রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

কাঠবাদাম কেন খাবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক :   কাঠবাদামের রয়েছে অনেক উপকারিতা। ওজন কমাতে সাহায্য করে, শরীরের ফোলাভাব কমায় এটি। ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ভরপুর কাঠবাদাম রান্না করে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

এমনকি ডাক্তাররাও পরামর্শ দিয়ে থাকেন নিয়মিত কয়েকটি করে কাঠবাদাম খাওয়ার জন্য। কেন কাঠবাদাম, অন্য কোন বাদাম নয়? স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রশ্ন মনে উঁকি দিবে। প্রশ্নটির উত্তরে জেনে নিন কাঠবাদামের চমৎকার সকল স্বাস্থ্য উপকারিতা। অন্যান্য সকল বাদামের ভিড়ে যা এই বাদামকে করে তুলেছে অতুলনীয়।

ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বাড়ায় :  বাড়ন্ত শিশুদের বুদ্ধির বিকাশের জন্য কাঠবাদাম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। এই বাদামে থাকে মগজের জন্য প্রয়োজনীয় দুইটি পুষ্টিগুণ- রিবোফ্লাভিন ও এল-ক্যারনিটিন। এই উপাদান দুইটি মগজের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া বৃদ্ধদের আলঝেইমার হবার সম্ভবনাও কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে কাঠবাদাম অথবা আমন্ড অয়েল রাখার ফলে স্বাস্থ্য ভালো থাকার পাশাপাশি নার্ভাস সিস্টেমের উপরেও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে :  নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা কমে যায় ও ভালো কোলেস্টেরল (HDH) এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরে স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় থাকে ও উচ্চ কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা দূর হয়।

হাড় ও দাঁত ভালো রাখে :   কাঠবাদামে থাকে প্রচুর পরিমাণ স্বাস্থ্যকর ভিটামিন সমূহ, মিনারেল সমূহ ও ফসফরাস। হাড় ও দাঁতের সুসাস্থ্য ও স্থায়িত্বের ওপর ফসফরাসের প্রভাব রয়েছে অনেকখানি। বয়সজনিত হাড় ও দাঁতের সমস্যা তৈরি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেও ফসফরাস কার্যকরি।

ওজন কমাতে সাহায্য করে :   কাঠবাদাম ও মিষ্টিবিহীন আমন্ড মিল্ক ওজন কমানোর পদক্ষেপে সাহায্য করে। এই বাদামে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ক্ষুধাভাব কমিয়ে আনে। ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এছাড়া কাঠবাদামের আঁশ পেট ভরা ভাব তৈরি করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে যাদের ওজন বাড়া-কমার সমস্যা থাকে, নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

হৃদরোগের হার কমায় :   কাঠবাদামকে কার্যত হৃদপিন্ডের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে ধরা হয়। এই বাদামে থাকা মনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাসিয়াম হৃদপিন্ডকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। এতে থাকা ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ দেখা দেওয়ার সম্ভবনা কমিয়ে আনে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে :   পূর্বের পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে কাঠবাদাম থেকে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। কাঠবাদাম সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে শরীরের অ্যালকালাইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে। যার উপরে নির্ভর করে শরীরে অসুখ হওয়ার সম্ভবনা।

ত্বকের জন্য উপকারী : 

চর্ম বিশেষজ্ঞরা ত্বকের যত্নে আমন্ড অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণ হিসেব অনুযায়ী কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে ত্বকের উপকার হয় একদম ভেতর থেকেই। ফলে অল্প বয়সে বলীরেখা দেখা দেয় না এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় প্রাকৃতিকভাবে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে :   কাঠবাদামে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, সোডিয়ামের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপের ওঠানামাকে স্বাভাবিক রাখে।

ডায়বেটিস প্রতিরোধ করে :   প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে কাঠবাদাম। যার ফলে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোন খাবার খাওয়ার পর কাঠবাদাম খেলে রক্তে চিনির প্রভাব দেখা দেয় না। কাঠবাদাম গ্লুকোজের প্রক্রিয়া ও শোষণকে নিয়ন্ত্রিত করে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar