মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

কর নথিতে উবার-পাঠাওয়ের আয়

উবার, পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিং এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নাগরিক জীবনে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের নতুন উপায় হলো এই রাইড শেয়ারিং। অনেকেই এখন বাড়তি আয়ের জন্য নিজের গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল উবার-পাঠাওয়ে দিচ্ছেন। আপনি কি জানেন, উবার-পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিংয়ের আয় আপনাকে অবশ্যই আয়কর ফাইলে দেখাতে হবে? এটা বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আপনি যদি রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি দেন, তাহলে আপনার কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকতে হবে। আবার বছর শেষে রিটার্ন দেওয়াও আপনার জন্য বাধ্যতামূলক। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে এই নিয়ম করা হয়েছে। এর মানে হলো, এ বছর আপনি যে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, সেখানে উবার, পাঠাও কিংবা এমন রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি দিয়ে যে আয় করেছেন, সেই আয়ের হিসাব আয়কর রিটার্ন বা বিবরণীতে দিতে হবে।

১৭ ধরনের আয় বা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকলে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। চলতি অর্থবছরে রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি প্রদানকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ উবার-পাঠাওয়ের মতো সেবায় গাড়ি দিলে রিটার্ন দেওয়ার পাশাপাশি আয়ও দেখাতে হবে। উবার, পাঠাও ছাড়াও রাইড শেয়ারিংয়ের জন্য ও ভাই, ও বোন, সহজসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে।

অনেকেই এখন বাড়তি আয়ের জন্য নিজের গাড়িটি উবারের মতো সেবায় দেন। রাইড শেয়ারিং সেবাটিকে পার্টটাইম বা খণ্ডকালীন আয়ের পন্থা হিসেবে দেখা হলেও অনেকেই এখন পূর্ণকালীন আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেন। এ জন্য রেন্ট–এ–কার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে অনেকেই এভাবে আয় করেন। রেন্ট–এ–কার প্রতিষ্ঠানও চালক নিয়োগ দিয়ে এই রাইড শেয়ারিং সেবা দেয়। মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র পাওয়া যায়। অনেক তরুণ মোটরসাইকেল কিনে তা দিয়ে রাইড শেয়ারিং সেবায় নেমেছেন। বেকার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সেবার মাধ্যমে আয়ের উপায়টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা শহরে একজন মোটরসাইকেলে পূর্ণকালীন রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী পরিবহন করলে দৈনিক গড়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতে পারেন। অন্যদিকে গাড়ির ক্ষেত্রে আয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এভাবে আয় করলে গাড়ির মালিক অবশ্যই করের আওতায় পড়ে যান।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মিরপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহেল রানা। তিনি এক বছর ধরে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িটি উবারে নিবন্ধন করে রাইড শেয়ারিং সেবা দিচ্ছেন। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনবিআরের এই উদ্যোগ ভালো হলো না। এমনিতেই আয়ের ২৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। এর ওপর ভ্যাটরে খড়্গও আছে। কমিশন ও ভ্যাটের পর আমাদের হাতে খুব বেশি টাকা থাকে না। তাই আয়কর রিটার্নে এই আয় যুক্ত করা হলে কর বাবদও কিছু অর্থ চলে যাবে। সব মিলিয়ে আমাদের আয় আরও কমবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে পাঠাওয়ে ৪০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন আছে। পাঠাওয়ে অবশ্য গাড়ি সেবাও রয়েছে। আর উবারে গাড়ি আছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার। আছে মোটরসাইকেল সেবাও। অবশ্য অনেকে গাড়ি নিবন্ধন করলেও নিয়মিত রাইড শেয়ারিং সেবায় থাকেন না।

এবারের বাজেটে রাইড শেয়ারিং সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের ওপর উৎসে করও বসেছে। সেবার পরিমাণ বছরে ২৫ লাখ টাকার কম হলে ৩% হারে উৎসে কর দিতে হবে। আর ২৫ লাখ টাকার বেশি হলে দিতে হবে ৪ শতাংশ উৎসে কর। এ ছাড়া রাইড শেয়ারিং কর্তৃপক্ষ কমিশন বাবদ যে টাকা নেবে, এর ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট বসবে। কেননা, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আইন অনুযায়ী, যানবাহন চালকের সেবাকে ভ্যাটমুক্ত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে গাড়ি ব্যবহারকারীর খরচ বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত

Design & Developed BY ThemesBazar