ মিলিয়ন বা ২০.১৮ কোটি টাকা জব্দ করেছে। একই সময়ে ক্রোক করা হয়েছে ২১টি ভবন, ২৪টি ফ্ল্যাট, ৭৭ একর জমি ও পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি।

আরো পড়ুন:  চলমান শুদ্ধি অভিযান সারাদেশে অব্যাহত থাকবে: পুলিশ মহাপরিদর্শক

এছাড়া দুদকের মানিলন্ডারিং মামলায় ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্তকৃত ৫৮৪.৪৬ কোটি টাকার সম্পদ পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যান্ড কমব্যাটিং ফিন্যান্সিং অব টেরিরিজম-২০১৯-২০২১’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এসব তথ্য জানান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্তকরণের জন্য দুদক বিএফআইইউ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সহযোগিতায় তিনবার ন্যাশনাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করেছে।  ওই অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দুর্নীতিকেই মানিলন্ডারিংয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল রিকোয়েস্ট অ্যাসিসটেন্সের মাধ্যমে দুটি মানি লন্ডারিং মামলায় ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার এবং ০.৮০ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড যথাক্রমে হংকং ও বৃটেনে জব্দ করা হয়েছে। এই অর্থ পুনরুদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগেও ২.০৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার এবং ০.৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুনরুদ্ধার করে দেশে আনা হয়েছে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিএফআইইউ কখনো কখনো একই রিপোর্ট একাধিক এজেন্সিকে দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একই অভিযোগ একাধিক সংস্থা তদন্ত করলে ভুল বোঝাবুঝির যেমন সৃষ্টি হতে পারে তেমনি সময় ও কর্মঘণ্টার অপচয়ও হয়। ফলে সার্বিকভাবে মানিলন্ডারিং বিরোধী তৎপরতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।’

‘দুদক বিশ্বাস করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং হয়- বাণিজ্য কার্য প্রক্রিয়ায় ট্রেড বেইজড মানিলন্ডারিং। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি-সহ বিভিন্ন সংস্থার বৈশ্বয়িক সূচকে দেখা যায়, প্রায় শতকরা আশিভাগ মানিলন্ডারিং হয় বাণিজ্য কর্ম প্রক্রিয়ায়। এ কারণে দুদক যৌথ একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে তদন্তকে স্বাগত জানায়।

এসময় দুদক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ফিনিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ( বিএফআইইউ) সংস্কার প্রস্তাবও করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মানিলন্ডারিং জাতির এক নম্বর শত্রু । ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সোনালী ভবিষ্যতের জন্য এর প্রতিরোধ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং মডারেটর ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar