>

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

টি-টোয়েন্টিতেও আসলো প্রত্যাশিত জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

করোনা ভাইরাসের সচেতনায় জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টির টিকিট বিক্রি কমিয়ে এনেছিল বিসিবি। কিন্তু গ্যালারিতে যে উপস্থিতি ছিল তাতে এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি এমন কিছুর। প্রিয় দলের খেলা দেখতে মিরপুর শের-ই-বাংলায় সন্ধ্যার আগেই ভরে গিয়েছিল। সময় গড়ানোর সাথে বাড়তে থাকে দর্শক।

স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেননি টাইগাররা। হেসেখেলে হারিয়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। টেস্টে, ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও এসেছে প্রত্যাশিত জয়।

ব্যাটিংয়ে হতাশ করেননি টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডে দলের দায়িত্ব পাওয়া তামিম, ইনফর্ম লিটন ও টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা সৌম্য ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। তাদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টির তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০০ রান তুলে বাংলাদেশ। এ রান জমা করতে হারায় মাত্র ৩ উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় ১৮৬ রানের বেশি করার রেকর্ড নেই জিম্বাবুয়ের। সেটাও করেছিল ১০ বছর আগে। এবার ২০১ রানের লক্ষ্যে অতিথিরা করতে পারল মাত্র ১৫২ রান। হেসেখেলে বাংলাদেশ জিতেছে ৪৮ রানে।

টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বড্ড বড় ভুল করে জিম্বাবুয়ে। একে তো ব্যাটসম্যানরা ফর্মে অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের বোলিং ছিল মুখস্ত। বড় রান আসবে তা প্রত্যাশিতই ছিল।

উদ্বোধনী জুটিতেই আসল ৯২ রান। টি-টোয়েন্টিতে তামিম পেলেন পুরোনো সঙ্গী লিটনকে। তাতে হাসল স্কোরবোর্ড। ৯২ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ডও গড়েন তারা। এর আগে ৭৪ রান তারাই করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। পাওয়ার প্লে’র সুবিধা আদায় করে ৫৯ রান জমা করে দুই ওপেনার। এরপর ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে যান দুজনই।

ছন্দময় এ জুটি ভাঙেন অভিষিক্ত মাধবেরে। ডানহাতি অফস্পিনারের হাওয়ায় ভাসানো বল উড়াতে গিয়ে কভারে ক্যাচ তোলেন ৪১ রান করা তামিম। দারুণ ক্যাচ নিয়ে দলকে সাফল্য দেন অধিনায়ক শন উইলিয়ামস।

তামিম হাফ সেঞ্চুরি না পেলেও লিটন তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এরপর সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন। ৩৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

দুই ছক্কা হাঁকিয়ে মুশফিক বড় কিছুর আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু ১৭ রানে তাকে ফিরতে হয় টাইমিংয়ে গড়বড় করে। ৮ বলে ২ ছক্কা। পরের গল্পটুকু সৌম্য সরকারের। দলে ফিরে ঝোড়ো ব্যাটিং উপহার দেন বাঁহাতি টপ অর্ডার।

৫ ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে নিয়ে যান চূঁড়ায়। শুরুটা কেন উইলিয়ামসনকে লং অন দিয়ে। পরেরটা টিরিপানোকে একই জায়গা দিয়ে। শেষ তিনটি মেরেছেন এমপোফুকে। তিনটি শেষ ওভারে। প্রথমটি লং অফ দিয়ে। পরের দুটি ডিপ মিড উইকেট দিয়ে।

শেষ ওভারে তার ঝড়ে এমফোপু খরচ করেন ২০ রান। চতুর্থ উইকেটে সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহর ২৫ বলের জুটিতে আসে ৫৪ রান। এতে মাহমুদউল্লাহর অবদান ১৪। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সৌম্য অপরাজিত থাকেন ৬২ রানে। ৩২ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ১৯৩.৭৫ স্ট্রাইক রেটে সাজান নিজের ইনিংস।

বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে পেয়েছে দলীয় রান। প্রথম হাফ সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৩২ বল। সেঞ্চুরি পেয়েছে ৪১ বলে। একশ’ থেকে দেড়শ’তে পৌঁছেছে পরবর্তী ২৫ বলে। পরের ২২ বলে বাংলাদেশ স্পর্শ করে ২০০।

শেষ ওভারে ২০ রান দিয়ে এমপোফু ছিলেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ৪ ওভারে ১ উইকেট নেন ৫৮ রান খরচ করে।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ২১৫। ২০১৮ সালে পেয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকায় করে ২১১ রান। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পেল তৃতীয় সর্বোচ্চ রান।

মাথার ওপর রানের বোঝা। জয়ের জন্য আকাশ ছোঁয়া লক্ষ্য ছুঁতে হবে। শুরুটা মন্দ ছিল না। মুস্তাফিজের প্রথম ওভারে ৯ রান পায় জিম্বাবুয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় ওভার থেকেই ইউটার্ন।

পুরো সফরে ব্যর্থ থাকা ব্রেন্ডন টেলর মাত্র ১ রানে আউট শফিউলের বলে। দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে মুস্তাফিজের শিকার আরভিন। আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামস আমিনুল ইসলামের লোপ্পা বল উড়াতে গিয়ে ক্যাচ দেন ২০ রানে। তিন সিনিয়র যেখানে ব্যর্থ সেখানে অনভিজ্ঞদের জন্য কাজটা ছিল কঠিন।

তবুও চেষ্টা চালায় কামুনহুকামওয়ে (২৮), মুম্বা (২৫), টিরিপানো (২০) ও মুতুমবামি (২০)। তাদের দৃঢ়তায় পরাজয়ের ব্যবধান কমে আসে।

বোলিংয়ে মাহেদী হাসান বাদে প্রত্যেকেই পেয়েছেন উইকেট। ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। লেগ স্পিনার আমিনুলের শিকার ৩৪ রানে ৩টি। এছাড়া শফিউল, সাইফউদ্দিন ও আফিফ পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।

ভালো ব্যাটিংয়ের পর ভালো বোলিং। সাথে দুর্দান্ত ফিল্ডিং। মাহমুদউল্লাহর দল মিরপুরে কাটিয়েছে দারুণ দিন। বিশ্বকাপে চোখ রেখে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। শুরুটা জয় দিয়েই হল টাইগারদের।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত
Design & Developed BY ThemesBazar