রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার ঔষধ মাদকে আসক্ত যুব সমাজ

মোঃ রাছেল রানা জেলা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে মাদক শুন্যের কোঠায় প্রায়। ফলে মাদক সেবীরা ঔষধকে ব্যবহার করছে মাদকের বিকল্প হিসেবে। বর্তমানে কুষ্টিয়ার যুব সমাজ ঔষধ মাদকে আসক্ত। একজন রোগী সমাজে ডাক্তার, ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডাইগোনেস্টিক, ফার্মেসী এই ৫টি যায়গায় জিম্মি । সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু ভালো পদক্ষেপ গ্রহন করেছে এদের বিরুদ্ধে। তারপরও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যুবক সমাজের কাছে চেতনানাশক, ব্যথা নাশক, ঠান্ডার ঔষুধ বিক্রয় বন্ধ হচ্ছে না। ফলে খুব সহজেই মাদক সেবীরা ঔষধকে ব্যবহার করছে মাদকের বিকল্প হিসেবে। প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে ঠান্ডা জনিত রোগের সিরাপ, ব্যাথানাশক ও ঘুমের ঔষুধ। এই ওষুধগুলোকে মিশ্রণের মাধ্যমে তৈরি করছে ভুলাদানা, ঝাটকা, ফুটুস নামক মাদক। নামিদামি কোম্পানীর কিছু অতি প্রয়োজনীয় ঔষুধ ব্যবহার করছে এসকল মাদক তৈরীতে, সিরামিন সিরাপ ইবনেসিনা কোম্পানী, স্কয়ার লাইজন এএমজি, সেডিল ২০ পিস ৫এমজি, ট্রাইপট্রিন ১০/২৫এমপি, ডরমিটল ৭.৫/১৫ এমজি, রেডিএন্ট কোম্পানীর এবং ল্যাগজুটেনিল ৩এমজি, অরিউন কোম্পানীর গোফাম ৩ এমজি, সেনডোজ কোম্পানীর এক্সিউনিল ৩এমজি, অপসোনিন কোম্পানীর ইজিয়াম ৫এমজি পেইস ২এমজি, ইনসেপটা কোম্পানীর হাইফনোফাস্ট ১৫এমজি, ডিসোপান ২এমজি, ক্লোসান ২এমজি, এসকেএফ কোম্পানীর মিলাম ১৫এমজি এই সব ওষুধের সাথে মেশানো হচ্ছে ব্যথানাশক ঔষধ এসকেএফ এর টাপেন্টা, স্কয়ারের পেন্টাডল কাশির সিরাপ ফেনারগান সহ কয়েকটি সিরাপ। বর্তমানে এমন একটা পরিস্থিতি দাড়িয়েছে, মাদক মানেই ঔষধ। এই সুযোগে কিছু অসাধু ফার্মেসী মালিকরা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অবাধে বিক্রয় করছে ঔষধ। কুষ্টিয়া কলেজ মোড় ,হাসপাতাল মোড় , অলিতে-গলিতে রাতারাতি গড়ে ওঠা ফার্মেসী সহ কুষ্টিয়ার পাশ্ববর্তী অঞ্চলে লাইসেন্সবিহীন এবং লাইসেন্সধারী ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে মাদক তৈরীতে ব্যবহৃত ঔষুধ। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তাপস কুমার সরকারের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ জাতীয় ঔষধ গুলো অধিক মাত্রায় সেবন করলে চোখ, কিডনি ও লিভারের সমস্যা হয় । এমন কি প্রান হারানোর সম্ভাবনা থাকে। তাই জেলা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, ঔষুধ প্রসাশন ,সিভিল সার্জন সহ সকল দপ্তরের কাছে সাধারন মানুষের আকুল আবেদন এসকল অসাধু ফার্মেসী মালিকদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে করে অন্য কোনো ফার্মেসী মালিক অধিক লাভের আসায় ব্যবস্থাপত্র ছাড়া উঠতি বয়সী তরুন-তরুনীর কাছে এসকল মাদক তৈরীতে ব্যবহৃত ঔষুধ বিক্রি না করে। নিউজ-০২ ১০৩টি সেতু নির্মাণকাজে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ : কুষ্টিয়ায় একদিনেই দরপত্র বিক্রি শেষ জানেন না অধিকাংশ ঠিকাদার মোঃ রাছেল রানা জেলা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় একদিনেই দরপত্র বিক্রি শেষ। জানেন না অধিকাংশ ঠিকাদার। এভাবেই কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় ১০৩টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণকাজের দরপত্র বিক্রি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এসব সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ঠিকাদার দরপত্রের বিষয়ে কিছুই জানতে পারেননি। আবার যাঁরা জেনেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে দরপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রভাবশালীদের কারণে দরপত্র কিনতে পারেননি। এ নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাধারণ ঠিকাদারেরা জানান, মাত্র এক দিন সময় দেওয়ায় অনেক ঠিকাদার দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। এ সুযোগে প্রভাবশালী একটি মহল দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করছে। কয়েকটি উপজেলায় দরপত্র কিনতেই পারেননি সাধারণ ঠিকাদারেরা। জানতে চাইলে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুস সবুর বলেন, ‘ঢাকা থেকে স্পেশাল মেসেজে (বিশেষ বার্তা) চিঠি পাঠাইছে। গত বৃহস্পতিবার দরপত্র বিক্রি শুরু এবং শেষ করতে হবে। আমরা নিজেরাও কিছু জানি না। প্রত্যেক উপজেলায় বরাদ্দের চিঠি চলে গেছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগে এ রকম কখনো হয়নি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে জেলার ছয়টি উপজেলায় গ্রামীণ রাস্তায় সর্বোচ্চ ১৫ মিটার দীর্ঘ ১০৩টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ আসে। বুধবার রাতে অধিদপ্তর থেকে চিঠি দেওয়া হয়। মাত্র এক দিনের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করতে বলা হয়েছে।এর মধ্যে সদরে ২০টি, মিরপুরে ২৬টি, ভেড়ামারায় ৬টি, খোকসায় ১৩টি, দৌলতপুরে ২০টি ও কুমারখালী উপজেলায় ১৮টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণত কমপক্ষে ১০ দিন আগে এ ধরনের চিঠি আসে। সময় দিয়ে এসব কাজ করতে হয়। না হলে নানা সমস্যা হয়। এক দিনের মধ্যে এত কিছু করা, এবারই প্রথম দেখলাম।’ মাত্র এক দিন সময় দেওয়ায় অনেক ঠিকাদার দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। এ সুযোগে প্রভাবশালী একটি মহল দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করছে । মিরপুর উপজেলার একজন ঠিকাদার বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। মিরপুরে সব দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রভাবশালী একটি মহল এ কাজ করছে। তাই কোনো সাধারণ ঠিকাদার দরপত্র কিনতে পারেননি। এ উপজেলায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ হবে। কাজ ভাগাভাগি করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। কুমারখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কুমারখালীতে যেসব ঠিকাদার এসেছেন, তাঁদের দরপত্র দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর উপজেলার একজন ঠিকাদার বলেন, এক দিন সময় দিয়ে কোনো দরপত্রের কার্যক্রম আগে হয়নি। এতে সাধারণ ঠিকাদারেরা বেকায়দায় পড়েছেন। কাজ নিয়ে চরম নয়ছয় হচ্ছে। ওই দিন দুপুরে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাফফারা তাসনীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শিডিউল বিক্রি হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে, এক দিনের মধ্যে কাগজপত্র রেডি করতে অনেক সময় লাগতেছে। উন্মুক্তভাবে ঠিকাদার যাঁরা কিনতে আসছেন, তাঁদের রিসিট দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। এ দিকে সাধারন অনেক ঠিকাদারই দরপত্র বিক্রয়ের বিষয়ে জানতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar