ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে অনেকেই সফলতা লাভ করেছেন ……ডিসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট চর হেয়ার ও সোনারচর। ২ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন টঙ্গী পূর্ব এবং পশ্চিম থানা । সম্মেলনের নামে আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই,,,,,,, ফারুক খান।। বিএনপি- জামায়াতের নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রস্তুত আছি- আসিফ আহম্মেদ আনিস মালদ্বীপে আলোকিত চাঁদপুর সংগঠনের সংবর্ধনায় কাজী হাবিবুর রহমান লাঠি খেলা উৎসব ২০২২ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন পুলিশের মবিলাইজেশন কন্টিনজেন্টের বার্ষিক মহড়ার উদ্বোধন কমলগঞ্জে দোকানে চুরি, ১১ চোরাই মোবাইলসহ গ্রেফতার ১ বাকেরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার-৩

ঘূর্ণিঝড়ের রাতে জন্ম নেওয়া সেই সিডরের আজ জন্মদিন।

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ মা মাহমুদা বেগম ও বাবা মিজানুর রহমানের সঙ্গে সিডর। গতকাল সোমবার উপজেলার উত্তর রানীপুর গ্রামে।‘প্রসববেদনা নিয়ে অন্ধকারে সারা রাত কলাগাছের পাতা ধরে স্রোতের পানিতে যুদ্ধ করে ভেসেছিলাম। বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় পরিবারের সবাই বেঁচে গেছি সেই রাতে। সূর্যোদয়ের কিছু আগে জন্ম হয় আমার সিডরের।’ ঘূর্ণিঝড় সিডরের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর রানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম। সেই ভয়াবহ রাতের শেষে তাঁর কোলজুড়ে যে সন্তানের জন্ম হয়েছিল, তার নামও রাখা হয় ‘সিডর’। মাহমুদা বেগম বলেন, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। ওই দিন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার জন্য যাওয়া হয়নি। রাত যতই গভীর হয়, ততই বাড়তে থাকে সুপার সাইক্লোন সিডরের তাণ্ডব আর পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে মাহমুদা বেগমের প্রসববেদনা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও পানির স্রোত মাহমুদা বেগমের ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমান, বড় ছেলে সজীবসহ বাড়ির কয়েক কয়েকটি কলাগাছ কেটে দড়ি দিয়ে বেঁধে সেগুলোর পাতা ধরে পানিতে ভেসেছিলেন। অন্ধকার রাত, চারদিকে শুধু পানি আর চিৎকার-চেঁচামেচি। সূর্যোদয়ের কিছু আগে মাহমুদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নেওয়া হয় বড় সড়কের পাশে একটি বাড়িতে। সেখানে কোনো চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই জন্ম নেয় ফুটফুটে এক শিশু। সুপার সাইক্লোনের সঙ্গে মিল রেখে শিশুটির নাম রাখা হয়েছিল ‘সিডর’।
১৫ নভেম্বর সেই সিডরের জন্মদিন। সে বর্তমানে মির্জাগঞ্জ উপজেলার চরখালী সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তার পুরো নাম রাশেদুল ইসলাম ওরফে সিডর। তবে এলাকায় সবাই তাকে ‘সিডর’ নামেই ডাকে।
মাহমুদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমান ছোট শিশুদের কাঠের খেলনা তৈরি করে বিক্রি করতেন। ঘূর্ণিঝড় সিডরের রাতে তাঁদের খেলনা তৈরির কারখানা ও উপকরণ এবং বাড়িঘর তছনছ হয়ে যায়। তাঁদের দুরবস্থা দেখে বেসরকারি সংস্থা মুসলিম এইড একটি ঘর তুলে দেয়। জমিজমা তেমন না থাকলেও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল লালন পালন করে আবার তাঁরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এখন তাঁরা ভালো আছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ‘সিডর’ বাড়ির কাজে মাকে সাহায্য করে। আর স্বামী মিজানুর রহমান এখন গভীর নলকূপ বসানোর ঠিকাদারি কাজ করছেন। দুই ছেলে সজীব, সিডর আর এক মেয়েকে নিয়ে ভালোই চলছে তাঁদের সংসার।###

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে অনেকেই সফলতা লাভ করেছেন ……ডিসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম

ঘূর্ণিঝড়ের রাতে জন্ম নেওয়া সেই সিডরের আজ জন্মদিন।

আপডেট টাইম ১২:১৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ মা মাহমুদা বেগম ও বাবা মিজানুর রহমানের সঙ্গে সিডর। গতকাল সোমবার উপজেলার উত্তর রানীপুর গ্রামে।‘প্রসববেদনা নিয়ে অন্ধকারে সারা রাত কলাগাছের পাতা ধরে স্রোতের পানিতে যুদ্ধ করে ভেসেছিলাম। বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় পরিবারের সবাই বেঁচে গেছি সেই রাতে। সূর্যোদয়ের কিছু আগে জন্ম হয় আমার সিডরের।’ ঘূর্ণিঝড় সিডরের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর রানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম। সেই ভয়াবহ রাতের শেষে তাঁর কোলজুড়ে যে সন্তানের জন্ম হয়েছিল, তার নামও রাখা হয় ‘সিডর’। মাহমুদা বেগম বলেন, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। ওই দিন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার জন্য যাওয়া হয়নি। রাত যতই গভীর হয়, ততই বাড়তে থাকে সুপার সাইক্লোন সিডরের তাণ্ডব আর পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে মাহমুদা বেগমের প্রসববেদনা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও পানির স্রোত মাহমুদা বেগমের ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমান, বড় ছেলে সজীবসহ বাড়ির কয়েক কয়েকটি কলাগাছ কেটে দড়ি দিয়ে বেঁধে সেগুলোর পাতা ধরে পানিতে ভেসেছিলেন। অন্ধকার রাত, চারদিকে শুধু পানি আর চিৎকার-চেঁচামেচি। সূর্যোদয়ের কিছু আগে মাহমুদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নেওয়া হয় বড় সড়কের পাশে একটি বাড়িতে। সেখানে কোনো চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই জন্ম নেয় ফুটফুটে এক শিশু। সুপার সাইক্লোনের সঙ্গে মিল রেখে শিশুটির নাম রাখা হয়েছিল ‘সিডর’।
১৫ নভেম্বর সেই সিডরের জন্মদিন। সে বর্তমানে মির্জাগঞ্জ উপজেলার চরখালী সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তার পুরো নাম রাশেদুল ইসলাম ওরফে সিডর। তবে এলাকায় সবাই তাকে ‘সিডর’ নামেই ডাকে।
মাহমুদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমান ছোট শিশুদের কাঠের খেলনা তৈরি করে বিক্রি করতেন। ঘূর্ণিঝড় সিডরের রাতে তাঁদের খেলনা তৈরির কারখানা ও উপকরণ এবং বাড়িঘর তছনছ হয়ে যায়। তাঁদের দুরবস্থা দেখে বেসরকারি সংস্থা মুসলিম এইড একটি ঘর তুলে দেয়। জমিজমা তেমন না থাকলেও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল লালন পালন করে আবার তাঁরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এখন তাঁরা ভালো আছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ‘সিডর’ বাড়ির কাজে মাকে সাহায্য করে। আর স্বামী মিজানুর রহমান এখন গভীর নলকূপ বসানোর ঠিকাদারি কাজ করছেন। দুই ছেলে সজীব, সিডর আর এক মেয়েকে নিয়ে ভালোই চলছে তাঁদের সংসার।###