শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন

কোটা বাতিল, না সংস্কার, আজ মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে সরকারি কমিটি যে সুপারিশ করেছে, তা আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে। কোটা পুরোপুরি বাতিল হবে, নাকি সংস্কার হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে আজকের সভায়। সরকারি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের কমিটি ৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেডে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) কোনো কোটা না রাখার সুপারিশ করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটি এসব পদে সরাসরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবশ্য বলছেন, কোটা একেবারে বাতিল হোক, সেটা তাঁরাও কখনো চাননি। তাঁরা চান কোটার যৌক্তিক সংস্কার করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি। আবার মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সংগঠন এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন তাদের বিদ্যমান কোটা বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, কোটা বিষয়ে সরকারি কমিটির প্রতিবেদনটিই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর সেখানে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

প্রথম শ্রেণির চাকরি শুরু হয় নবম গ্রেড দিয়ে। এর ওপরের পদগুলো সাধারণত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হয়। আর দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি ১০ম গ্রেড থেকে ১৩ তম গ্রেডের মধ্যে। ব্যতিক্রম ছাড়া শুরুর পদেই নিয়োগ হয় এবং সেখানেই কোটা নির্ধারণ হয়।

সরকারি সূত্রমতে, সরকারি কমিটি কোটা নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনা করে তাদের প্রতিবেদনটি তৈরি করে। ওই প্রতিবেদনে গত ১০টি বিসিএসের তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্য বিশ্লেষণে কমিটি দেখতে পায়, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, নারী কোটায় সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় ১ দশমিক ১৭ শতাংশ প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আর বিদ্যমান ৩০ শতাংশ কোটা সংস্কার বা বাতিল করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে মতামত চাওয়া হলে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমানো বা বাড়ানো রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। এ-সংক্রান্ত মামলার লিভ টু আপিলের রায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।

কমিটির প্রতিবেদনে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, পিএসসিও তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনগুলোয় মেধার ভিত্তিতে কোটাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে। বিভিন্ন কমিশন বা কমিটি কোটা সংস্কারে যেসব সুপারিশ করে তা-ও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। বিদ্যমান কোটা অনুযায়ী পদ পূরণের বিষয়টি যে জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, সেটিও উঠে আসে প্রতিবেদনে। আবার শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে নির্বাহী আদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি চালু করা হয়। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়। বাকি ৫৫ শতাংশ পদে নিয়োগ করা হয় অগ্রাধিকার কোটায়। অগ্রাধিকার কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা (পরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, এখন নাতিনাতনি) কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা এবং ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা। সর্বশেষ ২০১২ সালে বিদ্যমান অগ্রাধিকার কোটায় কাঙ্ক্ষিত যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই কোটা থেকে ১ শতাংশ পদ প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণের নিয়ম চালু হয়। এর বাইরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে পোষ্য, আনসার-ভিডিপিসহ আরও কিছু কোটা রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, কমিটির প্রতিবেদন জমার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে এই সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অনুমোদন দেন। সাধারণত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকায় বৈঠকটি আজ হবে।

সরকারি সূত্রমতে, কোটা বাতিল বা সংস্কারের প্রস্তাবের পাশাপাশি আজকের বৈঠকে স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮, কাস্টমস আইন-২০১৮ এবং জাতীয় পরিবেশনীতি-২০১৮-এর খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar