সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

জীবিত অবস্থাই ৭ মিনিটে টুকরো টুকরো করা হয় খাশোগিকে

মাতৃভূমির খবর ডেস্ক:    তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের সাত মিনিটের মধ্যেই হত্যা করা হয় সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে। জীবিত অবস্থায় খাশোগিকে কেটে টুকরো টুকরো করা হয়! তুর্কি সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই ওয়েবসাইটের খবরে এ কথা বলা হয়েছে। খবরে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সূত্র একটি অডিও রেকর্ডে খাশোগিকে হত্যার সময়কার কথা-বার্তা শুনেছেন। গত ২ অক্টোবর কনস্যুলেটে প্রবেশের দিনই জীবিত অবস্থায় কেটে টুকরো টুকরো করা হয় তাকে। রেকর্ডে সেই মুহূর্তের ভীতিকর চিৎকার শোনা গেছে। খাশোগিকে ইনজেকশন দেওয়ার পর স্তব্ধ হয়ে যান। কনসাল জেনারেলের পড়ার টেবিলেই এই ঘটনা ঘটানো হয়। কনস্যুলেটের নিজ তলার লোকজনও চিত্কার শুনতে পেয়েছিলেন। তুর্কি কর্মকর্তা বলেছেন, কনস্যুলেট ভবনের মধ্যে হত্যার নিশ্চিত প্রমাণ তাদের মিলেছে। তুর্কি পুলিশও বিশ্বাস করছে যে, খাশোগির শরীরকে টুকরো টুকরো করা হয়েছে।
মিডল ইস্ট আইর খবরে বলা হয়েছে, সেখানে খাশোগিকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো চেষ্টা ছিল না। সৌদি আরব থেকে আসা ১৫ সদস্যের টিমটি তাকে হত্যা করতেই এসেছিল। যখন তাকে কেটে টুকরো টুকরো করা হচ্ছিলো তখন তারা হেডফোন কানে ঢুকিয়ে গান শুনছিলেন।
তুর্কি পুলিশের দাবি, এই টিমের একজন সৌদি ফরেনসিক বিভাগের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাহ মুহাম্মদ আল-তুবায়গি। যিনি খাশোগির মরদেহ টুকরো টুকরো করেন। তিনি তখন টিমের অন্য সদস্যদের বলেন, আমি যখন এই কাজ করি তখন গান শুনি। আপনাদেরও এটা করা উচিত। তুরস্কের সরকারপন্থি পত্রিকা ‘ইয়েনি সাফাক’ এ প্রকাশিত খবর অনুসারে, একটি রেকর্ডে ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসাল মোহাম্মদ আল-ওতায়বির কণ্ঠ শোনা গেছে। তিনি বলছেন, বাইরে গিয়ে এটা করো। তোমরা আমাকে বিপদে ফেলে দিচ্ছ।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক কর্তৃপক্ষ খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত যে ১৫ জনকে চিহ্নিত করেছে তাদের মধ্যে চারজনের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা আছে। সাংবাদিক খাশোগি নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে সৌদি আরব ও তুরস্কের তদন্তকারী দল গতকাল বুধবার ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসালের বাসভবনে যান। তবে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ আল-ওতাইবি রিয়াদের উদ্দেশে মঙ্গলবারই ইস্তাম্বুল ত্যাগ করেন।
দুই সপ্তাহ আগে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরু থেকেই তুরস্ক দাবি করে আসছে যে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সৌদির ১৫ সদস্যের একটি দল ইস্তাম্বুলে আসে। এদিকে তুরস্কের তদন্তকারী দল সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশি চালানোর পর জানিয়েছে, হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও পেয়েছে। তবে সৌদি আরব এ অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কোনো কিছু প্রমাণ না হবার আগে সৌদি আরবকে দোষারোপ করা হচ্ছে। খাশোগি নিখোঁজের বিষয়ে পুরোপুরি না জানা পর্যন্ত দেশটির নেতাদের এ নিয়ে দোষারোপ করা উচিত নয় বিশ্ববাসীর। বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান জানিয়েছেন খাশোগি নিখোঁজের বিষয়ে পূর্ণ তদন্ত চলছে এবং তিনি এ বিষয়েও কিছু জানেন না।
এরই মধ্যে গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও তুরস্ক সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা নিখোঁজ সাংবাদিক খাশোগির বিষয়ে কথা বলেন। পম্পেও জানান, খাশোগির ঘটনায় জ্যেষ্ঠ নেতা ও কর্মকর্তারা জড়িত থাকলে তাদেরও বিচার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সৌদি আরব।
যেভাবে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। অনেক দেশেই নতুন করে দাবি উঠছে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে বিবেচনার, কেউ কেউ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলছেন। আগামী সপ্তাহে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য ‘মরুভূমির দাভোস’ খ্যাত উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলন বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টিন লগার্ড জানিয়েছেন, তিনি ওই সম্মেলনে যাচ্ছেন না। তার মধ্যপ্রাচ্য সফর মুলতবি করা হয়েছে। ফরাসি ব্যাংক সোসাইটি জেনারেলের প্রধান নির্বাহী ফেডেরিক ওউদিয়া সম্মেলনে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar