শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

ঐতিহাসিক যেসব ঘটনার বর্ণনা আসবে আজকের তারাবিহতে

মাতৃভূুমির খবর ডেক্স : আল্লাহর কাছে গোনাহ মাফের দশক বয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা থেকেই মাগফেরাতের সপ্তম দিন শুরু হবে। সে হিসেবে আজ সন্ধ্যা ১৭তম তারাবিহ অনুষ্ঠিত হবে। তেলাওয়াত করা হবে ২০তম পারা।

হাফেজে কুরআনদের তেলাওয়াতে ওঠে আসবে নবি-রাসুলদের রেসালাতের সেসব প্রমাণ যা মানুষের বিবেক বুদ্ধিকে অপারগ করে দিয়েছে। মুমিনগণ সেসব তেলাওয়াত শুনে নিজেদের ঈমানকে শানিত করবে। আল্লাহর প্রশংসায় লুটিয়ে পড়বে মুমিন।

আজকের তারাবিহতে সুরা নমলের বাকি অংশসহ (৬০-৯৩) সুরা কাসাস ও সুরা আন-কাবুতের ৪৪নং আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। এ তেলাওয়াতে ইসলামের দাওয়াত পৌছানোর রীতি ও আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্য ওঠে এসেছে।

পিঁপড়া আল্লাহর অনেক ছোট সৃষ্টি। পিঁপড়াকে আল্লাহ তাআলা মানুষের জ্ঞান অন্বেষণ ও অনুধাবনের বস্তু হিসেবে তৈরি করেছেন। পিঁপড়া থেকে জ্ঞান তথা বুদ্ধিমত্তা শেখার বিষয়টিও ওঠে এসেছে।

আবার সুরা নমলে মৃত ব্যক্তিদের শ্রবণ শক্তির বিষয়টি ওঠে এসেছে। যা মানুষের ঈমানকে বহুগুণে বৃদ্ধি করতে সহায়ক। পরকালের প্রতি গভীর বিশ্বাস অর্জন এবং আল্লাহর কুদরত ও নিদর্শনসমূহ মানুষকে তাওহিদ ও রেসালাতের প্রতি একনিষ্ঠ হতে শেখায়।

সুরা নমল
সুরা নমল মক্কায় অবতীর্ণ। ‘নমল’ দ্বারা আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়া বুঝিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা এ সুরায় পিপীলিকার কথা বর্ণনা করেছেন। তাই এ সুরার নাম দিয়েছেন নমল।

পিঁপড়ার এ ঘটনা হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের নবুয়তের প্রমাণ বহন করে, যা বিশ্বনবির নবুয়তের প্রমাণেও গুরুত্ব সর্বাধিক। সুরা নমল-এ তাওহিদ ও নবুয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা এ সুরায় তাওহিদের প্রমাণের পাশাপাশি, অসহায়দের দোয়া কবুল ও মৃতব্যক্তিদের শ্রবণ সম্পর্কিত আলোচনা তুলে ধরেছেন। রাণী বিলকিসের ঈমান গ্রহণ সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে এ সুরায়।

সুরা কাসাস
মক্কায় অবতীর্ণ সুরাসমূহের মধ্যে সর্বশেষ নাজিল হয় সুরা কাসাস। হিজরতের সময় মক্কা এবং জুহফা নামক স্থানের মধ্যবর্তী স্থান রাবেগ-এ সুরাটি নাজিল হয়।

বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, হিজরতের সময় বিশ্বনবি যখন জুহফা অর্থাৎ রাবেগ অঞ্চলে এসে পৌছেন, তখন জিবরিল আলাইহিস সালাম এসে তাঁকে বলেন-

‘হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার কি মাতৃভূমির কথা মনে পড়ে? তিনি উত্তরে বলেন, ‘হ্যাঁ’, মনে পড়ে। অতঃপর জিবরিল আলাইহিস সালাম তাকে এ সুরাটি শুনান।’ এ সুরার শেষদিকে মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করা হয়।

মক্কা বিজয়ের মধ্য দিয়েই ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় সাধিত হয়। কেননা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের ১০ বছর আগে রাতের অন্ধকারে আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে হিজরত করেছিলেন। তাই ইসলাম ও মুসলমানের জন্য মক্কা বিজয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি।

এছাড়াও সুরা কাসাসে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের জীবনের সবদিক নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনার পাশাপাশি কারুনের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।

আগের ‘সুরা নমল’-এ রাণী বিলকিসের আলোচনা হয়েছে, আর সুরা কাসাস-এ ফেরাউনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের মুজিজা দেখে রাণী বিলকিস আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেন কিন্তু ফেরাউন হজরত মুসা আলাইসিস সালামের মুজিজা দেখেও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেননি। অথচ রাণী বিলকিসের সম্রাজ্যের চেয়ে ফেরাউনের সম্রাজ্য ছিল অনেক ছোট।

একটি বিষয় সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার যে, হেদায়েত এবং পথভ্রষ্টতার সিদ্ধান্ত আল্লাহ তাআলা হাতে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন আর যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন। যার জলন্ত প্রমাণ রাণী বিলকিসের ইসলাম গ্রহণ এবং ফেরাউনের অস্বীকৃতি।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-

>> হজরত মুসা আলাইহিস সালামের লাঠির বিবরণ;
>> হজরত মুসা আলাইহিস সালামের নবুয়ত লাভ;
>> বিশ্বনবির নবুয়তের প্রমাণ পেশ;
>> দাওয়াত ও তাবলীগের কতিপয় নীতি;
>> এক বস্তুর ওপর অপর বস্তু, এক ব্যক্তির ওপর অপর ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব দানের মাপকাঠি প্রসঙ্গ;
>> কারুনের প্রোথিত সম্পদের বিবরণ;
>> গোনাহের সংকল্পও গোনাহ;
>> কুরআন শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় ও উদ্দেশ্য হাসিলের ওপায়।

সুরা আনকাবুত
সুরা আনকাবুত মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এটি মুশরিকদের প্রতি ছিল এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মাকড়শার দৃষ্টান্ত দিয়ে শিরকের বাতুলতা প্রকাশ করেছেন।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-

>> অন্যায় কাজে প্রতি আহ্বান করাও মারাত্মক অপরাধ;
>> কাফেরদের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী;
>> আল্লাহর অসীম রহমতের বিবরণ;
>> পৃথিবীর প্রথম হিজরত প্রসঙ্গ;
>> হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি বিশেষ নিয়ামাত;
>> আল্লাহর নিকট প্রকৃত জ্ঞানী।

সুতরাং তারাবিহতে অংশগ্রহণের আগে সব মুসল্লিদের উচিত কুরআনুল কারিমের ২০তম পারার বিষয়গুলো দেখে নেয়া, তাফসির পড়া কিংবা তেলওয়াত করে নেয়া। তবেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেবে রমজানের রাতের (তারাবিহ) নামাজ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন





সর্বস্বত্ব © ২০১৯ মাতৃভূমির খবর কর্তৃক সংরক্ষিত
Design & Developed BY ThemesBazar