শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

করোনা:কয়রা ;আমাগো মতো মাইনষ্যের খোজ কেউ রাহে না,ঘরে বসে থাকলে খামু কি?

ওবায়দুল কবির(সম্রাট):কয়রা (খুলনা)প্রতিনিধি:
কাম না করলে খামু কী? ঘরে একবেলা খাবারের চাউল নাই। জমানো টাকা নাই। যাদের টাকা আছে, তারা চাউল, ডাউল কিইন্যা ঘরে আছে, আমার নাই।’ করোনা ভাই’রাসের পরিস্থিতিতে কেমন চলছে জীবন যাত্রা? জিজ্ঞেস করতেই বয়জ্যেষ্ঠ এক ভ্যানচালক বলেন এসব কথা।
করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নামও। এই মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।সারাদেশে সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের জনসমাগম নি’ষেধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠা ও কোচিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনা ভাই’রাস সংক্র’মন রোধে সচেতনতার জন্য মাস্ক ও জীবা’নুমুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে। জরুরি কোন কাজ ছাড়া আগামী ১৪দিন রাস্তাঘাটে মানুষকে না বেরোনোর জন্য বিশেষ ভাবে সর্তক করা হয়েছে। করোনা ভাই’রাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে  কয়রা উপজেলার জনজীবন।গত এক সপ্তাহ  থেকে কয়রা উপজেলার রাস্তাঘাটে যানবাহন, অটোরিক্সা, রিক্সা, ভ্যান ও মোটাসাইকেল চলাচল অনেকটা কমে গেছে। রাস্তাঘাটে অটোরিক্সা ও ভ্যান তেমন চোখে পড়ছেনা। আত’ঙ্কে নিম্নে আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা বিপাকে পড়েছেন। আয় রোজগারের কোন পথ না থাকায় পেটের দায়ে তারা ঘরে থাকতেও পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। ভাড়ার আসায় কয়রা উপজেলার সদরে তিন রাস্তার মোড়ে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলেন কয়েকজন ভ্যান  চালক।তাদের মধ্যে একজন বয়জ্যেষ্ঠ ভ্যান চালক আব্দুর সাত্তার বলেন, বাড়িতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন।আমি  একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।প্রতি দিন খাওয়া খরচ লাগে প্রায় ২শ টাকা। বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত ভ্যান কিনেছি ও সংসারে কাজে টাকা ব্যয় করেছেন। সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়।কিস্তি এই সপ্তাহ খানেক বন্ধ আছে।করোনার আগে  প্রতিদিন প্রায় ৫/৬শ টাকা ভাড়া পেতাম। গত কয়েকদিন  থেকে রাস্তায় বের না হওয়ার জন্য পুলিশ মাইকিং করছে। এজন্য ভ্যান নিয়ে বের হতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, অবস্থা খুব খারাপ। করোনার কারণে বাহিরে মানুষ তেমন বের হচ্ছেনা। কিন্তু ঘরে বসে থাকলে তো আর পেট চলবে না।করোনায় চেয়ে ভয়ংকার পেটের ক্ষুদা।সরকারী ভাবে  চাউল দিচ্ছে শুনেছি সরকার আমি এখনও পাইনি।যারা চেয়ারম্যান, চেম্বর,নেতাগো সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখে তারাই পাইতাছে। আমাগো মতো মাইনষের খবর কেউ রাহে না। তাই বাধ্য হয়ে ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছি। যা একটু জমিয়েছিলাম ঘরে বসে থেকে শেষ হওয়ার উপক্রম। এছাড়া ভয়ে বাহিরে বেরুতে পারিনি। পুলিশ পিটালে- পিটুনি খাওয়া যাবে। কিন্তু ভ্যান ভে’ঙে দিলে তো সহজে কিনতে পারবো না। এই ভয়ে ভ্যান বের করিনি।উপজেলার কয়রা সদরের  ভ্যান চালক কওছার গাজী বলেন,তিনি বলেন, করোনা না কি ভাইরাস এসেছে। এরপর থেকে রাস্তায় তেমন যাত্রী পাচ্ছি না। খালি রিকশা নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ালেও কোন যাত্রীর দেখা পাচ্ছি না। দিনশেষে দু’বেলা ভাত জোটাতেও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ত্রান দিলেও আমরা পাচ্ছি না চেয়ারম্যান মেম্বররা তাদের পছন্দের মানসের দিচ্ছে।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় করে না আপনার? জানতে চাইলে আরেক ভ্যান চালক বিল্লাল  জানান, সবচেয়ে বড় ভয় তো ক্ষুধার। আমার তো আর ভয়ে ঘরে বসে থাকলে বেতন আসবে না। তাই যতই ভাইরাস আসুক মরার আগে পর্যন্ত তো আর না খেয়ে থাকতে পারবো না। কাজ না করলে খাবো কি। এখন আল্লাহই বাঁচা মারার মালিক। প্রশাসন তো খাবার দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কই আমি তো জানি না শুধু বাইরে না বেরতে মাইকিং করছে, আমাদের কেউ কোন খোজ নেয়নি। আমরা তো নেতা, চেয়ারম্যান, মেম্বারগো পাশে গিয়ে ধন্যা দিতে পারি না। বিশ্বব্যপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সব থেকে বিপদে পড়েছেন ক্ষুদ্র আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের তো আর বাইরে বের না হলে খাবার জোটে না। তাই বর্তমানে সবচেয়ে কষ্টের মধ্যে আছেন এই সব খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
পাশাপাশি করোনা আতঙ্কে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ায় আরো সংকটে পড়েছেন তারা। আবার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তাদেরই বেশি। কারণ তারা চাইলেও বিভিন্ন কারণে নিতে পারছেন না যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। না পারছেন পরিষ্কার থাকতে। না পারছেন কাজ বাদ দিয়ে বাসায় বসে নিরাপদে থাকতে।
উপজেলা ঘুরে দেখা যায় ভাইরা’সের কারণে আগের তুলনায়  রাস্তাঘাটে গাড়িঘোড়া কম চলছে। মানুষের আনাগোনাও কম। করোনা আত’ঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাই আত’ঙ্কিত না হয়ে আগামী দুই সপ্তাহ ঘরে সময় কাটানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার সচেতন করা হচ্ছে।
নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত
Design & Developed BY ThemesBazar