সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

কুয়াশা-অনাবৃষ্টি -শিলাবৃষ্টিতে ঝরে গেছে আমের গুটি

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় বাঘা ও চারঘাট উপজেলায়। গত রোববার এ দুই উপজেলাতেই ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে আমচাষিদের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে।

আম চাষীরা বলছেন, প্রথম দিকে যে লাভের আশা তারা করেছিলেন, এখন তার অর্ধেক ফলন হবে কিনা সন্দেহ।

গাছে যখন স্বর্ণালী মুকুল, তখন হঠাৎ কয়েকদিনের ঘন কুয়াশায় ক্ষতি হয় মুকুলের। চাষিদের পরিচর্যার মধ্য দিয়ে সবুজ পাতার ভেতর থেকে উঁকি দেয় আমের গুটি। ধীরে ধীরে তা কড়ালিতে পরিণত হলে বৃষ্টির প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে আমের করালি ঝরে পড়তে থাকে।

এর মধ্যেই ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে গাছের অর্ধেক আম ঝরে গেছে। কুয়াশা-অনাবৃষ্টি -শিলাবৃষ্টিতে ধুলিস্যাৎ হয়ে পড়েছে আমচাষীদের ভাগ্য।

সরেজমিনে ঘুরে বাগানে বাগানে চাষিদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির পর উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

গত সোমবার সকালে চারঘাট উপজেলার জোতকার্তিক গ্রামে বাগানে কীটনাশক স্প্রে করে ফিরছিলেন পলাশ কুমার প্রামানিক। তিনি জানালেন, ২৫ বিঘা জমিতে তাদের ৩০০টি আমগাছ আছে। প্রতিবছর সাত থেকে আট লাখ টাকার আম বিক্রি করেন। এবার কুয়াশা, অনাবৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির কারণে অর্ধেক আমেরও আশা করতে পারছেন না। পলাশ জানান, রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত একঘণ্টা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলার আঘাতে একেবারেই ফাঁকা হয়েছে আমগাছ। চারঘাটের মুংলি গ্রামের রাহাত জানালেন, তার দুটি বাগান আছে। বাগান তিনি দেখে এসেছেন। আমের কড়ালি অনেক ঝরে গেছে। আরেকটি বাগান ছেলেকে দেখতে পাঠিয়েছেন। শিংড়িকান্দি গ্রামে বাগানে ঔষধ স্প্রে করছিলেন কামরুল ইসলাম।

তিনি জানালেন, তার বাগানের ৬০টি আমগাছ আছে। সব গাছেরই ছোট ছোট আম ঝরেছে। এসব আম কুড়িয়ে আচারের জন্য বিক্রি করারও উপযোগী নয়। শিলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত আম থেকে যেন ভাল আমে কীটপতঙ্গের আক্রমণ না হয় তার জন্য তিন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।

বাঘার আড়পাড়া গ্রামের বড় আমচাষি আনোয়ার হোসেন পলাশ জানালেন, তার প্রায় এক হাজার আমগাছ আছে। এবার সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া, কুয়াশা আর শিলাবৃষ্টির কারণে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা করছেন তিনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আরও তিন-চারদিন পর ভালভাবে বোঝা যাবে। এই সময়ের মধ্যে শিলার আঘাত পাওয়া আমগুলো ঝরে পড়বে।

বাঘা-চারঘাটের প্রায় সব রাস্তার দুইপাশে আমবাগানের চাষিরা জানালেন, হঠাৎ করে একদিনে সব চাষি বাগানে স্প্রে করার কাজ শুরু করার কারণে এই কাজের সঙ্গে যে শ্রমিকেরা জড়িত তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিকের সংকটে চাষিরা নিজেরাই বাগানে স্প্রে করতে শুরু করেছেন।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ সুলতান বলেন, ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়নি। যেগুলো ঝরেছে, সেগুলো ঝরতোই। এখন আম একটু পাতলা হয়েছে। এগুলো আরও ভালভাবে বড় হবে। এগুলো আর ঝড়ে পড়বে না। উৎপাদন ঠিক থাকবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) উম্মে ছালমা বলেন, রাজশাহীর ৯ উপজেলার মধ্যে শুধু বাঘা-চারঘাটেই একটু শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে দু’একটা আম ঝরলেও খুব বেশি ক্ষতি হবে না। আমের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভাল।

রাজশাহীতে এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। এবার বাগান বেড়েছে ৩৭৩ হেক্টর জমিতে। এ বছর হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলায় এ বছর মোট দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলেও জানান জেলা কৃষি কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar