রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৪:০০ অপরাহ্ন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গতকাল শনিবার ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী ফলদ বৃক্ষমেলা।

মোহাম্মদ রফিক কুষ্টিয়া  : কুষ্টিয়ায় সুন্দরী গৃহবধূ বিলকিস নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধারের পর গ্রেফতার করা হয়েছে তার প্রেমিক জসিমকে। প্রেমিক জসিম এ হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে । তবে প্রেমিক জসিম কি একাই খুনী নাকী তার সহযোগী আরও অন্য কেউ রয়েছে এ নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদি তার সহযোগী থেকে থাকে তাদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। অনেকেই মন্তব্য করছেন জসিম কি প্রকৃত কিলার যে একাই একজন মানুষ কে হত্যা করতে পারে এবং হত্যার পর তাকে সুকৌশলে বস্তা বন্ধী করে বহন করে নিয়ে গিয়ে আবার পানিতে ভাসিয়ে দিতে পারে। এই হত্যা পিছুনের কারনটা কি শুধু পরকীয়া নাকি অন্য কিছু এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ? এদিকে বিলকিসের লাশ উদ্ধারের পর থেকে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা পাঠিকাবাড়ি গ্ৰামের মেয়ে বিলকিস আক্তার। মাত্র ১৩ বছর বয়সে কুষ্টিয়া শহর চর আমলা পাড়া রবিউলের স্ত্রী হয়ে আসেন বিলকিস। গায়ের রং এ ফর্সা ও সুন্দরী ছিলেন বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সে ২৭ বছর বিয়ের বয়সে ৩ বার বাচ্চার মা হয়ে বাচ্চার মা ডাক শুনতে পারিনি সে । জন্মের পর পরই মারা যায়। এছাড়া বিগত ১০ বছর আগে বিলকিসের রক্ত ক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত নিয়ে যায় হয় হাসপাতালে । কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ৩ বছর নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয় এবং মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান বিলকিস। কিন্তু সে সময় প্রতিদিন তার শরীরে ৩ পাউন্ড ব্লাড দিতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষে এই দম্পত্তি কখনো সন্তানের মুখ দেখবে বলে চিকিৎসক চিকিৎসাপত্রে লিখে জানিয়ে দেন। এর পরও দুইজনের সুখের সংসার চলছিলো। বিলকিস তার স্বামীর সাথে পরামর্শে করেই কুষ্টিয়া জেলা শহরের পৌর গোরস্থান সংলগ্ন ডক্টর ল্যাব এন্ড প্রাইভেট হাসপাতালে কাজের আয়ার কাজ নেয়। সেখারকার কর্তাব্যক্তিদের সাথে ভালো ব্যবহার কাজের যোগ্যতায় পরবর্তীতে তাকে নার্সের পদবীতে বসিয়ে দেয় । অবশ্য কুষ্টিয়ার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে এ ধরনের নার্সের অভাব নেই। আর পদ পাওয়ার পর থেকে ক্লিনিকের ডাক্তার এবং কর্মরত কর্মচারীবৃন্দ সকলেই তাকে কাজের প্রশংসা করতেন এবং পছন্দ করতেন বলে জানান সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মচারী। এরই মধ্যে ডক্টরস ল্যাবের কম্পিউটার অপারেটর মোঃ উজ্জল ও ডাক্তারের এসিস্ট্যান্ট মোঃ জসিম তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবে রাজি না হলে আসামী জসিম ২০১৮ সালে ল্যাব এইডের প্রধান কর্মচারীর পদবী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার (১২৪০০০) টাকা চিটিং করে নিয়ে নেয়। পরে বিলকিস পারভিন পদবি না পাওয়ায় আসামী জসিমের কাছে টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বল করতে থাকে। এমনকি বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখাতে থাকে জসিম। এরই মাঝে বিলকিসও জসিমকে নানা ভাবে টাকা ফিরত দিতে চাপ দিতে থাকে। এইভাবে চলছিল বিগত মাসগুলো। এরই এক পর্যায়ে জসিম টাকা না দিতে পেরে সূ-কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সঙ্গীয় দের নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে এবং শরীলে এমন কিছু বিষাক্ত পুশ করে দেয় যা লাশের মাথার চুল ও দাঁতগুলো লাশ ধোয়ানোর সময় পাওয়া যায় নাই এবং আসামী কুষ্টিয়ার কবুহাটে গ্রামের ইমান আলী মেকারের ছেলে জসিম প্রাথমিককভাবে এবং জবানবন্দি দেয়ার সময় অনেক সত্য গোপনও আড়াল করে গেছে বলেও ধারণা অনেকের। একজন প্রাণচঞ্চল নারী কে কিভাবে একজন হত্যা করে এবং কিভাবে একা বস্তা বন্দী করে? কিভাবে একা দূরান্তরে পানির মধ্যে ফেলে আসে? সে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে আসামি জসিম কি একাই ছিল নাকি তার সাথে আরো কেউ জরিত তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে অনেকের মন্তব্য। একজন অসহায় নারীর হত্যার পর সে হত্যার রহস্য উন্মোচন হোক এবং প্রকৃত আসামী ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক সেটাই কুষ্টিয়াবাসীসহ সকলের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar