বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন

জাতীয় ঐক্যের সুবিধা শুধু বিএনপি পাক, এটা চায় না ছোট দলগুলো

কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোরেশোরেই আলোচনা হচ্ছে বিএনপির জাতীয় ঐক্য গঠনের কথা। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর এই আলোচনার পালে বাতাস লাগে। বিএনপির মূল উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের বাইরে থাকা দলগুলো নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে একটি বড় নির্বাচনী জোট গঠন করা। এ জন্য রাজনীতির মাঠে অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোকে নিজেদের দিকে টানতে চায় বিএনপি। বিএনপির এমন ‘প্রয়োজনীয়তা’ টের পেয়ে ছোট দলগুলো ঐক্যে যেতে নিজেদের মধ্যে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে। এই দলগুলোর নেতারা দর-কষাকষি করছেন বিএনপির নেতাদের সঙ্গে।

অবশ্য জাতীয় ঐক্যের সুফলভোগী কেবল বিএনপিই হবে, এমনটাও মনে করেন না ছোট দলগুলোর নেতারা। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জোট-মহাজোটের বাইরে থাকা অনেক দলের নেতারাই মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীনেরা অন্য কোনো দলকে রাজনীতির মাঠে সুবিধা করতে দেবে না। এককভাবে কোনো দলের পক্ষে সরকার ও আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করাও কঠিন। বিএনপি ও এই ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করা দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্য নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তা বহু শর্ত আর চাওয়া-পাওয়ায় আটকে আছে।

বিএনপির জাতীয় ঐক্যে কি জামায়াত থাকবে? আসন ভাগাভাগি কেমন হবে? সরকার পরিচালন-পদ্ধতি কেমন হবে? বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারে দলগুলোর অবস্থান কী হবে—এমন চারটি প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপির জাতীয় ঐক্য। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাড়ে পাঁচ মাস জেলে। সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, অনশন—কোনো কিছুতেই সুবিধাজনক অবস্থায় নেই দলটি। বিএনপি সেটা নিজেরাও অনুধাবন করছে এবং সরকারের চাপে থাকা অন্য দলগুলোও মনে করছে, রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে হলে তাদের একসঙ্গে মাঠে নামতে হবে। তবে সেখানে ছোট দলগুলোর রয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।

বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতার কাজ করছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখানে দলগুলোর মধ্যে তিনটি ভাগ রয়েছে—বিএনপি, গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্ট এবং সিপিবি-বাসদ। এখন বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে, তারা কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে। বিএনপির এই সময়ে এসে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোটে যাওয়ার আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এত দিনে তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে। তারা কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে। এবার তারা ছাড় দিতেও রাজি। আমরা মনে করছি, জাতীয় ঐক্য করতে পারলে জাতির জন্য মঙ্গলই হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘যেকোনো ঐক্য বা জোট করতে গেলে সহনশীলতা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশের দলগুলোর মধ্যে এর অভাব প্রচণ্ড। ছোট দলগুলোর কিছু প্রশ্ন আছে। তবে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি কিছু একটা হতে পারে।’

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের জোট। বিএনপি কি তাদের ছেড়ে আসবে? এমন প্রশ্নের জবাবে জাফরুল্লাহ বলেন, জামায়াত নিজেরাও বুঝতে পারছে। বিএনপিকে তাদের ছাড়তে হবে। যার প্রতিফলন সিলেটের মেয়র নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দেওয়া। ঐক্যের প্রয়োজনে ও বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিকে জামায়াত ছেড়ে আসতে হবে। বিএনপি থেকে বেরিয়েই বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিকল্পধারা গঠন করেন। বিএনপির সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতাও সুখকর ছিল না। এ প্রসঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিকল্পধারাকে সম্মানজনক অবস্থান দিতে হবে। আসন নিয়ে কোনো ধরনের ভাগ-বাঁটোয়ারা হচ্ছে কি না, তা জানতে চাইলে বলেন, তেমন কিছুই হচ্ছে না। মাঠে নিজেদের ভোট, লোকবল দেখতে হবে। বিকল্পধারা এ ব্যাপারে একটু সরব। কিন্তু নিজেদের অবস্থাও দেখতে হবে। এ ছাড়া সব দল সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার অবস্থায় নেই। সিপিবি-বাসদকে এই ঐক্যে আনতে চাইছেন বলে জানালেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, বামদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তবে বামরা অনেকটা আওয়ামী ঘরানার হওয়ায় এখানে শেষ পর্যন্ত যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন দেশে ফিরলে আলোচনা আরও ত্বরান্বিত হবে। আর ড. কামাল হোসেনের দিকে তাকিয়ে আছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।

অবশ্য বিএনপির জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়ার আগেই বিকল্পধারা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (রব), নাগরিক ঐক্য যুক্তফ্রন্ট নামে একটি জোট গঠন করে। এ দলগুলোর মধ্যেও আলোচনা চলছে জাতীয় ঐক্য গঠনের। এই যুক্তফ্রন্ট তার আকার বাড়াতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও গণফোরামের সঙ্গে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঐক্যের রাজনীতি আমরা ২০০৪ সালে থেকেই করছি। দেশটাকে গত কয়েক বছরে যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখান থেকে এগিয়ে নিতে ঐক্য দরকার।’ জাতীয় ঐক্য কাদের সঙ্গে হতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ঐক্য বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যে-কারও সঙ্গেই হতে পারে। সামনের জাতীয় নির্বাচনে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাঁরা ঐক্য করে আন্দোলনে নামবেন। সরকার গঠিত হলে সেখানে ঐক্যের ভিত্তিতেই হবে। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করার ব্যাপারে সুব্রত চৌধুরী বলেন, আলোচনা চলছে। তেমন কিছুই এগোয়নি। তবে জামায়াত নিয়ে গণফোরামের আপত্তি আছে। তিনি বলেন, ‘জামায়াত থাকলে আমরা যাব না। আর ওদের তো নিবন্ধনও নেই। বিএনপি জামায়াত না ছেড়ে এলে আমরা নিজেদের মতো ঐক্য করব।’

তবে গণফোরামকে নিয়ে বাকি দলগুলোর মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে। শেষ পর্যন্ত যুক্তফ্রন্টে গণফোরাম আসবে কি না, তা নিয়ে কেউই নিশ্চিত না।

যুক্তফ্রন্টের প্রধান বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)। ১৯ জুলাই রাতে বি চৌধুরীর বাসভবনে যুক্তফ্রন্ট বৈঠকে বসে। এর পরেই চারদিকে খবর চাউর হয়, যুক্তফ্রন্ট বিএনপিকে সমর্থন দেবে না। এ নিয়ে নানান জায়গায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে পরদিন সকালেই নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির এখনো আলোচনা চলছে। তবে যুক্তফ্রন্ট চায় ক্ষমতার ভারসাম্য। অর্থাৎ তারা যদি সরকার গঠন করতে পারে, সেখানে বিএনপির একক আধিপত্য হলে দেশের অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।

চলতি মাসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বি চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে। সেখানে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বিএনপিকে শরিকদের জন্য ১৫০ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। অবশ্য সেখান থেকে বেরিয়ে এখন পর্যন্ত বিকল্পধারার সঙ্গে বিএনপির আর যোগাযোগ হয়নি।

জানতে চাইলে বি চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য বিএনপির কাছে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ১৬০টি আসনে ভোট করল। অন্য দলগুলো বাকি আসনে। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য মানে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে কেবল আরেক দলের ক্ষমতায় আসা নয়। এখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকাটা জরুরি। একক ক্ষমতা একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচার তৈরি করে। প্রথম আলোকে দেওয়া অপর এক সাক্ষাৎকারে জোট ও ভবিষ্যৎ সরকার নিয়ে বি চৌধুরী বলেন, বিএনপি যেন এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারে, সে জন্য আগামী নির্বাচনে দলটি ১৫১ আসনের কম আসনে প্রার্থী দেবে। এটাই সবচেয়ে সহজ বিকল্প। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বৈঠকে আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে বি চৌধুরী বলেন, ওই বৈঠকের পর আর যোগাযোগ হয়নি। বোঝা যাচ্ছে, বিএনপি এমন প্রস্তাব শুনতে প্রস্তুত ছিল না।

বিএনপি বাম ঘরানার কয়েকটি দলের সঙ্গেও ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতৃত্বে আটটি বাম দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠন করা হয়। জোটের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁরা দুই জোটের বাইরে। তাঁরা ভোটে অংশ নিতে বা ভোট বর্জনও করতে পারেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করবেন বলেও জানান। জোটের শরিক দলের এক নেতা বলেন, বাম দলগুলোর পক্ষে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যে যাওয়া কঠিন। আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে ভবিষ্যতে একটি যেনতেন নির্বাচনের দায় বাম দলগুলোর ওপর এসে পড়তে পারে। এ কারণে তাঁরা আলাদা জোট হিসেবে আন্দোলনে মাঠে থাকবেন। সবচেয়ে বড় কথা, বিএনপির সঙ্গে জামায়াত আছে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জোট-মহাজোটের বাইরে গিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। এ ধরনের জোটগুলোয় অনিশ্চয়তা থাকে। ওদের সঙ্গে আমরা পারব না। ওদের সঙ্গে আমরা নাই।’ এ ধরনের কোনো ঐক্য নিয়ে বাসদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি বলে জানালেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে আসবে—এমনটা আশা করে বিএনপি। তবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী কিছুদিন আগেই এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। সেদিন অবশ্য নিজের দলের যুক্তফ্রন্টে থাকা-না থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও জানান। শেষ পর্যন্ত তিনি কী করবেন, সেটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি একাংশের নেতা আ স ম আব্দুর রব প্রথম আলোকে বলেন, আলোচনা এগোচ্ছে। কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

নাগরিক ঐক্যও জাতীয় ঐক্যের আলোচনায় আছে। এর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই দলগুলোর চিন্তার জায়গাটা এক হয়েছে। সে জন্যই এমন কিছু করার আলোচনা চলছে। বিএনপি প্রসঙ্গে বলেন, দলটির নেত্রী জেলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা এসব নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু এখন ভাবছে। তবে আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ মনে বলেন, জাতির প্রয়োজনে ঐক্য প্রক্রিয়া চলছে। এতে দলগুলোকে যেমন সম্পৃক্ত কর হবে, তেমনি সমাজের ‘প্রেশার গ্রুপ’—নাগরিক সমাজকেও পাশে থাকার আহ্বান জানানো হবে। তিনি বলেন, আলোচনা চলছে। সময়ও বেশি নেই। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবন করেই সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে। বিএনপিকে যেমন ছাড় দিতে হবে, তেমনি অন্য দলগুলোকেও ছাড়ের মানসিকতা দেখাতে হবে।

বিএনপির রাজনীতির প্রতি সহানুভূতিশীল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, রাজনীতিতে ঐক্য গঠন স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। সামনে নির্বাচন। এর আগে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের অভিন্ন দাবি রয়েছে। ফলে এই দলগুলোর মধ্যে যদি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও নির্বাচনী জোট হয়, সেটা স্বাভাবিক কারণেই হবে। তিনি বলেন, অভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে ফেলতে জাতীয় ঐক্য খুবই জরুরি।বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যতই জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলুক না কেন, নানা দলের নানা চাহিদা মিটিয়ে তেমন একটি ঐক্য গড়া খুব একটি সহজ কাজ নয়। দলটির চেয়ারপারসন জেলে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান বিদেশে। দলটি নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও আছে নানা মত নানা দ্বিমত। ফলে রাজনীতির মাঠে বিএনপি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট গঠনে কতটা সফল হবে, তা জানতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা। আর ছোট দলগুলো বলছে, ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সব দলের ঐক্য হলে এককভাবে কেবল বিএনপি লাভবান হবে—এমনটা তারা চায় না। বিএনপি জোট গঠনের ক্ষেত্রে ছোট দলগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেবে, সেটা বুঝেই ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে এককাট্টা হতে চায় তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar